ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সন্তানের সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন রোনালদোর চেয়েও ছোট! পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে কে এই রহস্যময় রেফারি? ব্যাংককে আকিজ সিমেন্টের বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড বয়দের হামলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা বরিশালে নারী ব্যবসায়ীদের মারধর, ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন সম্পন্ন এ মাসেই ‘শিকার’ শুরু করছেন অপু বিশ্বাস বিশ্বকাপের গানে ‘টুডে শো’র মঞ্চ মাতালেন সানজয় ও নোরা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ফিরছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ১০টি ফুটবল মাঠের সমান এক জাহাজ! এলপিজির দাম ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমল ৩৫৭ টাকা ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল বিশ্বকাপের উন্মাদনার গল্প বলবে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’ অস্ট্রিয়ার অটোমোবাইল বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির জয়জয়কার বরিশালে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড, ভুক্তভোগী মা-শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের কুমিল্লায় মানহানির মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার নওগাঁয় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে ঝরে পড়েছে ২৭৩৪৩ শিক্ষার্থী এমবাপ্পেকে ঘিরে গুঞ্জনের কেন্দ্রে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্টার ভোলায় কলেজছাত্রকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ

পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার হারাম কেন?

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০৩ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৯ এএম
পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার হারাম কেন?
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবি

সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য ইসলামসম্মত বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৯১)

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিপাটিবোধ ও শালীনতার ধর্ম ইসলাম। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতাকে ইসলাম ধর্মে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পরিপাটি-তাকওয়ার পোশাক ও পরিমিত সাজসজ্জাকেও তেমন উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘হে আদাম সন্তান! আমি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পোশাক দিয়েছি আর তাকওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম পোশাক। এটা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি; যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৬)

 

ইসলামি শরিয়তে বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা  ও পবিত্রতা, পরিপাটি অবস্থা, বাহ্যিক সৌন্দর্যকে ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আত্মিক পরিচ্ছন্নতা, শুভ্রতা ও পরিশুদ্ধতাকেও ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদুপরি পুরুষের জন্য দুই ধরনের সাজসজ্জাকে নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম। তা হলো- ১. নিরেট স্বর্ণ বা অধিকাংশ স্বর্ণ বিশিষ্ট বস্তু ব্যবহার নিষিদ্ধ। ২. খাঁটি রেশম বা অধিকাংশ রেশমজাত পোশাক পরিধান করা নিষিদ্ধ। (হালাল-হরামের বিধান, ড. ইউসুফ আল-কারজাভি, অনুবাদ : আসাদুল্লাহ ফুআদ, সমকালীন প্রকাশন, পৃষ্ঠা : ১৫২)

 

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রেশমের কাপড় নিয়ে তার ডান হাতে রাখলেন আর স্বর্ণ নিয়ে বাম হাতে রাখলেন। এরপর বললেন, নিশ্চয়ই এই দুটি বস্তু আমার উম্মতের পুরুষের জন্য হারাম।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯৩৫)

 

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক লোকের হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখে তা খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুনের টুকরা জোগাড় করে হাতে রাখে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০৯০; ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১৫) 

 

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৬৪) 

 

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি স্বর্ণের আংটি পড়লেন এবং তা খুলে ফেলে দিয়ে বললেন, কখনওই এটি পরিধান করো না। এ কথা শুনে সব সাহাবি তাদের স্বর্ণের আংটি খুলে ফেলে দিলেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৬৭)

তবে প্রয়োজনে কারও যদি নাক কেটে যায় অথবা দাঁত ভেঙে যায় এবং তা মেরামতের জন্য স্বর্ণের বিকল্প কিছু না থাকে; তাহলে এমন ক্ষেত্রে বা পরিস্থিতিতে পুরুষরা প্রয়োজন পরিমাণ স্বর্ণ ব্যবহার করতে পারবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনওভাবেই সেটা যেন অপচয় বা বিলাসিতা না হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ১৭৭০; আল-মাজমু, ইমাম নববী, ১/৩১২; বাদায়েউস সানায়ে, ৪/৩১৬; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ২৪/৫৬)

 

নিরেট স্বর্ণের অলংকার ব্যবহার করা যেমন নিষিদ্ধ; তেমন স্বর্ণের কলম, ঘড়ি, মোবাইল কভার ও তৈজসপত্রসহ শখ ও বিলাসিতা-বশত ব্যবহার্য বস্তুর ব্যবহারও হারাম। (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ১৫৩)

 

উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক স্বর্ণ বা রৌপ্য দ্বারা নির্মিত বাসনে (তৈজসপত্র) পান করে; সে শুধু তার পেটে জাহান্নামের অগ্নি প্রবেশ করায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫২৮১)

 

ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রেশমের পোশাক পরিধান করো না। কারণ দুনিয়াতে যে এটি পড়বে, আখিরাতে সে এটি আর পড়তে পারবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০৬৯; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস : ২৪৬৫৮)

 

রেশমের পোশাক সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘এটি (রেশমের পোশাক) হলো তাদের পোশাক, আখিরাতে যাদের কোনও অংশ নেই।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৪১; মুসলিম, হাদিস : ২০৬৮)

তবে স্বাস্থ্যগত বিশেষ প্রয়োজনে রেশমের কাপড় পড়া বা ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ও যুবাইর (রা.)-এর শরীরে চুলকানি থাকায় রাসুলুল্লাহ (সা.) রেশমি কাপড়ের জামা পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ২৯১৯; মুসলিম, হাদিস : ২০৭৬)

 

এই দুটি বস্তু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে সুউচ্চ চারিত্রিক ও নৈতিক শিক্ষার অবদান রয়েছে। কারণ মেয়েলি স্বভাব ও দুর্বলতা থেকে পুরুষের মুক্ত থাকা জরুরি। এটাই ইসলামের শিক্ষা। এ ছাড়া বিলাসিতা প্রবণতা থেকে দূরে থাকা এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় রেখে এ দুটি বস্তুকে পুরুষের জন্য হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। (হালাল-হরামের বিধান, ড. ইউসুফ আল-কারজাভি, অনুবাদ : আসাদুল্লাহ ফুআদ, সমকালীন প্রকাশন, পৃষ্ঠা : ১৫৭)

 

লেখক : আলেম ও গবেষক

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
অহংকার ও অহংকারীকে চেনার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

সকালের চায়ের টেবিলে বসে কিংবা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা প্রায়ই ভাবি, সমাজটা এত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে কেন? আসলে এই অসহিষ্ণুতার শেকড় লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ব্যাধিতে—যার নাম অহংকার। আমরা ভাবি অহংকার মানেই হয়তো কোটি টাকার দম্ভ। কিন্তু প্রতিদিনের যাপনে, আমাদের খুব চেনা মানুষের আচরণে, এমনকি নিজের অজান্তেই এই আত্মগর্বের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসলামি পরিভাষায় একে কিবির, তাকাব্বুর বা ইস্তিকবার বলা হয়। ইমাম রাগিব আল-আসবাহানির মতে, অহংকার হলো নিজের প্রতি এমন এক মুগ্ধতা, যা মানুষকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবায়। আর এর চূড়ান্ত রূপ হলো সত্যকে অস্বীকার করে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খুব চমৎকারভাবে বলেছেন, মানুষের সব নিন্দনীয় চরিত্রের মূল উৎসই হলো অহংকার ও হীনতা।

বাস্তব জীবনে একটু লক্ষ্য করলেই অহংকারের নানা রূপ আমাদের চোখে পড়বে। এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো সত্যকে মেনে না নেওয়া। পবিত্র কোরআনে সুরা আন-নামলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ অন্যায় ও অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করে। আবার সমাজে অনেকে নিজের ক্ষমতা, পদবি বা শক্তির দম্ভ দেখান, যেমনটা করেছিল প্রাচীন আদ জাতি (সুরা ফুসসিলাত: ১৫)। এছাড়া অন্যের সাফল্যে হিংসা করা, অবজ্ঞাভরে পথ চলা (সুরা আল-ইসরা: ৩৭) কিংবা নিজের আমলকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করাও অহংকারের স্পষ্ট রূপ। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, কেউ যদি নিজের সম্মানে অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আসন অবধারিত করে নেয় (আবু দাউদ, ৫২২৯)।

কিন্তু যাপিত জীবনে একজন অহংকারী মানুষকে আপনি চিনবেন কীভাবে? মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কিছু চেনার উপায় নিচে দেওয়া হলো:

জনসমক্ষে একা চলতে অপছন্দ করা এবং সবসময় পেছনে অনুসারী বা চামচাবৃত দল রাখতে চাওয়া।

গরিব বা সাধারণ মানুষের দাওয়াত এড়িয়ে চলা এবং সমমানের না হলে অন্যের বাড়িতে যেতে অস্বস্তি বোধ করা।

অসুস্থ, দুর্বল বা নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে বসলে নিজের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় পাওয়া।

তর্কে নিজের ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও তা মেনে না নেওয়া এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে শত্রু মনে করা।

নিজের সাধারণ কাজ বা বাজার নিজে বহন করতে লজ্জাবোধ করা।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, অহংকার হলো এক প্রকার মিথ্যা শ্রেষ্ঠত্বের মরিচীকা, যা মানুষকে মানুষের থেকে এবং পরিশেষে স্রষ্টার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এর একমাত্র প্রতিষেধক হলো—নিজের ক্ষুদ্রতা অনুধাবন করা, বিনয়ী হওয়া এবং সত্যকে অবলীলায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক