যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করেছে স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সোলাইমান ভূঁইয়া।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম নেতা মোতাহার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এটিএম হেলালুর রহমান।
দোয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, জুলাই ২৪-এর শহিদ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সব সদস্যের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের মায়ের মৃত্যুতে এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির মোল্লার বড় বোনের জন্য বিশেষ দোয়া ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, শামসুল ইসলাম মঞ্জু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, আবুল বাশার খাইরুল, নাসিম আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, এটিএম হেলালুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী জাহাঙ্গীর, মোস্তাক আহমেদ, আবুল কালাম, ইউসুফ আলী, সাইফুল ইসলাম, মির্জা আজম, আজিজুল বারী তিতাস, অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা রাজ্জাক সেতু, অ্যাডভোকেট শাহনাজ পারভীন জোসনা, যুবদল নেতা মশিউর রহমান রুবেল, জাহিদ হোসেন সুমন প্রমুখ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান এবং বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে যেকোনো পক্ষের ষড়যন্ত্র দেশের মানুষকে নিয়ে প্রতিহত করবে বিএনপির সব স্তরের নেতা-কর্মীরা। অধিকাংশ বক্তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সোলাইমান ভূঁইয়া বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তার ঘোষণার পর দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। ৭৫-পরবর্তী ঘটনার পর দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যখনই একটি আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেছেন, ঠিক তখনই একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র উদ্ধার ও বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে বিগত ১৬ বছর হত্যা করা হয়েছে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৬ বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার হাসিনার পতন হয়েছে।’
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের নেতা মোহাম্মদ কাশেম, জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন মাতব্বর, আবু তাহের, হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, আব্দুর রহিম, রাজা চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, শহীদুজ্জামান, নাঈম হোসেন, অ্যাডভোকেট আলা উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
শফিকুল/এসজি/