ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন? নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে ধাক্কা অফসাইডে কপাল পুড়ল ক্রোয়েশিয়ার, শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ব্রাজিলের চেয়ে এবার আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন উনাই সিমন মেসিকে চিঠি লিখে মানুর স্বপ্নপূরণ গোলহীন প্রথমার্ধে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া

হজ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে যা নাজিল হয়েছে

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৫, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৫, ১০:৪৫ এএম
হজ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে যা নাজিল হয়েছে
কোরআন ও কাবার ছবি। সংগৃহীত

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি একটি পবিত্র ইবাদত, যা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে হজের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও বিধিবিধান সম্পর্কে বহু আয়াত নাজিল হয়েছে। নিচে হজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আয়াত উল্লেখ করা হলো-

১. হজের খরচ ও সদাচরণের গুরুত্ব : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাত দিয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনো না। আর তোমরা সদাচরণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, ১৯৫) এই আয়াতে হজসহ সব ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়কে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা হজযাত্রার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

২. হজের আহ্বান ও উপকারিতা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষকে হজের জন্য আহ্বান করো, তারা তোমার কাছে হেঁটে এবং এবং দূর-দূরান্ত থেকে চঞ্চল উটের পিঠে আসবে, যাতে তারা উপকারিতা লাভ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্তদের খাওয়াও।’ (সুরা হজ, ২৭-২৮) এই আয়াতে হজের আহ্বান, আল্লাহর স্মরণ এবং সামাজিক দানশীলতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

৩. হজ শেষে আল্লাহর স্মরণ : আল্লাহতায়ালা বলেন, যখন তোমরা হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেমন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করো, বরং আরও গভীরভাবে। তবে কিছু মানুষ শুধু দুনিয়ার কল্যাণ চায় ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে দাও, কিন্তু তাদের জন্য পরকালে কিছুই নেই।’ (সুরা বাকারা, ২০০) এই আয়াতে হজ পালনের পর আল্লাহর স্মরণ ও দোয়ায় মশগুল থাকার কথা বলা হয়েছে। জাগতিক লাভের পাশাপাশি পরকালের কল্যাণের জন্য দোয়ার গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. কাবাঘরের পবিত্রতা ও তাওয়াফ : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি ইব্রাহীমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমার সঙ্গে কোনো শিরক (অংশীদার) করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সুরা হজ, ২৬) এই আয়াতে হজের সূচনা ইতিহাস, কাবাঘরের পবিত্রতা এবং তাওয়াফের বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।

৫. হজের নিয়ম ও প্রতিজ্ঞা পালন : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা যেন নিজেদের অবস্থা পরিচ্ছন্ন করে, প্রতিজ্ঞাগুলো পূর্ণ করে এবং সেই প্রাচীন ঘরের চারপাশে তাওয়াফ করে।’ (সুরা হজ, ২৯) এই আয়াতে হজের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ রোকন যেমন ইহরাম ত্যাগ করা, মান্নত পূরণ করা এবং কাবার চারপাশে তাওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৬. কোরবানি ও তা থেকে খাওয়া ও দান করা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য কিছু পশুকে আল্লাহর নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। তোমরা যখন সেগুলো কোরবানি করবে, তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। তারপর তা থেকে খাও এবং দরিদ্র ও সৎকাজে লিপ্ত মানুষকে খাওয়াও।’ (সুরা হজ, ৩৩) এই আয়াতে কোরবানির পশুর তাৎপর্য এবং আল্লাহর নামে তা উৎসর্গ করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোরবানির মাংস নিজেরা খাওয়া ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের এই আয়াতগুলো হজের গুরুত্ব, নিয়মকানুন ও অন্তর্নিহিত দর্শন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। হজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম নিদর্শন। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত কোরআনের এই নির্দেশনা অনুযায়ী হজ পালনের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর দরবারে নবিজির দোয়া-বদদোয়া উভয়ই গ্রহণীয়। নবিজি (সা.) যার জন্য দোয়া করেছেন সে ইহকাল ও পরকালে সফল। আর যার জন্য বদদোয়া করেছেন তার উভয় জাহান ধ্বংস। আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকেও সে বরখাস্ত। তাই আমাদের উচিত নবিজির বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকা। 

সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী: ইসলামে সুদ সম্পর্কিত সব কাজ কর্ম হারাম। আল্লাহর নবি (সা.) সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর ওপর লানত করেছেন।’ (মুসলিম, ১৫৯৮)

ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা: ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টিই হারাম। যারা ঘুষ দেবে আর গ্রহণ করবে নবিজি তাদের সবাইকে লানত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, ৩৫৮০)

নারী-পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারী: ইসলামে নারী-পুরুষের আলাদা পোশাক পরিচ্ছেদ ও সাজসজ্জা রয়েছে। নারী-পুরুষের কেউ যদি একে অন্যের বেশ ধারণ করে তাহলে আল্লাহর নবি তাদের লানত করেছেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন।’ (বুখারি, ৫৮৮৫)

শরীরে উল্কি (ট্যাটু) আঁকা ও অঙ্কনকারী: মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীর মহান আল্লাহর দান। নিজ ইচ্ছায় কোনো অঙ্গের ক্ষতি করা বা কোনো কিছু অঙ্কন করা মহাপাপ। নবিজি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) উল্কি আঁকে এবং আঁকায় এমন ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন। (বুখারি, ৫৯৩১)

হিল্লার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি: তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কৌশল অবলম্বন করে বিয়ে করা হারাম। আর ইসলামে এই পদ্ধতিকে হিল্লা বলা হয়। নবিজি হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়কেই লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়ের ওপরই লানত।’ (বুখারি, ২৬৩৯)

লেখক: খতিব, ভবানীপুর জামে মসজিদ, গাজীপুর

৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৫ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায়
বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাত। চারদিক নিস্তব্ধ, পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক তখনই কিছু মানুষ বিছানার মোহ ত্যাগ করে পরম তৃপ্তিতে দাঁড়িয়ে যান জায়নামাজে। যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায়, তখনই শুরু হয় বান্দার সঙ্গে তার স্রষ্টার সবচেয়ে গোপন ও মধুর সংলাপ। দিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়ার এর চেয়ে দারুণ উপায় আর কী হতে পারে?

ইসলামে রাতের এই ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনন্য সুন্নতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা একজন বিশ্বাসীকে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়। ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহর কাছে এই সময়ের প্রার্থনার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজের পর কোন নামাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো, রাতে উঠে নামাজ পড়া।’ (মুসলিম, ১১৬৩)

আমাদের যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা নানা সমস্যায় জর্জরিত হই, তখন রাতের এই শেষ প্রহরে আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই হতে পারে সব সমস্যার সমাধান। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন–কে আছো ক্ষমা চাওয়ার, যাকে আমি ক্ষমা করব? কে আছো রিজিক চাওয়ার, যাকে আমি রিজিক দেব?

এই নামাজ শুধু পরকালের পুণ্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করে মনকে করে তোলে শান্ত ও কোমল। সারা দিনের পাপের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে রাতের এই নির্জন ইবাদত এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। তাই আসুন, অলসতা কাটিয়ে অন্তত দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে হলেও রাতের এই সোনালি সুযোগকে কাজে লাগাই, জীবনকে করি সুন্নাহর আলোয় আলোকিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক