ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ রস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস

গাজায় অবরোধে ৩ লাখ শিশু মৃত্যুর মুখে

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫, ১১:৪৩ এএম
গাজায় অবরোধে ৩ লাখ শিশু মৃত্যুর মুখে
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা খান ইউনিসের আল মাওয়াসি এলাকায় খাবার নিতে জড়ো হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের অবরোধের ফলে জরুরি শিশুখাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে শিশুরা চরম অপুষ্টিহীনতায় ভুগছে। রুগণ ও হাড্ডিসার ৭০ হাজারের বেশি শিশুকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলের এমন পদ্ধতিগত অবরোধের ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু আসন্ন এবং প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার শিশু মৃত্যুর কিনারে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১১ লাখ শিশু বেঁচে থাকার জন্য দৈনিক ন্যূনতম যে পরিমাণ পুষ্টি উপাদান দরকার তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজা সরকারের গণমাধ্যম অফিস এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে এ অপরাধ ইসরায়েলের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, অথচ পুরো বিশ্ব লজ্জাজনকভাবে চুপ করে আছে।

গত মার্চের শুরুতে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর আগে জানুয়ারি শেষে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে তিন দফা যুদ্ধবিরতির প্রধম দফা কার্যকর হয় এবং এর আওতায় গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেয় ইসরায়েল। দ্বিতীয় দফায় মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি সব ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল এবং এর বিপরীতে গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ইসরায়েল। কিন্তু বন্দিদের ফেরত না নিয়ে পুনরায় গাজায় হামলা শুরু করে এবং জরুরি ওষুধ ও শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে ইসরায়েল। এর ফলে গাজায় মানবিকসংকট এখন চরমে পৌঁছেছে।

গাজায় শিশু হত্যার জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী: অক্সফাম

মানবিক সহায়তা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে শিশু হত্যা করার জন্য পুরো বিশ্বকে দায়ী করেছেন গাজায় নিযুক্ত অক্সফামের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান মাহমুদ আলাসাক। তিনি বলেন, গাজায় একটি দুর্ভিক্ষ চলছে অথচ বিশ্ব কিছুই করছে না।

তিনি বলেন, গাজায় এখন কোনো প্রকার শর্ত ও বাধা ছাড়াই জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া অনিবার্য। এই মুহূর্তে ত্রাণ প্রবেশ করতে না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, মিসর ও জর্ডানে ত্রাণ নিয়ে শত শত ট্রাক অপেক্ষা করছে কিন্তু প্রবেশ করতে পারছে না।

আলাসাক বলেন, আমরা আগেই বারবার সতর্ক করেছিলাম আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে। কিন্তু বিশ্ব কর্ণপাত করেনি বরং পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবরোধকে সমর্থন করেছে। ফলে নারী, শিশু, আহত ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের অবস্থা শোচনীয়। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে এখন দুটি বিকল্প আছে। গাজার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি বসে বসে দেখা, না হয় পদক্ষেপ নেওয়া।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ১২৫ জন আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুনরায় হামলা শুরু করলে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩৬ জন প্রাণ হারান ও ৬ হাজার ৪৫০ জন আহত হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৫৩৫ জন নিহত ও ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

বাস্ত্যুচ্যুত ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা খান ইউনিসের আল মাওয়াসি এলাকায় খাবার পাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন। 

সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বাংলাদেশসহ ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ৩০টিরও বেশি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। কয়েক দিনব্যাপী এই চিরবিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার ডন নিউজ, প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজসহ একাধিক ইরানি সংবাদসংস্থা এ কথা জানিয়েছে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, খামেনির জানাজাকে সামনে রেখে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের সীমান্তজুড়ে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়িয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির আকাশসীমার ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি রাখছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির চিরবিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাতে আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রয়াত নেতার বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

শেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং প্রতিবেশী ইরাকে অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশে প্রাদেশিক সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন শেষে নাজাফ ও কারবালার পবিত্র শহরে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এর পরদিন ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করার কথা রয়েছে।

ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি ৮৬ বছর বয়সে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসী যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হন। 
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমও খামেনির জানাজায় অংশ নিতে গতকাল সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হন।

ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের
ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের নিয়মিত আয়ের একমাত্র উৎস ছিল মাসে ১১৩ ডলারের সেনা পেনশন। পরে তিনি লিখেছিলেন, প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদা ও মর্যাদাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কয়েক দশক পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে নিজের বিনিয়োগ ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্টে’ দিয়েছিলেন, যেন দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের প্রশ্ন না ওঠে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারা থেকে একেবারেই ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ইতিহাসবিদদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে এমন নজির আগে দেখা যায়নি। এটি প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার দীর্ঘদিনের রীতিকেও ভেঙে দিয়েছে।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার সেন্টারের প্রেসিডেন্ট বিষয়ক ইতিহাসবিদ বারবারা পেরি বলেন, ‘এমন কোনো নজির নেই। প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে আমরা এর মতো কিছু কখনো দেখিনি।’ 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি। শুধু এই খাত থেকেই তিনি প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে ‘ডলার চিহ্ন খচিত ট্রাম্প’ মিম কয়েনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেলিব্রেশন কয়েনস থেকে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন। এ ছাড়া তার দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের সহপ্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবসা থেকে ৫০ কোটির বেশি ডলার আয় দেখিয়েছেন।

ট্রাম্পের ২০২৫ সালের এই আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ। ২০২৪ সালে তিনি ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় দেখিয়েছিলেন।

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টো ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাম্পের ফ্লোরিডার দুটি বিলাসবহুল রিসোর্ট মার-আ-লাগো ও ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরালও রেকর্ড আয় করেছে। মার-আ-লাগো থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি। আর ডোরাল থেকে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

পুনর্নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মার-আ-লাগোর সদস্যপদের ফি ১০ লাখ ডলারে উন্নীত করেন। গত বছরের শুরু থেকে তিনি সেখানে দুই ডজনের বেশিবার গেছেন। রিসোর্টটিতে বিদেশি অতিথিদের সংবর্ধনা, রিপাবলিকান পার্টির তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক আয়োজন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রেসিডেন্টের কাছে বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস গ্রান্টের আমলে সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতির অভিযোগে জড়িয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিংয়ের সময় ঘটে টিপট ডোম কেলেঙ্কারি। তবে এসব ঘটনায় প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বে থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ ওঠেনি।

আধুনিক সময়েও কয়েকজন প্রেসিডেন্টের স্বজনদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। জিমি কার্টারের ভাই একটি বিয়ার ব্র্যান্ডের প্রচার করেছিলেন। জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের একটি জ্বালানি কোম্পানি থেকে অর্থ আয় করেছিলেন। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এসব ঘটনার সঙ্গে ট্রাম্প ও তার পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান আয়ের তুলনা চলে না।

বারবারা পেরি বলেন, ‘দায়িত্বে থেকে বিপুল অর্থ আয় করা আইনবিরোধী না হলেও এটি নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। অতীতের বেশির ভাগ প্রেসিডেন্ট এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চেয়েছেন।’

প্রথম মেয়াদের আগে ট্রাম্প তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ দুই ছেলের হাতে দিলেও অন্য প্রেসিডেন্টদের মতো সম্পদ ব্লাইন্ড ট্রাস্টে দেননি। দ্বিতীয় মেয়াদের আগেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বলেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে যুক্ত নন।

তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বে ফিরে ট্রাম্প এমন কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার ব্যবসার জন্য লাভজনক হয়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তিনি স্টেবলকয়েন-সমর্থিত একটি আইনে সই করেন। পরে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমাও করেন। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ তার ক্রিপ্টো ব্যবসার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সাবেক প্রধান হোয়াইট হাউস নৈতিকতা আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বিবিসিকে বলেন, ‘অবশ্যই এটি স্বার্থের সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, তাদের প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে থেকে এত বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন।’

অন্যদিকে গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি লাভ করছি কেন জানেন? কারণ শেয়ারবাজার বাড়ছে। সবাই লাভ বাড়ছে।’ তিনি দাবি করেন, তার অর্থ বিভিন্ন তহবিল পরিচালনা করে এবং পরিবারের ব্যবসার দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে তিনি জড়িত নন। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল
আদালতের কাজে AI ব্যবহারে নিষেধ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ও অস্তিত্বহীন বিচারিক নজির উদ্ধৃত করে দেওয়া একটি রায়ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। 

গতকাল বৃহস্পতিবার এসেল ইনফ্রাপ্রজেক্টস-এর দেউলিয়াত্ব সংক্রান্ত ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইবুনালের (এনসিএলটি) একটি রায় বাতিল করার সময় শীর্ষ আদালত এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

অভিযোগ রয়েছে একটি মামলায় এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো কিছু দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে রায় দিয়েছে এনসিএলটি। এ বিষয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে, জানিয়ে দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণে  বলা হয়, এ মামলায় এমন কিছু নজিরের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে অস্তিত্বই নেই এবং এআই-সৃষ্ট ‘হ্যালুসিনেশন’-এর ফল। এ কারণে আদালত এনসিএলটির রায় বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। 

গুরুত্বপূর্ণ এ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মানুষের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আইনজীবী ও বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা ও স্বাধীন বিচারবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, ‘এআইয়ের এ ভুয়া, অস্তিত্বহীন ও কল্পিত তথ্য তৈরি হওয়া এবং সেগুলোকে আইনি নজির হিসেবে ব্যবহার করা যা আইন ও বিচারব্যবস্থার ভেতরে মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার মতো। এটি অদৃশ্য, ধূর্ত ও ভয়াবহ। বিষয়টি ধরা পড়ার আগেই এটি শুধু বিচারব্যবস্থাকে দূষিতই করে না, বরং বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেয়।’

এই  পর্যবেক্ষণে আরও জোর দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এআই বিচারিক কাজে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই তা মানুষের স্বাধীন বিচার-বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প হতে পারে না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্য ও নজির মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। সূত্র: এনডিটিভি 

দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ কারিগরি বৈঠক শেষ হয়েছে স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই। তবে দুই পক্ষ অন্তর্বর্তী চুক্তিতে আগে সমাধান হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকের পাশাপাশি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বৈঠকে অংশ নেননি।

গারিবাবাদি জানান, বৈঠকে দুটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি যোগাযোগ চ্যানেল গঠনে সম্মত হয় দুই পক্ষ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে ইরানের জব্দ থাকা ৬০০ কোটি ডলার তহবিল ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দকৃত অর্থ এবং লেবানন ইস্যুও আলোচ্যসূচিতে ছিল।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ দাবি করেছেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে বোমাবর্ষণের শিকার ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার নেই। তার ভাষ্য, বর্তমানে সংস্থাটি শুধু বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেহরান গবেষণা চুল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে। এ বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন পাস করেছে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংস্থার পরিদর্শকদের ওই পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ থাকতে হবে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহার বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন শেষে যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। আগামী শনিবার থেকে ইরান ও ইরাকে আলি খামেনির ছয় দিনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যোগ দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আজ শুক্রবার তেহরানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এরনান গিল। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে ৮ দিন ধরে আটকে থাকার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

দেশটির জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এরনান গিল নামের ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করার ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পর চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছেন। ভবনের ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভেনেজুয়েলায় এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বলেছিলেন, ‌‌‘‘এটি আমার মোকাবিলা করা সবচেয়ে জটিল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার অভিযান। এটা নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই।

গত ২৪ জুনের ওই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

এছাড়া স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে  আরও হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে গিলের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে তাকে উদ্ধারে শত শত উদ্ধারকর্মী দিনরাত এক করে কাজ করছিলেন। তাকে উদ্ধারের এই অভিযানে ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল একসঙ্গে কাজ করেছে।

গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের তৈরি করা সুড়ঙ্গের কিছু অংশ কয়েকবার ধসে পড়েছিল; যা তার পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের জন্যও কাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলোর সদস্যরা অবশেষে বুধবার রাতে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।

গিল যেখানে আটকে ছিলেন, সেখানে প্রবেশ করানো একটি ছোট ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে চিলির এক অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে গিলের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, তিনি যেন তার মাথা ক্যামেরার দিকে ঘোরান। এ সময় তার একটি চোখ রক্তবর্ণ (লাল) এবং মুখে একটি মাস্ক পরা ছিল। উদ্ধারকাজে তৈরি হওয়া ধুলাবালি ও ধ্বংসাবশেষ থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা এর আগে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ওই মাস্ক তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

উদ্ধারকারীরা চারপাশের ধ্বংসস্তূপ সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সময় চোখের সুরক্ষার জন্য অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে তাকে একটি চশমাও (গগলস) পরে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কোস্টারিকান রেড ক্রসের সদস্য রিকার্দো আরিয়াস স্থানীয় সাংবাদিক জোয়ান কামারগোকে বলেছেন, গিলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তারা গিলকে পানি দিতে পেরেছেন এবং একটি ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ লাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

আরিয়াস বলেন, শপিং সেন্টারটি ধসে পড়ার সময় গিল অলৌকিকভাবে চাপা পড়া থেকে বেঁচে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গিল আমাদের বলেছেন, তার নখের ওপরও কোনও চাপ লাগেনি। তিনি ভালো আছেন।

জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় ভেনেজুয়েলার কাতিয়া লা মারের ‘গ্যালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে মল’ সংলগ্ন পার্কিং লটের বেসমেন্টে একটি ছোট কংক্রিটের বুথে দায়িত্বরত ছিলেন গিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছোট বুথটি তার চারপাশে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করেছিল; যা তাকে চারপাশ থেকে ধসে পড়া ১৪০ টন ওজনের ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সূত্র: বিবিসি।

এএফ/