ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

কোরবানির গোশত বণ্টনরীতি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:৩৭ পিএম
কোরবানির গোশত বণ্টনরীতি
গোশতের ছবি। ইন্টারনেট

ঈদুল আজহার দিন প্রথমে কোরবানির গোশত দিয়ে খাবার শুরু করা সুন্নত। এ সুন্নত শুধু ১০ জিলহজের জন্য; ১১ বা ১২ তারিখে গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করা সুন্নত নয়। (তিরমিজি, ১/১২০)

হাদিসে এসেছে, কোরবানির স্থানে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে ৬৩টি পশু কোরবানি করলেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকল, তা আলি (রা.)-কে দিলেন এবং তিনি তা কোরবানি করলেন। তিনি নিজে তাকে কোরবানির পশুতে শরিক করলেন। পরে তিনি প্রত্যেক পশুর কিছু অংশ নিয়ে একটি হাঁড়িতে রান্নার নির্দেশ দিলেন। গোশত রান্না হলে তারা দুজনই তা থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। (মুসলিম, ২৮১৫)

কোরবানির গোশত বণ্টনের নিয়ম
কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনকে, এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। তবে যদি এমন হয় যে, সঠিকভাবে বণ্টন করলে নিজ পরিবারের কষ্ট হবে, তবে পুরো গোশত নিজে রেখে দিলেও অসুবিধা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/২২৪, ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ৫/৩০০) 

উল্লেখ্য, শরিকে কোরবানিতে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে; অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নয়। (আদ-দুররুল মুখতার,৬/৩১৭, ফতোয়ায়ে কাজিখান, ৩/৩৫১)। বণ্টনের ক্ষেত্রে কাঁচা গোশত বা রান্না করা গোশতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। (আল কাফি, ১/৪২৪)

কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন
অনেক এলাকায় প্রত্যেক কোরবানিদাতা নিজ কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ (যা ফকির-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করা মুস্তাহাব) ব্যক্তিগতভাবে বণ্টন না করে সামাজিকভাবে বণ্টন করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় সমাজে জমা দেন। এটা জায়েজ আছে। সমাজে জমা দেওয়া গোশতের বণ্টন থেকে কোরবানিদাতা কোনো ভাগ গ্রহণ করতে পারবেন না। তা শুধু গরিব-মিসকিনদের প্রাপ্য। (বাদায়েউস সানায়ে, ৮/১৩৩) 

অমুসলিমদের কোরবানির গোশত দেওয়া
কোরবানির গোশত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া জায়েজ। (ইলাউস সুনান, ৭/২৮৩)

পারিশ্রমিক হিসেবে গোশত দেওয়া
জবাইকারী, কসাই বা কোরবানির কাজে সহযোগিতাকারীকে গোশত বা কোরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। (আদ-দুররুল মুখতার, ৬/৩২৮)

আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাঁর কোরবানির উটের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও আচ্ছাদনের কাপড় সদকা করতে আদেশ করেন এবং এর কোনো অংশ কসাইকে দিতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে (তার পারিশ্রমিক) নিজেদের পক্ষ থেকে (আলাদাভাবে) দেব।’ (মুসলিম, ১৩১৭) 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ

সুন্নত নামাজে অবহেলার সুযোগ নেই

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
সুন্নত নামাজে অবহেলার সুযোগ নেই
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত বায়তুল মোকাররমে নামাজরত মুসল্লিদের ছবি

আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আমরা যথাসম্ভব গুরুত্বের সঙ্গে সময়মতো ফরজ নামাজগুলো আদায় করার চেষ্টা করি। কখনো ছুটে গেলে পুনরায় আদায় করি এবং এর জন্য অনুতপ্ত হই। ফরজ নামাজ সুন্দরমতো আদায় করতে না পারলে পরকালে পাকড়াও করা হবে। কিয়ামতের দিন জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করা হবে, কোন জিনিস তোমাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা উত্তর বলবে ‘আমরা নামাজ আদায় করিনি’। (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪২-৪৩)


ফরজ নামাজগুলোর আগে-পরে কিছু সুন্নত নামাজ আছে। সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা ক’জন নামাজের আগে-পরের সুন্নতগুলো গুরুত্ব দিয়ে আদায় করি! আমাদের যত অবহেলা আর অলসতা সব সুন্নত নামাজকে কেন্দ্র করে। ফরজ নামাজ সুন্দর করে আদায়ের ক্ষেত্রে সুন্নতগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। আগে-পরের সুন্নতগুলোই ফরজকে সুন্দর করে তুলবে। ফরজ যেন ফুলের মধ্যমণি আর সুন্নত তার পাপড়ি। পাপড়ি ছাড়া ফুল যেমন সুন্দর হয় না, তেমন সুন্নত ছাড়া ফরজগুলোও সুন্দর হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পরকালে যখন বান্দার ফরজে ঘাটতি দেখা দেবে, তখন বান্দার সুন্নত আমলগুলো দেখা হবে। সুন্নত দিয়ে ফরজের ঘাটতি কাটিয়ে দেবে।’ (তিরমিজি, ৪১৩)

চিন্তা করুন, ফরজ নামাজের ঘাটতি শোধ করা হবে সুন্নত দিয়ে; সেই সুন্নতে আমি আপনি অবহেলা করছি! সুতরাং সুন্নত নামাজে অবহেলা করতে থাকলে, সেই অবহেলার অসুন্দর প্রভাব পড়বে ফরজের ওপর। 


রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনে কখনো প্রয়োজন ছাড়া সুন্নত নামাজ পড়া বাদ দেননি। সাহাবিদের জীবনীতেও আমরা দেখতে পাই, তারা নামাজের সুন্নতকে সমানতালে গুরুত্ব দিয়েছেন। জায়েদ ইবনে আসলাম (রা.) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) একদিন ফজরের সময় মসজিদে এসে দেখলেন জামাত চলছে, তখন তার সুন্নত পড়া হয়নি, তিনি হাফসা (রা.)-এর কামরায় গিয়ে আগে সুন্নত আদায় করেন পরে জামাতে শরিক হোন। ফরজ নামাজের যেমন অগণিত ফজিলত রয়েছে, তেমনি সুন্নত নামাজেরও অগণিত ফজিলত রয়েছে। 


উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছি; যেকোনো মুসলমান ফরজ নামাজ আদায় করে দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করে; আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। তিনি বলেন, এরপর থেকে কখনো আমি সুন্নত পড়া বাদ দিইনি।’ (মুসলিম, ১৭২৯)
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘যে দিনে-রাতে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই ১২ রাকাত হলো, জোহর নামাজের আগে চার রাকাত পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত।’ (তিরমিজি, ৪১৪) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জোহরের আগে এক সালামে চার রাকাত নামাজ রয়েছে, এগুলোর জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ (আবু দাউদ, ১২৭০)


আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের মূল্য হলো দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার থেকেও উত্তম।’ (মুসলিম, ১৭২১) 


সুন্নত নামাজ যদিও ফরজ (অবশ্য পালনীয়) নয়; কিন্তু এর গুরুত্ব সীমাহীন। কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করার সুযোগ নেই। ফিকাহবিদরা বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়মতান্ত্রিক সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দিলে গুনাহগার হতে হয়। এর জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে।


আমরা আচরণে-বিচরণে কথাবার্তায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুহাব্বত প্রকাশ করি। কিন্তু সুন্নত নামাজে অবহেলা করি। তাহলে মুহাব্বত হলো কোথায়? রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুহাব্বতের দাবি হলো নামাজের সুন্নতগুলো সুন্দর ও নিয়মিত আদায় করা। যদি সুন্নত নামাজে অবহেলা করতে থাকি; সেই অবহেলার দায়ভার রাসুল-মুহাব্বতের ওপরও বর্তাবে। সেটাকে আর রাসুল-মুহাব্বত বলা হবে না। 

লেখক: শিক্ষক, জামিয়াতুল উস্তাজ শহিদুল্লাহ ফজলুল বারি (রহ.)

ফজর নামাজের ১০ পুরস্কার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ এএম
ফজর নামাজের ১০ পুরস্কার
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ভোরের সূর্যদয়ের সুন্দর ছবি

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি নামাজ। কিয়ামতের দিন প্রথমে মানুষের নামাজের হিসাব হবে। নামাজ ঠিক হলে সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে। নামাজ বিনষ্ট হলে সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তাবরানি, ১৯২৯)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজর নামাজের আলাদা গুরুত্ব ও পুরস্কার রয়েছে। এখানে ফজর নামাজ আদায়ের কয়েকটি পুরস্কার নিচে তুলে ধরা হলো—

১. ফজরের নামাজ আদায়ে সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম, ১০৯৬)

২. কেয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালার দায়িত্বে থাকার সৌভাগ্য অর্জন হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর দায়িত্বে রইল...।’ (তিরমিজি, ২১৮৪)

৩. ফজরের নামাজ কিয়ামতের দিন আলো হয়ে দেখা দেবে: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা আঁধারে (ফজর নামাজে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ আলোপ্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ (আবু দাউদ, ৪৯৪)

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতপ্রাপ্তির সুসংবাদ: আবু জুহাইর উমারা ইবনে রুয়াইবা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (ফজর ও আসরের নামাজ) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, ৬৩৪)

৫. মুনাফিকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের ওপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছায় ভর করে হলেও অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হতো।’ (বুখারি, ৬৫৭)

৬. আল্লাহর দরবারে ফজর নামাজ আদায়কারীর নাম আলোচিত হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে ওঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবু ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম তখনো তারা নামাজরত ছিল।’ (বুখারি, ৫৪০)

৭. দুনিয়া ও আখেরাতের তুলনায় শ্রেষ্ঠ জিনিস লাভ হয়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম, ১২৪০)

৮. হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় শেষে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল নামাজ (ইশরাক) আদায় করবে, সে পরিপূর্ণ এক হজ ও ওমরার সওয়াব পাবে। ‘পরিপূর্ণ’ এ শব্দটি তিনি (নবিজি) তিনবার বলেছেন।’ (তিরমিজি, ৫৮৬)

৯. তুলনাহীন গণিমত লাভ হয়: উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গণিমতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাদের সঙ্গে যায়নি এমন এক লোক বলল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গণিমত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোনো সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন এক দলের কথা বলব না, যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাজের জামাতে হাজির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহতায়ালার জিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।’ (তিরমিজি, ৩৬৪১)

১০. কিয়ামতের দিন সরাসরি আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ হয়: জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) বলেন, ‘এক রাতে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোন, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ওই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছো। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য ওঠার আগের নামাজ ও সূর্য ডোবার আগের নামাজ আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই করো। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ‘সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবিহ পাঠ করুন।’ (বুখারি, ৫৭৩)

লেখক: খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ, টঙ্গী

‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি’ কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১০:২৬ এএম
‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি’ কেন পড়া হয়?
আরবিতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’ লেখা ছবি। ইন্টারনেট

অনেক আমল আছে পালন করতে তেমন সময় লাগে না, পড়তেও কষ্ট হয় না, বেগ পেতে হয় না; কিন্তু আল্লাহর কাছে অনেক দামি। আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। এ আমলের কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন দেন। বান্দার সওয়াবের ঝুলি ভরে দেন। কিয়ামতের দিন এ আমলের বদৌলতে তার আমলনামা সহজ হয়ে যায়। 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, পাল্লায় অনেক ভারি, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। বাক্য দুটি এই, 

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম। 

বাংলা অর্থ: মহান সেই আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। মহান তিনি, যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। (বুখারি, হাদিস: ৬৪০৬)

হাদিসের অর্থ থেকেই এর মর্ম, গুরুত্ব ও ফজিলত বোঝা যায়। সহজ বিষয়, যা অনায়াসে পড়া যায়, অধিক পরিমাণে সওয়াব মেলার সাথে সাথে আল্লাহর পছন্দনীয় হওয়ার সুযোগ হাসিল হয়।

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এমনই একটি দোয়া আরও সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৬৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলে, তাহলে কেউ তার থেকে বেশি আমল নিয়ে কেয়ামতের দিন উপস্থিত হতে পারবে না।’ অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তির গুনাহ (ছোট গুনাহ) যদি সমুদ্রের ফেনার থেকেও বেশি হয়, তাহলেও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪/২০৭১, ২৬৯২; তিরমিজি, হাদিস: ৫/৫১১)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ
আরবিতে ‘ইসলাম’ লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহতায়ালার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। এই দ্বীন পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত আছে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এই পাঁচটি বিষয় জানা এবং এর ওপর বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। একজন মুসলমানের জন্য এই পাঁচ স্তম্ভের একটিও অস্বীকারের সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এই সাক্ষ্য দেওয়া যে—

  • আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই ও মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।
  • নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
  • জাকাত আদায় করা।
  • হজ পালন করা।
  • রমজান মাসের রোজা রাখা।’ (বুখারি, ৮)

ইসলামের এই পাঁচ স্তম্ভের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

কালিমা
কালিমার মর্মকথা হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে মুখে উচ্চারণ করা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ে আসা শরিয়ত মোতাবেক আমল করা। তিনি যেসব বিষয় সম্পর্কে নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.) একবার ছদ্মবেশে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ঈমান কাকে বলে?’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘ঈমান হচ্ছে আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহতায়ালার প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবগুলোর প্রতি, আল্লাহর নবি-রাসুলদের প্রতি, কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং তকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি। এই হলো ঈমান।’ (বুখারি, ৫০) 

নামাজ
ঈমানের পর মুসলমানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে নামাজ। প্রাত্যহিক জীবনে একজন মুমিন দিনে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ।” (বুখারি)

জাকাত
নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের জন্য নির্ধারিত সম্পদ ব্যয় করা হলো জাকাত। কোরআনে বহু জায়গায় নামাজের সঙ্গে জাকাতের আলোচনা রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৪-৩৫)

রোজা
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। এ ছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে নফল রোজা রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাস (রমজান) পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে…।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

হজ
নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে কাবাঘর জেয়ারত করা অথবা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কাবাঘরে যাওয়ার সংকল্প করাকে হজ বলা হয়। (কাওয়ায়িদুল ফিকহ: ২৫)। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)। আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দিন, তারা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের রোগা উটের পিঠে করে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৭)


লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

বিড়াল নিয়ে হাদিসে যা বলা আছে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৫ এএম
বিড়াল নিয়ে হাদিসে যা বলা আছে
একজন মুসল্লির কাঁধে চড়ে বিড়াল খেলছে।ছবি: ইন্টারনেট

বিড়াল মানুষের ঘনিষ্ঠ প্রাণী। বেশির ভাগ সময় মানুষের আশপাশেই সে অবস্থান করে। অনেকটা আদুরে স্বভাবের হওয়ায় মানুষও তাকে আপন করে নেয় নিজেদের মতো করে। আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিড়াল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সে অপবিত্র নয় এবং তোমাদের মাঝে চলাফেরা করতে থাকে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৫; তিরমিজি, হাদিস: ৯২) 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিড়াল নামাজ নষ্ট করে না। কারণ তা ঘরের জিনিসপত্রের অন্তর্ভুক্ত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৯) 

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পাক। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি ও রাসুলুল্লাহ (সা.) একই পাত্রের পানি দিয়ে অজু করেছি, যা থেকে এর আগে বিড়াল পানি পান করেছিল।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৮)

ইসলামে বিড়াল পালনে কোনো অসুবিধা নেই। তবে বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। এর যথাযথ যত্ন নিতে হবে। এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিড়ালটিকে আটকে রাখায় সেটি মারা গিয়েছিল। ফলে সে জাহান্নামে গেছে। বিড়ালটিকে সে আটকে রেখে সে খাবার-পানীয় দেয়নি। আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে করে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে। (মুসলিম, হাদিস: ৫৭৪৫)

পশুপাখি পালন করা ও প্রাণিকুলের ওপর সদয় হওয়া ইসলামের নির্দেশ ও সওয়াবের কাজ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, জীবজন্তুর জন্যও কি আমাদের পুরস্কার আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, প্রত্যেক দয়ালু হৃদয়ের অধিকারীদের জন্য পুরস্কার আছে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৩৬৩)

আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘হে আল্লাহর রাসুল, পশুপাখিদের মধ্যেও কি আমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন, ‘প্রতিটি তাজা কলিজায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারিদ, হাদিস: ৩৪৬৭) 

হাদিসে বিড়াল বেচাকেনা না করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং একে নাজায়েজ বলা হয়েছে। তবে উপহার হিসেবে দেওয়া-নেওয়া করা যায়। আবু জুবাইর (রহ.) বলেন, ‘আমি জাবের (রা.)-এর কাছে কুকুর ও বিড়াল কেনাবেচা করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নবি (সা.) এ ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৯)

লেখক: আলেম ও গবেষক