উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে ভারতে ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসে উত্তরপ্রদেশের অম্বেদকর নগর জেলায়। সম্প্রতি এ ঘটনার সিসি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা জানা যায়।
এরপর থেকে নারীর প্রতি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। নারী অধিকার সংগঠনের কর্মীরা বলেছেন, এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ঘটনায় পুলিশ তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর বিবিসির।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলের পোশাকে দুজন মেয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দুজন লোক তাদের ওভারটেক করে একজনের ওড়না টান দেয়। এ সময় মেয়েটি ভারসাম্য হারিয়ে সাইকেল থেকে পড়ে যায়। পেছন থেকে আসা দ্বিতীয় মোটরসাইকেলের সঙ্গে আগেরটির সংঘর্ষ হয়। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য আরেকটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মেয়েটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
মেয়েটির বাবা সভজিৎ বর্মা জানান, সিসি ক্যামেরায় দেখা যাওয়া অপর মেয়ের (তার ভাতিজি) ফোন পেয়ে সে দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। এরপর মেয়েকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
সভজিতের স্ত্রী আট বছর আগে মারা গেছেন। তার বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ছোট মেয়ের সঙ্গে তিনি থাকতেন। সে পড়াশোনায় ভালো ছিল এবং ডাক্তার হতে চেয়েছিল। ঘটনার দুই দিন আগে মেয়েটি তাকে বলেছিল কিছু ছেলে তাকে ও অন্য মেয়েদের স্কুলের বাইরে উত্ত্যক্ত করছে। বিষয়টি তারা পুলিশকেও জানিয়েছিল।
সভজিৎ বলেন, আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। তিনি আরো বলেন, রাজ্যের একজন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা তাকে দেখতে যান। কিন্তু তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।
এ ঘটনায় পুলিশ তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। চতুর্থ ব্যক্তির সন্ধান চলছে। পুলিশ বলেছে, সন্দেহভাজনদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এদিকে গ্রেপ্তারদের পরিবার বলছে, তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালিয়ে ‘ভুয়া অভিযান নাটক মঞ্চস্থ’ করেছে।