ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সৌরভে বদলে গেছে পৃথিবী। দূর হয়েছে অন্ধকার। সভ্য হয়েছে মানুষ। সুন্দর হয়েছে পরিবেশ। যেখানেই তিনি গিয়েছেন, সভ্যতা ও পবিত্রতার বীজ বপন করেছেন সেখানে। তাঁর হাত ধরে ইসলামে বিভিন্ন আমল-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও স্থাপনার সূচনা হয়েছে। ইসলামের প্রথম এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে এখানে তথ্য তুলে ধরা হলো—
প্রথম মুসলিম : খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। নারী-পুরুষ সবার ভেতর তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। পুত্র ইবরাহিম ছাড়া নবীজির অন্য সব সন্তানের মা তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের সমুদয় সম্পদ ইসলামের সেবায় দান করেছেন তিনি। (বুখারি, হাদিস : ৪৫৯৪)
প্রথম মসজিদ : মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় মদিনার অদূরে কুবায় এ মসজিদ নির্মাণ করেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। কুলসুম ইবনে হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর জায়গায় হিজরতের প্রথম দিন এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। (বুখারি, হাদিস : ১১২০)
প্রথম আজান : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শুরুতে আজান দেওয়া হয়। আজান মানে নামাজের দিকে আহ্বান করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগে অন্য কোনো নবী-রাসুলের যুগে আজান দেওয়ার প্রচলন ছিল না। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে, প্রথম হিজরিতে মদিনায় আজান প্রবর্তিত হয়। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১/৩২৮)
প্রথম শহিদ : ইসলামের প্রথম শহিদ হলেন সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত লাভের পরপরই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা মুসলমান হন। তারা ছিলেন অসহায় ও দরিদ্র। কুরাইশরা তাদের ওপর সব সময় অত্যাচার-নির্যাতন করত। নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর তিনি নির্মমভাবে শহিদ হন। (সিরাত ইবনে হিশাম, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩১৯-৩২০)
প্রথম জুমার নামাজ : প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবায় অবস্থান শেষে শুক্রবারে মদিনায় পৌঁছেন। বনি সালাম গোত্রের উপত্যকায় জোহর নামাজের সময় হলে সাহাবিদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই প্রথম জুমার নামাজ হিসেবে বিবেচিত ও প্রমাণিত। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৩/১৫৯)
লেখক : খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