দুই দশক পর শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর জেলা সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উজ্জীবিত জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা গত এক সপ্তাহ প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন সভা ও জেলার বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা বিএনপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা হয়ে চাঁদপুরে আসবেন। এনিয়ে জেলার জনগণ ও নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। উনার বক্তব্য শোনার জন্য সবাই অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরে ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে ইপিজেড তৈরি করা সম্ভব। আমাদের দাবি থাকবে প্রধানমন্ত্রী এটি করে দেবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলার কমপক্ষে দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, কিছু ফ্যাসিবাদী লোক অর্থনৈতিক জোন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য চড়াচ্ছে। তাদের অবগতির জন্য বলছি, অর্থনৈতিক জোন অনুমোদিত। এটার কাজ চলমান থাকবে। এর পাশাপাশি ইপিজেড স্থাপনের দাবি থাকবে আমাদের।
সদর উপজেলার রমাপুর এলাকার বাসিন্দা কাদের মিজি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যমান হবে এমন উন্নয়নমূলক কাজের অনুমোদন দেবেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাই আমার চাওয়া।
হাজীগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাজীগঞ্জ সদরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যানজট। উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ লাগবে যানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক কিংবা উড়াল সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
হাইমচর উপজেলার বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মাসুদ মিয়া বলেন, হাইমচরের বড় সমস্যা হচ্ছে মেঘনার ভাঙন। অবহেলিত এই উপজেলার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখবেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটাই আমাদের দাবি।
চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, আশাকরি প্রধানমন্ত্রী এ জেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণা দেবেন।
জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সরকারি কলেজের উন্নয়ন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কাজ ও মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচির পাঁচটি ভেনুতে আমাদের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এই কাজে প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত তিনটি সরকারি কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে শাহরাস্তির উপজেলার ওয়ারুক বাজার এলাকায় অবস্থিত খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন, সদর উপজেলার ঘোষেরহাটে বিশ্বখাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে চাঁদপুরের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এর পাশাপাশি তিনি আরও ২২ জেলার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন।