ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভারে ইউরোপ-লাতিন লড়াই সাম্বা নেই, সাফল্যও নেই সমতা ধরে রাখতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমার্ধে এগিয়ে বেলজিয়াম কেটেলারের গোলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম বালোগুনকে নিয়ে নামছে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়ামের বেঞ্চে ডোকু-ডি ব্রুইনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ স্পেনের জোড়া বিশ্বরেকর্ড কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? চোখের জলে শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন, পর্তুগালের বিদায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য পর্তুগাল-স্পেন বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল মিরপুরে অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ তুরস্ককে এফ-৩৫ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর আহ্বান জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

শত কষ্টের মাঝেও যে ভালোবাসা ছিল অবিচল

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৮ পিএম
শত কষ্টের মাঝেও যে ভালোবাসা ছিল অবিচল
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের সোনালি যুগে সাহাবিদের জীবনে প্রেম-ভালোবাসার এক অসাধারণ চিত্র দেখা যায়। ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তারা স্ত্রীদের প্রতি যে মহব্বত ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তাদের জীবনে প্রেম ছিল কেবল আবেগ নয়, বরং ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা এক পবিত্র সম্পর্ক।

 

ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সংস্পর্শে এসে সাহাবিরা হয়ে উঠেছিলেন প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) ছিলেন এমনই একজন। একবার তিনি জিহাদ থেকে ফেরার পথে জানতে পারেন তার স্ত্রী অসুস্থ। এই খবর শুনে তিনি এতটাই অস্থির হয়ে পড়েন যে, দ্রুত বাড়ি পৌঁছার জন্য মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে নেন। স্ত্রীর প্রতি তার এই উৎকণ্ঠা গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।


আরেকবার তার বাবা হজরত উমর (রা.) তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বলেন। আবদুল্লাহ (রা.) চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন। একদিকে প্রিয় স্ত্রীর প্রতি গভীর টান, অন্যদিকে পিতার আদেশ। তিনি তালাক দিতে রাজি হননি। অবশেষে হজরত উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিষয়টি পেশ করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা কতটা গভীর ছিল।

বিরহের করুণ সুর
সাহাবিদের জীবনে ভালোবাসা শুধু প্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বিচ্ছেদের বেদনাও ছিল সমান তীব্র। হজরত হাসান (রা.) একবার কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাকের খবর শুনে স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রীর এই কষ্ট দেখে হজরত হাসানও দিশাহারা হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, যদি বাইন তালাক না হতো, তবে তিনি স্ত্রীকে অবশ্যই ফিরিয়ে নিতেন। এই বিরহ তাদের হৃদয়ে কতটা দাগ কেটেছিল, তা এর থেকেই স্পষ্ট।


হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ছেলে সম্পর্কেও এমন একটি ঘটনা জানা যায়। তিনি তার স্ত্রীকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তাকে ছেড়ে জিহাদে যেতে চাইতেন না। তাই কিছু জিহাদে তিনি অংশ নিতে পারেননি। হজরত আবু বকর (রা.) বিষয়টি জানতে পেরে ছেলেকে স্ত্রীকে তালাক দিতে বলেন। পিতার চাপে তিনি তালাক দিলেও স্ত্রীর বিরহে কাতর হয়ে পড়েন এবং বিরহগাথা গেয়ে দিন কাটাতে থাকেন। ছেলের এই করুণ অবস্থা দেখে হজরত আবু বকর (রা.) নিজেও বিচলিত হয়ে পড়েন এবং অবশেষে ছেলেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে বলেন।

মুগিসের প্রেম, বারিরার সিদ্ধান্ত
হজরত বারিরা (রা.) ও মুগিসের ঘটনা হাদিসের প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা। বারিরা প্রথমে ছিলেন একজন বাঁদি। পরবর্তীতে তিনি মুক্তি লাভ করলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিনি মুগিসের সঙ্গে থাকবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পান। শত অনুরোধ সত্ত্বেও বারিরা মুগিসের সঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর মুগিস বারিরার বিরহে মদিনার অলিতে-গলিতে কাঁদতেন। এই ঘটনায় বোঝা যায়, ভালোবাসা কতটা গভীর হলে একজন মানুষ এমন করুণ অবস্থায় পড়তে পারে।


যে নারীরা ইসলামপূর্ব যুগে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার ছিলেন, ইসলামের কল্যাণে তারাই লাভ করলেন অতুল সম্মান ও মর্যাদা। সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখতে পাই, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান ছিল তাদের ঈমানেরই অংশ। এই ভালোবাসার শিক্ষাই আজ আমাদের পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে পারে। সাহাবিদের জীবনের এই ঘটনাগুলো কি আমাদের নিজেদের পারিবারিক সম্পর্কের ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করে না?

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

সাহাবিদের গল্প-০৪ শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
শূলের মঞ্চে দুই রাকাত নামাজ
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার অদূরে তানইম প্রান্তর। উৎসবের আমেজে জড়ো হয়েছে কুরাইশরা–আজ বদরের প্রতিশোধ নেবে তারা। শূলের মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছে এক বন্দিকে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বন্দি মানুষটি ঘাতকদের কাছে শুধু একটিই আবেদন করলেন, ‘আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দাও।’

তিনি খুবাইব ইবনে আদি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাজি গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতায় বন্দি হয়ে বিক্রি হয়েছিলেন মক্কায়, যেখানে বদরে নিহতদের স্বজনরা প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল।

অনুমতি মিলল। ধীরস্থির, প্রশান্ত দুই রাকাত নামাজ পড়লেন তিনি। সালাম ফিরিয়ে বললেন সেই ঐতিহাসিক কথা, ‘তোমরা যদি মনে না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত, তবে আমি নামাজ আরও দীর্ঘ করতাম!’ এরপর আবৃত্তি করলেন, ‘মুসলিম হিসেবে যখন আমার মৃত্যু হচ্ছে, তখন কোন পাশে আমি ঢলে পড়লাম তাতে কিছুই যায় আসে না। যখন এই মৃত্যু আল্লাহরই পথে...’

সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ার এই সুন্নত খুবাইবই সর্বপ্রথম চালু করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩০৪৫)

একবার ভাবুন। সামনে নিশ্চিত মৃত্যু। সেই মুহূর্তে মানুষ কী চায়? প্রাণভিক্ষা? শেষবার প্রিয়জনের মুখ? খুবাইব চাইলেন নামাজ। কারণ তিনি জানতেন, কিছুক্ষণ পরেই তিনি যার সামনে দাঁড়াবেন, তার সামনে সিজদারত অবস্থায় শেষ প্রস্তুতিটুকু নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আর আমরা? সুস্থ শরীর, নিরাপদ ঘর, হাতে অফুরন্ত সময়। তবু আজানের ডাক শুনে বলি, ‘আর একটু পরে।’ মিটিং, ট্রাফিক, ঘুম–হাজারটা অজুহাতে নামাজ পেছাতে থাকি। খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু শূলের মঞ্চ থেকে আমাদের শিখিয়ে গেলেন; নামাজ বোঝা নয়, নামাজই মুমিনের শেষ আশ্রয়, শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি। হে আল্লাহ! আমাদের জীবনের শেষ আমল যেন হয় নামাজ, আর অন্তরের শেষ কথা যেন হয় আপনার জিকির। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

 

ফজর (৭ জুলাই)

.৫১ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমল ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, প্রতিদিন সকালে এই সুস্থতার জন্য আমাদের কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সাদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সাদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকা, আল্লাহু আকবর বলা সাদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সাদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়।

যান্ত্রিক জীবনে একটু সময় বের করে এই আমলটি করলে একদিকে যেমন সুন্নতের অনুসরণ হয়, অন্যদিকে সারা দিনের কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। তাই সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নারীর জীবনের এ সিদ্ধান্ত কী শুধুই ব্যক্তিগত?
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়–কেউ নতুন ফ্যাশনের অংশ হিসেবে, কেউ আবার দুঃখ বা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলছেন। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা আধুনিকতার প্রকাশ মনে করেন। কিন্তু একজন মুসলিম নারীর জীবনে কি এ সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান?

