বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য, পদ-বাণিজ্য ও দলীয় ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জি এম কাদের) বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগের গোপন অনুসন্ধানে যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ফলে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জি এম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন এবং দলীয় মনোনয়ন ও পদ-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন। যা পরবর্তীতে গোপনে দেশে-বিদেশে (সিঙ্গাপুর, লন্ডন, সিডনি) পাচার করে নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট হলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পদ-বাণিজ্যের প্রমাণ।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদে দলীয় মনোনয়নে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেন জাপার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করায় প্রফেসর মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে মনোনয়ন বঞ্চিতসহ দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জি এম কাদের। প্রফেসর মাসুদার স্থলে জি এম কাদেরের স্ত্রী শরিফা কাদের সংসদ সদস্য হন।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রী শরিফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার এবং ৮০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।
জি এম কাদের জাতীয় পার্টি হতে ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯-১৪ সময়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
মাহফুজ/