ষষ্ঠ অধ্যায়: জীবে পরিবহন
চিত্রটি লক্ষ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. ইমবাইবিশন কাকে বলে?
খ. ঘরে তাজা ফুল রাখলে এর গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে যায় কেন?
গ. চিত্র X-এর প্রক্রিয়াটিকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্ভিদের তিনটি বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে চিত্র X-এর প্রক্রিয়াটি ঘটে, বিশ্লেষণ করো।
১ নম্বর প্রশ্নের (ক)-এর উত্তর
ইমবাইবিশন হলো কলয়েড জাতীয় শুষ্ক বা আংশিক শুষ্ক জাতীয় পদার্থ কর্তৃক তরল শুষে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
১ নম্বর প্রশ্নের (খ)-এর উত্তর
ঘরে তাজা ফুল রাখলে মূলত ব্যাপনের কারণে এর গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে যায়। যে প্রক্রিয়ায় দ্রব্যের অণুসমূহ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হয়, তাকে ব্যাপন বলে। ঘরে তাজা ফুল রাখলে সেই ফুলের গন্ধ ঘরের চারদিকে তথা নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে ক্রমশ ব্যাপিত হয় এবং এর সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
১ নম্বর প্রশ্নের (গ) এর উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র X-এর মাধ্যমে প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়েছে, যাকে বিজ্ঞানী কার্টিস ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রস্বেদন উদ্ভিদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যার উপকারী ও অপকারী উভয় ধরনের ভূমিকাই রয়েছে। এ কারণেই মূলত প্রস্বেদনকে বলা হয় ‘প্রয়োজনীয় অমঙ্গল’।
প্রস্বেদনের উপকারী দিক:
১। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের নানা বিপাকীয় কার্যাবলিতে ভূমিকা পালন করে।
২। প্রস্বেদনের কারণেই জাইলেমবাহিকায় টান পড়ে যার কারণে মূলজ চাপের সৃষ্টি হয়।
৩। এ প্রক্রিয়ার কল্যাণেই পাতার মেসোফিল টিস্যুতে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যা মূলরোম কর্তৃক পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণে সাহায্য করে।
৪। উক্ত প্রক্রিয়া উদ্ভিদদেহে তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখে।
প্রস্বেদনের অপকারী দিক:
১। উদ্ভিদের পানি ও খনিজ লবণ পরিশোধনে ঘাটতি হলেও প্রস্বেদন অব্যাহত থাকে যার ফলে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায় ও উদ্ভিদের দেহে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়।
২। শীতকালে মাটি শুষ্ক থাকার কারণে পানি শোষণ সেই পরিমাণে না হলেও উদ্ভিদের দেহ থেকে অধিক পরিমাণে অপসারিত হয় পানি। যার ফলে উদ্ভিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
মূলত বৈশিষ্ট্যের এরূপ বৈপরীত্যের কারণেই বিজ্ঞানী ‘কার্টিস’ প্রস্বেদনকে Necessary Evil বলে অভিহিত করেছেন।
১ নম্বর প্রশ্নের (ঘ) এর উত্তর
উদ্ভদে X প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন যা উদ্ভিদের পত্ররন্ধ, কিউটিকল ও লেন্টিসেলের মতো তিনটি বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
যে শারীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার দেহের অতিরিক্ত পানি তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পরিবেশে উন্মুক্ত করে, তাকে প্রস্বেদন (Transpiration) বলে। উদ্ভিদ তার তিনটি বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন সম্পন্ন করে, যা নিচে আলোচনা করা হলো-
১। পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal Transpiration)
উদ্ভিদ তার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় উদ্বৃত্ত পানি বাষ্পাকারে নির্গত করে, তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে। পাতা, ফুলের বৃতি ও পাপড়ি দুই ধরনের রক্ষীকোষ (Guard cell) দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এদের পত্ররন্ধ্র বলে। উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের পরিমাণ ৯০-৯৫%। তাই পাতাকেই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন কেন্দ্র বলা হয়।
২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular Transpiration): উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার ওপরে নিম্নপৃষ্ঠে এক ধরনের পাতলা আবরণ থাকে যাকে বলা হয় কিউটিকল। এই কিউটিকল ভেদ করে উদ্ভিদের কিছু পানি বাহ্যিক পরিবেশে নিষ্কাশিত হয়।
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular Transpiration)
উদ্ভিদের গৌন বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদের কাণ্ডের বাকল ফেটে গিয়ে অর্থাৎ কর্ক টিস্যুর স্থানে স্থানে ফেটে গিয়ে লেন্টিস নামক ছিদ্রের সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমেও উদ্ভিদের প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, কালের বিবর্তনে প্রস্বেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীর তত্ত্বীয় প্রক্রিয়া, যা উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য এবং উদ্ভিদ উক্ত তিনটি বায়বীয় অঙ্গের সাহায্যে তার অত্যাবশ্যকীয় এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
জাহ্নবী