টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ১৯ জুন নতুন দিন ধার্য করে মঙ্গলবার (২৮ মে) আদালত এ নির্দেশ দেন।
আদালতে দায়িত্বরত তুরাগ থানার (নারী ও শিশু) নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যই মঙ্গলবার ধার্য ছিল। তবে পুলিশ এদিন প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে গত ২৯ মার্চ রাতে পুলিশ রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় বড় মনিরের ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণীকে উদ্ধার করে। তরুণী অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে ওই বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এই অভিযোগে তুরাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তিনি। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী প্রবাসী। তিনি বাবার সঙ্গে দক্ষিণখান এলাকায় বসবাস করতেন। দুই মাস আগে বড় মনিরের সঙ্গে তার ফেসবুকে যোগাযোগ হয়। পরিচয়ের সুবাদে বড় মনির তাকে ‘ছোট বোন’ বলে ডাকতেন। এরপর থেকে বড় মনির ফোনে তার সঙ্গে কথা বলতেন। গত ২৮ মার্চ রাত ১০টায় উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় এসে ভিকটিমকে ফোন করে বড় মনির বলেন, ‘আপু আমি তো ঢাকায় এসেছি? তুমি কি আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবা? আমি সকালে টাঙ্গাইল চলে যাব।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে তরুণী মাসকট প্লাজার কাছে বড় মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। বড় মনির তার গাড়িতে তরুণীকে ওঠান ও পরে বাসার সামনে নামিয়ে দেন। পরদিন বিকেলে ওই তরুণীকে উত্তরা জমজম টাওয়ারের সামনে থাকতে বলেন। সেই অনুযায়ী তরুণী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জমজম টাওয়ারের সামনে আসেন। সেখান থেকে তিনি ও বড় মনির রিকশায় তুরাগ থানা এলাকার প্রিয়াংকা সিটি নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় যান। সেখানে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বড় মনির।
প্রসঙ্গত, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের বড় ভাই। এর আগেও এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছর টাঙ্গাইল সদর থানায় বড় মনিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল।