সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেছেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে তবে শিশু, কিশোর বা গ্যাং কালচারের অপরাধে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও মিডিয়ার ভূমিকা এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিচারপতি হাসান আরিফ বলেন, ‘স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা বাস্তবায়ন করবেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু আমরা শিশুদের দেখেশুনে রাখার কথা বলছি। কারও মা হয়তো মানুষের বাসায় কাজ করেন, বাবা রিকশা চালান। তখন ওই শিশুটিকে মনিটরিং করা কি সম্ভব? সেই সন্তান একটু হাঁটতে বা কথা বলতে শিখলে তাকে রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে। একটু বড় হয়ে কিশোর গ্যাংগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।রাজনৈতিক উঠতি নেতারা এদের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে ব্যবহার করছেন। দেখা গেছে, দলের বিভিন্ন নেতাদের দায়িত্ব থাকে ৫০ থেকে ১০০ লোক সমাবেশে আনার। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বা যেকোনো দলই বলেন না কেন, এগুলো প্রাপ্তবয়স্ক লোকের রাজনৈতিক দল। অথচ মিছিলে দেখবেন, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছেলে ১৮ বছরের নিচে। সবাই মাথায় টুপি কিংবা পট্টি লাগিয়ে মিছিল করছে। বড় বড় দলের উঠতি নেতারা তাদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য এই শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে। যখন এরা অপরাধ করে, তখন তারা নেতাদের কাছে যায় বাঁচার জন্য। এই হলো আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট। আমাদের সবকিছুর গোড়ায় রয়েছে রাজনীতি। এ বিষয়ে শিক্ষকরা গবেষণা করছেন, তথ্য দিচ্ছেন। তাই ওই সব জায়গায় গাইডলাইন দিলে সমাধান আনা সম্ভব। কিন্তু এর বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব না, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে।’
বিএইচআরএফর চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খানের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান। বক্তব্য দেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, বিএইচআরএফর ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি এম. রাকীব সরদার প্রমুখ।