ইসলাম নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো তার চুল। এ কারণেই অধিকাংশ ইসলা ফকিহ নারীদের মাথা মুণ্ডন বা সম্পূর্ণ টাক করাকে বৈধ মনে করেননি।

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন। যদিও এ বর্ণনাটি দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবু এর অর্থকে সমর্থন করে ইসলামের অন্যান্য দলিল ও ফকিহদের মতামত রয়েছে। এ কারণেই হজ বা উমরার সময়ও নারীরা মাথা মুণ্ডন করেন না; বরং চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য অংশ কাটেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৮৫)

অন্যদিকে, শোক বা বিপদের কারণে চুল মুণ্ডন করাও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপকারিণী, কাপড় বিদীর্ণকারিণী এবং মাথা মুণ্ডনকারিণীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪০)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করে। (ইবনু হিব্বান, ৩১৪১)
এ ছাড়া নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পোশাক-আশাক, চালচলন কিংবা চুলের ধরনে পুরুষদের অনুকরণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের ওপর লা‘নত করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৪৪৭০)

অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে সৌন্দর্যচর্চা, শোক প্রকাশ কিংবা নিছক ফ্যাশনের কারণে নারীদের মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলা বা টাক করা জায়েজ নয়। একজন মুমিন নারীর জন্য আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্যই প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সেই সৌন্দর্যই তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প—০৩ ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী
ছবি: সংগৃহীত

মক্কার তপ্ত প্রান্তর। একটি অসহায় পরিবারকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মাখজুম গোত্রের নির্যাতকরা। বৃদ্ধ বাবা ইয়াসির, মা সুমাইয়া, তরুণ ছেলে আম্মার। তাদের ‘অপরাধ’–তারা এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছেন। গোত্রহীন, প্রভাবহীন, দরিদ্র এই পরিবারকে রক্ষা করার মতো দুনিয়ায় কেউ নেই।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সেই মুহূর্তে নির্যাতন থামানোর সাধ্য তার নেই। তিনি যা দিতে পারেন তা পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে দামি–একটি প্রতিশ্রুতি: ‘সবর করো, হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের প্রতিশ্রুত ঠিকানা জান্নাত।’ (মুস্তাদরাক হাকিম, হাদিস ৫৬৪৬; ইমাম হাকিম বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন, ইমাম জাহাবি তা সমর্থন করেছেন)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের মধ্যে ছিলেন আম্মার ও তার মা সুমাইয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)। বুড়ো বয়সের সেই মাকে আবু জাহেল ভয় দেখাল, প্রলোভন দিল, নির্যাতন করল। সুমাইয়া অটল। শেষ পর্যন্ত পাষণ্ড আবু জাহেল বর্শা দিয়ে আঘাত করে তাকে শহিদ করে দিল। বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, ‘আম্মারের মা সুমাইয়া ইসলামের প্রথম শহিদ।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ–ঐতিহাসিক বর্ণনা)

ভেবে দেখুন, ইসলামের ইতিহাসে শাহাদাতের যে মিছিল, তার প্রথম পতাকাটি আল্লাহ তুলে দিলেন একজন নারীর হাতে। একজন দাসী, একজন বৃদ্ধা, একজন মা। দুনিয়ার চোখে যিনি ছিলেন ‘সবচেয়ে দুর্বল’, আল্লাহর দরবারে তিনিই হলেন অগ্রগামী।

আজ আমরা সামান্য সমালোচনার ভয়ে হিজাব নিয়ে সংকোচ করি, নামাজ নিয়ে লজ্জা পাই, হক কথা বলতে দ্বিধা করি। সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের প্রশ্ন করেন–তোমার ঈমানের মূল্য কত? তার কাছে এর মূল্য ছিল জীবনের চেয়ে বেশি। হে আল্লাহ! সুমাইয়ার উত্তরসূরি আমাদের মা-বোনদের ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন, আর আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য ত্যাগের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক