কয়েক দিন ধরে সকালেই শুরু হচ্ছে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও (৩১ জুলাই) তার ব্যতিক্রম ছিল না। এমন আবহাওয়ায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম ছিল। বৃষ্টির কারণে বাড়তি ছিল সবজির দাম। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, আড়তে পেঁয়াজের দাম চড়েছে। তাই বাড়তি দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাছ, সবজিও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গত সোমবার রাজধানীর খোলাবাজারে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা আল-আমিন খবরের কাগজকে বলেন, ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং পাবনা, রাজশাহীর পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজি। এদিকে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে মো. অলি বলেন, ভালো পেঁয়াজের দাম বেশি, কেজি ৭০ টাকা। ভারতেরটা আরও বেশি ৭৫ টাকা। হঠাৎ কেন বাড়ল দাম? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর কারণ পাইকারিতে জানা যাবে। তবে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষাবাদলে সরবরাহ একটু কমে গেছে। এ জন্য দাম কিছুটা বেড়েছে। শ্যামবাজারের আড়তদার ও শ্যামবাজার কৃষিপণ্য মালিক সমিতির সহসভাপতি আ. মাজেদ খবরের কাগজকে বলেন, সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। খুব দ্রুত আমদানির অনুমতি (ইমপোর্ট পারমিশন) দিলে এর দাম কমে যাবে। ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি পেঁয়াজ খাওয়া যাবে। কারণ ভারতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কম।
বেশি দরে চাল বিক্রি
সরকার চাল কেনার ঘোষণা দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিল থেকেই বাড়ানো হচ্ছে দর। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দাম কমবে না। গতকালও বাড়তি দরে বিভিন্ন বাজারে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। আগের মতোই খুচরা পর্যায়ে মনজুর, রশিদ, সাগরসহ অন্য কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চালের দাম আরও বেশি, ৮৩ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটাশ চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা মাসুম মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, মিলমালিকরা দাম বাড়াচ্ছেন। তার পরও মিলে কোনো অভিযান চালানো হয় না। এ জন্য চালের দাম কমছে না। অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতাদেরও একই অভিযোগ।
কমেনি মুরগির দাম
আগের সপ্তাহের মতো বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন বাজারে ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগিও আগের মতো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউসের শাকিল আহমেদ, হাতিরপুল বাজারের রুহুল আমিনসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন ধরে মুরগির দাম একই আছে। কমে না, বাড়েও না।’ দেশি মুরগিও আগের মতো ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে নদীর মাছ। কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার কমে মেলে না। তবে আকারভেদে চাষের রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০ এবং কাচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। বাজারে ইলিশ অনেক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এর দাম একেবারে নাগালের বাইরে চলে গেছে। গতকালও ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। ছোট বা ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। টাউন হল বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা রমজান আলীসহ অন্যরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে নদীতে আগের মতো ইলিশ পাওয়া যায় না। এ জন্য দাম বেশি।’
সবজির দামও বাড়তি
বিভিন্ন বাজারে গতকালও সবজি বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহের মতোই গতকালও বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০, শসা ৬০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কচুরমুখী ও কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, পাট, লালশাক ২০ টাকা আঁটি বিক্রি হয়।
হাতিরপুল বাজারের সবুজ মিয়াসহ অন্য সবজি বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকা ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য সবজির দাম বাড়তি। বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমবে না দাম।’