ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস

বিশেষ চাহিদার মানুষকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বিশেষ চাহিদার মানুষকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সিলেটে ‘স্পেশাল অ্যাবিলিটি সামিট- ২০২৬’ পরিদর্শন করছেন অতিথিরা। ছবি: খবরের কাগজ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নন, বরং যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের পরিবার এই সমাজে একা নয়। সরকার, সমাজ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে হিউম্যান কেয়ার সংগঠন আয়োজিত ‘স্পেশাল অ্যাবিলিটি সামিট- ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিশেষে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক অভিভাবকের মনে উদ্বেগ থাকে, “আমি যখন থাকব না, তখন আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে কে দেখবে? এ উদ্বেগ দূর করতে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সুসজ্জিত মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী হিউম্যান কেয়ারকে এ মহৎ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে সরকার কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত সহায়তা প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নয়, বরং সম্পদ। তাদের দক্ষতা বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীবান্ধব কর্মসংস্থান ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, হিউম্যান কেয়ারের চেয়ারম্যান শামা হক চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জাকিরা ফাতেমা লিমি চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনু। দিনব্যাপী সামিটে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, প্রতিবন্ধী অধিকার ও কর্মসংস্থান বিষয়ে প্যানেল আলোচনা, বিশেষজ্ঞ সেশন, শিশুদের পরিবেশনা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান হয়।

সামিটে সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট শিল্পপতি দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নাঈম/

বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এডিস মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান সমন্বয়ক করে এক বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সারা দেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে টাস্কফোর্স কমিটি’। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

 ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার সাংবাদিকদের জানান, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে ৪৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮, দক্ষিণ সিটিতে ১৭, খুলনায় ২৪, ময়মনসিংহে ১৪ এবং রাজশাহীতে ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে।

গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এবার ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগেভাগে বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার আগেই এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। বৃষ্টির পানি জমে থাকা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি ও দুর্বলতা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অনেকেই প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে জটিলতা বাড়ছে। তারা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭৫টি ওয়ার্ডে ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে প্রাক-বর্ষা এডিস লার্ভা জরিপ পরিচালনা করছে। জরিপের প্রাথমিক ফলাফলই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনেরও অন্তত ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন পদে দীর্ঘদিন শূন্যতা থাকায় মশকনিধন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। তদারকির দুর্বলতার কারণে অনেক এলাকায় নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। নির্বাচনের পরও স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) না থাকায় অনেক ওয়ার্ডে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসেনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সরাসরি এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ–নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার মতে, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু কাগজে-কলমে প্রস্তুতি নয়, মাঠপর্যায়ে লার্ভিসাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। 

 

শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশীদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ৫০০ কেজি আম পাঠালো বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমের চালানটি ভারতে পাঠানো হয়।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে এসব আম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম।

জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। 

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জন্য ১০০ কেজি আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৪০০ কেজি আম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। 

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবু তালা জানান প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূখ্য মন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশের উন্নতমানের আম্রপালি এবং হাঁড়িভাঙ্গা জাতের ৫০০ কেজি আম উপহার স্বরূপ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের এই ‘ম্যাংগো ডিপ্লোম্যাসি’ দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 নজরুল ইসলাম/এসএন

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্যে বাস টার্মিনাল ও ডিপো স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গত ১৫ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিদর্শন করা স্থানগুলো হলো পূর্বাচল ৩ নম্বর ও ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চুনকুটিয়া, তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ, কাঁচপুর ও ফুলবাড়িয়া এলাকা।

পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্য (পাবনা-৫) অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. আজাদ রহমান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এবং পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের বিদ্যমান অবকাঠামো, যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা, সংযোগ সড়ক ও ভূমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ বাস টার্মিনাল বা ডিপো স্থাপনের বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিদর্শন শেষে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে ধাপে ধাপে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানো, আন্তঃজেলা বাস চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এএফ/

বখাটেদের ছত্রভঙ্গ ও ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএসসিসির অভিযান

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বখাটেদের ছত্রভঙ্গ ও ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএসসিসির অভিযান
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

বুধবার (১ জুলাই) ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ধানমন্ডির কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে স্কুলের আশপাশে অবস্থান নেওয়া বখাটেদের ছত্রভঙ্গ করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট এবং অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।

এ সময় ফুটপাত ও সড়ক অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে পাঁচটি মামলা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের জনস্বার্থমূলক অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

রাজু/এএফ

সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আইন সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নৈতিক মান, সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) বঙ্গভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।

ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করে। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, আইন সাংবাদিকতা বিচারব্যবস্থা ও জনগণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন, আদালতের কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রায় সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আইন সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ‘সহজ ভাষায় জনগণকে আইন বিষয়ে সচেতন করতেও আইন সাংবাদিকদের অবদান তাৎপর্যপূর্ণ,’ রাষ্ট্রপতি বলেন।

সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবিধানের আলোকে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ, আইনজীবী, আইনবিষয়ক সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরও সহজ ও ত্বরান্বিত হবে।

রাষ্ট্রপতি আদালতের মর্যাদা ও বিচারাধীন বিষয়ের সংবেদনশীলতা অক্ষুণ্ন রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে অপতথ্য, ভ্রান্ত তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মো. নূরুল আমীন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদুল আলম/এএফ