ইসরায়েলের অবরোধের ফলে জরুরি শিশুখাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে শিশুরা চরম অপুষ্টিহীনতায় ভুগছে। রুগণ ও হাড্ডিসার ৭০ হাজারের বেশি শিশুকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলের এমন পদ্ধতিগত অবরোধের ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু আসন্ন এবং প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার শিশু মৃত্যুর কিনারে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১১ লাখ শিশু বেঁচে থাকার জন্য দৈনিক ন্যূনতম যে পরিমাণ পুষ্টি উপাদান দরকার তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজা সরকারের গণমাধ্যম অফিস এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে এ অপরাধ ইসরায়েলের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, অথচ পুরো বিশ্ব লজ্জাজনকভাবে চুপ করে আছে।
গত মার্চের শুরুতে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর আগে জানুয়ারি শেষে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে তিন দফা যুদ্ধবিরতির প্রধম দফা কার্যকর হয় এবং এর আওতায় গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেয় ইসরায়েল। দ্বিতীয় দফায় মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি সব ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল এবং এর বিপরীতে গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ইসরায়েল। কিন্তু বন্দিদের ফেরত না নিয়ে পুনরায় গাজায় হামলা শুরু করে এবং জরুরি ওষুধ ও শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে ইসরায়েল। এর ফলে গাজায় মানবিকসংকট এখন চরমে পৌঁছেছে।
গাজায় শিশু হত্যার জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী: অক্সফাম
মানবিক সহায়তা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে শিশু হত্যা করার জন্য পুরো বিশ্বকে দায়ী করেছেন গাজায় নিযুক্ত অক্সফামের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান মাহমুদ আলাসাক। তিনি বলেন, গাজায় একটি দুর্ভিক্ষ চলছে অথচ বিশ্ব কিছুই করছে না।
তিনি বলেন, গাজায় এখন কোনো প্রকার শর্ত ও বাধা ছাড়াই জরুরিভিত্তিতে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া অনিবার্য। এই মুহূর্তে ত্রাণ প্রবেশ করতে না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, মিসর ও জর্ডানে ত্রাণ নিয়ে শত শত ট্রাক অপেক্ষা করছে কিন্তু প্রবেশ করতে পারছে না।
আলাসাক বলেন, আমরা আগেই বারবার সতর্ক করেছিলাম আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে। কিন্তু বিশ্ব কর্ণপাত করেনি বরং পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের অবরোধকে সমর্থন করেছে। ফলে নারী, শিশু, আহত ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের অবস্থা শোচনীয়। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে এখন দুটি বিকল্প আছে। গাজার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি বসে বসে দেখা, না হয় পদক্ষেপ নেওয়া।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ১২৫ জন আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুনরায় হামলা শুরু করলে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩৬ জন প্রাণ হারান ও ৬ হাজার ৪৫০ জন আহত হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৫৩৫ জন নিহত ও ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
বাস্ত্যুচ্যুত ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা খান ইউনিসের আল মাওয়াসি এলাকায় খাবার পাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন।