ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আজান ও ইকামতের উত্তর দেওয়ার নিয়ম

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৩ এএম
আজান ও ইকামতের উত্তর দেওয়ার নিয়ম
আজানরত মুয়াজ্জিনের ছবি। ইন্টারনেট

আজান অর্থ ডাকা, আহ্বান করা। জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করাকেই আজান বলা হয়। ইকামত অর্থ হচ্ছে দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা। জামাতে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে নামাজের আগে আজানের বাক্য দ্বারা নামাজ শুরুর ঘোষণাকেই ইকামত বলা হয়।

আজান শুনে মৌখিকভাবে উত্তর দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১১)

আজান-ইকামতের জবাব দেওয়ার নিয়ম
আজান-ইকামত শ্রবণকারী ব্যক্তির জন্য হুবহু সে বাক্যগুলো বলা মুস্তাহাব। তবে ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলার পর শ্রোতা বলবে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। আর ‘আস সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’-এর জবাবে বলবে ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’। (মুসলিম, হাদিস: ৩৮৫)

আর ইকামতের সময় ‘কাদ কা মাতিস সালাহ’ বলার পর বলবে, ‘আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরা তাই বলে আজানের জবাব দেবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পড়বে। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। এরপর তোমরা আমার জন্য ওয়াসিলার দোয়া করবে। কেননা জান্নাতে এমন একটি স্থান রয়েছে—যা আল্লাহর এক বিশেষ বান্দা লাভ করবে। আমি আশাবাদী যে, আমি হব সেই বান্দা। অতএব যে আমার জন্য ওয়াসিলার দোয়া করবে তার জন্য আমার শাফায়াত আবশ্যক হবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪) 

আজানের জবাব শেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পড়বে এবং এই দোয়াটি পড়বে—

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ্দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কয়িমা, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাজিলাহ, ওয়াবা আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাজি ওয়াআত্তাহ।’

বাংলা অর্থ: হে পরিপূর্ণ দাওয়াত তথা আজান ও নামাজের মালিক আল্লাহ, মুহাম্মাদ (সা.)-কে ওয়াসিলা ও উচ্চমর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে মাকামে মাহমুদে আসীন করুন, যার অঙ্গীকার আপনি তার সাথে করেছেন।

উল্লেখ্য, ইমাম বাইহাকির সুনানে কুবরায় এর অতিরিক্ত এসেছে ‘ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়াদ’। অতএব, কেউ চাইলে এই বাক্যও বৃদ্ধি করে বলতে পারবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান
ছবি: সংগৃহীত

রোজা, হজ, কোরবানি, ঈদসহ ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধান চন্দ্রমাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ করা এবং নতুন চাঁদের খবর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীনি দায়িত্ব। ইসলামের ইতিহাস ও মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, নতুন চাঁদ দেখা ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে চাঁদ দেখতে উৎসাহিত করতেন। বিশেষত রমজান ও জিলহজের চাঁদ দেখার ব্যাপারে অসংখ্য হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজও সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের বহু দেশে রমজানের আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে জনসাধারণকে চাঁদ অনুসন্ধানে উৎসাহ দেওয়া হয়। সাধারণ মুসলমানরাও অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে আকাশে নতুন চাঁদ খোঁজেন।

আমাদের দেশেও দুই-তিন দশক আগ পর্যন্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলে দলবেঁধে রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার এক সুন্দর সংস্কৃতি ছিল। বিকেলের পর মানুষ ছাদে, মাঠে কিংবা খোলা প্রান্তরে জড়ো হতেন। শিশু-কিশোরদের মাঝেও ছিল ভিন্নরকম উৎসাহ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আধুনিকতার প্রবাহে সেই সুন্দর চর্চা আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।

বর্তমান যুগে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছি। মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি; অথচ নিজেরা চাঁদ দেখার প্রয়োজন অনুভব করি না। এমনকি অনেক মুসলমানই হিজরি মাসের তারিখ ও মাসের নাম সম্পর্কে অজ্ঞ। অথচ ইসলামে হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ ও নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি আইনজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, চন্দ্রমাসের হিসাব সংরক্ষণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মুসলিম সমাজের অন্তত একটি দল সর্বদা হিজরি মাসের হিসাব সংরক্ষণ ও নতুন চাঁদের অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকবে। যদি পুরো সমাজ এ দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়ে যায়, তবে সবাই গুনাহগার হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/১৯৭)

