জুলাই অভ্যুত্থানে সৃষ্ট জনগণের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও জনগণের বৃহত্তর ঐক্য বিনষ্ট করার সাম্রাজ্যবাদী ভারত ও পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার যৌথ চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ আহ্বান জানান দলটির নেতারা।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি মিতু সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ঢাকা অঞ্চলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সহ-সভাপতি দীপা মল্লিক, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও জয়ভীম ছাত্র-যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত দাষ।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার উচ্ছেদ হবার পর বাংলাদেশ যখন গণতান্ত্রিক সরকার, সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে সেসময় ভারতে বসে পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ভারতের কাছে বিলিয়ে দিয়ে সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা ভারতের সেবা করে এসেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের ওপর ভারতের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ উচ্ছেদ হবার পর ভারত বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নানা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একশ্রেণির মতলববাজ হিন্দু নেতাদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানে সৃষ্ট জনগণের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও জনগণের বৃহত্তর ঐক্য বিনষ্ট করার সাম্রাজ্যবাদী ভারত ও পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার যৌথ চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।'
কাজী ইকবাল বলেন, 'বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একশ্রেণির মতলববাজ নেতাদের মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ তাদের দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। এর বড় প্রমাণ জুলাই আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার নির্দেশে হাজার হাজার ছাত্র শ্রমিক জনতা নিহত হলেও এই হিন্দু সংগঠনগুলোর ৮ দফা দাবির কোথাও এই গণহত্যার বিচারের একটি দাবিও নেই।'
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'আপনারা সমগ্র বাংলাদেশের অংশ। ফ্যাসিস্ট হাসিনার চক্রান্তের সঙ্গে কিংবা সাম্রাজ্যবাদী ভারতের ভূরাজনীতির গুটি হবেন না।'
বাংলাদেশকে চোখ রাঙ্গানি না দিতে ভারতের উদ্দেশে দীপা মল্লিক বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে ভারতকে হাত গুটাতে হবে।'
মনোয়ার হোসেন বলেন, 'ভারত থেকে 'জয় শ্রীরাম' শ্লোগান আমদানি করে ইস্কন এখানে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করতে চক্রান্তে লিপ্ত। এই চক্রান্ত কার্যকর করতে 'জয় শ্রীরাম' শ্লোগান দিয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে হত্যা করেছে।'
চট্টগ্রামে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে হেমন্ত দাষ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। একে বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবেনা। জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
ফয়জুল হাকিম/মেহেদী