এ কারণে প্রতি মাসের ২৯ তারিখে প্রত্যেক এলাকার কিছু মানুষের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত। এটি শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়; বরং সুন্নাহর অনুসরণ এবং এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নতুন চাঁদ দেখার সময় নবিজি (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন-

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল ইসলাম, ওয়াত-তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! এই নতুন চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। আর আপনি যা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, তার তৌফিক দান করুন। (হে চাঁদ!) আমাদের এবং তোমার রব হলেন আল্লাহ। (তিরমিজি, ৩৪৫১)

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা অনেক সুন্নাহ ও দ্বীনি চর্চার মতো নতুন চাঁদ দেখার এই গুরুত্বপূর্ণ আমল থেকেও দূরে সরে যাচ্ছি। অথচ এটি মুসলিম পরিচয় ও ইসলামি সংস্কৃতির একটি জীবন্ত প্রতীক। আসুন, আমরা শুধু চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করি। পরিবার ও সন্তানদের মাঝেও এ ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি করি। অবহেলিত এই ওয়াজিব বিধান ও সুন্দর সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করতে সচেষ্ট হই। আল্লাহতায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মুহাদ্দিস, দিলু রোড মাদ্রাসা, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা

সাক্ষাৎকার ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’
ছবি: খবরের কাগজ

আধুনিক জীবনযাত্রার নানা স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে মানুষ ক্রমেই প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এমনই এক বহুল আলোচিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হিজামা বা কাপিং থেরাপি। হিজামার উপকারিতা, ইসলামে এর অবস্থান, নিরাপদ চর্চা এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন হিজামা থেরাপিস্ট সৈয়দ নুর নবী, ডিএমএস, ডিপিএম, সিপি। তিনি হাই লেভেল ওয়েলনেস (যুক্তরাজ্য) থেকে হিজামা থেরাপিতে সনদপ্রাপ্ত, ওএমটি ট্রেনিং (যুক্তরাজ্য) থেকে আইডিএমসিটি এবং ইউডেমি থেকে এএইচডিসিটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত তিব্ব হিদায়া হিজামা সেন্টারের ফাউন্ডার ও প্রধান হিজামা থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী

হিজামা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামা বা Wet Cupping Therapy একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ কাপের মাধ্যমে ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে সাকশন বা নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরপর ত্বকের ওপরের স্তরে Superficial Incision দেওয়া হয়। হিজামা শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি পদ্ধতি। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক থেরাপি হিসেবে পরিচিত।

ইসলামে হিজামার গুরুত্ব কী? এ বিষয়ে কি কোনো সহিহ হাদিস রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে হিজামা গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যেসব চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকো তার মধ্যে হিজামা হলো সর্বোত্তম চিকিৎসা। (আবু দাউদ, ৩৮৫৭)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি ফেরেশতার যে দল সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তারা সবাই বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন। (তিরমিজি, ২০৫২) সুতরাং মুসলমানদের কাছে এটি শুধু একটি থেরাপি নয়, বরং সুন্নাহ পালনের একটি মাধ্যমও।

বর্তমানে মানুষ কেন হিজামার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে?

সৈয়দ নুর নবী: বর্তমানে মানুষ আগের তুলনায় স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক সচেতন। তারা শুধু রোগের চিকিৎসাই নয়, বরং সুস্থতা বজায় রাখা, ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের দিকেও আগ্রহী হচ্ছেন। এ কারণেই হিজামা ধীরে ধীরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কোন কোন সমস্যায় হিজামা উপকারী?

সৈয়দ নুর নবী: একসময় সাধারণ মানুষ হিজামাকে মূলত ঘাড়, কাঁধ, কোমর, পিঠ ও হাঁটু ব্যথার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত মনে করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাইগ্রেন, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অনিদ্রা, নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ, এলার্জি এবং গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অনেক মানুষ হিজামা গ্রহণ করে উপকার পাচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় হিজামার উপকারিতার তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

হিজামা করার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো সময় বা সুন্নাহ তারিখ রয়েছে?

সৈয়দ নুর নবী: হাদিসে চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি (চন্দ্রমাসের) ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করবে, তা তার জন্য বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্যের কারণ হবে। (ইবনে মাজাহ, ৩৪৮৬) এছাড়া হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) চন্দ্রমাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা গ্রহণ করতেন। (তিরমিজি, ২০৫১)

ফকিহরা বলেছেন, এ তারিখগুলোতে হিজামা করা মুস্তাহাব বা উত্তম বলে বিবেচিত হলেও জরুরি চিকিৎসাগত প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট তারিখের অপেক্ষা না করে যেকোনো সময় হিজামা করা বৈধ। সুন্নাহ তারিখের ফজিলত স্বীকার গ্রহণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক হিজামার অনুমতি ইসলামে রয়েছে।

হিজামা করার সময় কি ব্যথা লাগে?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামার ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্ম ইনসিশন দেওয়া হয়, সেটি খুব অগভীর হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ শুধু হালকা খোঁচা অনুভব করেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু রোগী হিজামা করার সময় এতটাই স্বস্তি অনুভব করেন যে, তারা হিজামার বেডেই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার অনেক রোগী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেছেন, তারা কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করেননি; বরং হালকা সুড়সুড়ি ধরনের অনুভূতি হয়েছে। প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতিতে হিজামা করা হলে এটি সাধারণত সহনীয় একটি প্রক্রিয়া।

মজার বিষয় হলো, রোগীরা হিজামা শেষে ব্যথার কথা নয়, বরং শরীরের হালকা অনুভূতি, স্বস্তি এবং প্রশান্তির কথাই বেশি উল্লেখ করেন।

প্রথমবার যারা হিজামা করতে চান তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

সৈয়দ নুর নবী: প্রথমবার হিজামা করতে আগ্রহীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো–প্রথমে হিজামা সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করুন এবং একজন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট নির্বাচন করুন। হিজামা করার আগে নিজের স্বাস্থ্যগত তথ্য, পূর্বের রোগ, নিয়মিত গ্রহণ করা ওষুধ বা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থা থাকলে তা অবশ্যই থেরাপিস্টকে জানানো উচিত। এতে রোগীর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

যারা এখনো হিজামা সম্পর্কে দ্বিধায় আছেন, তাদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

সৈয়দ নুর নবী: হিজামাকে অলৌকিক কোনো চিকিৎসা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই, আবার কম জানার কারণে অবহেলাও করা উচিত নয়। এটি একটি সুন্নাহভিত্তিক ও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা সঠিকভাবে এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত। সচেতনতা, বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা এবং নিরাপদ চর্চাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ নুর নবী: আমি মনে করি বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। কারণ, হিজামা কোনো নতুন বিষয় নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চর্চিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে Hijama একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় Therapy হিসেবে চর্চা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও হিজামা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা, প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প থেরাপি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে হিজামা ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ঘটলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও হিজামা আরও ব্যাপক আকারে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর দরবারে নবিজির দোয়া-বদদোয়া উভয়ই গ্রহণীয়। নবিজি (সা.) যার জন্য দোয়া করেছেন সে ইহকাল ও পরকালে সফল। আর যার জন্য বদদোয়া করেছেন তার উভয় জাহান ধ্বংস। আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকেও সে বরখাস্ত। তাই আমাদের উচিত নবিজির বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকা। 

সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী: ইসলামে সুদ সম্পর্কিত সব কাজ কর্ম হারাম। আল্লাহর নবি (সা.) সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর ওপর লানত করেছেন।’ (মুসলিম, ১৫৯৮)

ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা: ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টিই হারাম। যারা ঘুষ দেবে আর গ্রহণ করবে নবিজি তাদের সবাইকে লানত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, ৩৫৮০)

নারী-পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারী: ইসলামে নারী-পুরুষের আলাদা পোশাক পরিচ্ছেদ ও সাজসজ্জা রয়েছে। নারী-পুরুষের কেউ যদি একে অন্যের বেশ ধারণ করে তাহলে আল্লাহর নবি তাদের লানত করেছেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন।’ (বুখারি, ৫৮৮৫)

শরীরে উল্কি (ট্যাটু) আঁকা ও অঙ্কনকারী: মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীর মহান আল্লাহর দান। নিজ ইচ্ছায় কোনো অঙ্গের ক্ষতি করা বা কোনো কিছু অঙ্কন করা মহাপাপ। নবিজি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) উল্কি আঁকে এবং আঁকায় এমন ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন। (বুখারি, ৫৯৩১)

হিল্লার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি: তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কৌশল অবলম্বন করে বিয়ে করা হারাম। আর ইসলামে এই পদ্ধতিকে হিল্লা বলা হয়। নবিজি হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়কেই লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়ের ওপরই লানত।’ (বুখারি, ২৬৩৯)

লেখক: খতিব, ভবানীপুর জামে মসজিদ, গাজীপুর

৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৫ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক