এশিয়া কাপের আলো আবার জ্বলে উঠছে দুবাইয়ে। এ গ্রুপের ম্যাচে আজ মাঠে নামছে বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। যারা দীর্ঘ এক মাসের বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। এই বিরতি ভারতীয়দের কাছে ছিল বিশ্রাম ও নতুন করে জেগে ওঠার। তবে প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এটি স্বপ্ন দেখার সুযোগ। শক্তির বিচারে ভারত অনেক এগিয়ে। তারপরও স্বাগতিক আমিরাত দ্ব্যর্থ কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছে, ‘আমরাই বছরের সেরা আপসেট ঘটাব।’
ভারতীয় ক্রিকেট মানেই বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি, গ্যালারি ভর্তি সমর্থক আর মাঠে একের পর এক তারকা। আমিরাতের কাছে এগুলো নতুন কিছু নয়। তাদের কাছে এই ম্যাচ হলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ। হারলে ক্ষতি নেই, বাড়বে অভিজ্ঞতা; জিততে পারলে ইতিহাস। এই দ্বিমুখী সম্ভাবনাই আমিরাতকে এনে দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে ভারত ম্যাচটিকে দেখছে আসন্ন ব্যস্ত সূচির প্রস্তুতি হিসেবে। তবু প্রতিপক্ষ হালকা হলেও ম্যাচকে একচুলও হালকাভাবে নিতে চাইছে না সূর্যকুমার যাদবের দল।
রাজপুত বনাম ভারত
আমিরাতের কোচ লালচাঁদ রাজপুতের গল্প ম্যাচটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ভারতকেই তিনি ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। এবার সেই রাজপুতই দাঁড়াচ্ছেন নিজ দেশ ভারতের বিপক্ষে, নেতৃত্ব দিচ্ছেন নবীন কিন্তু সাহসী এক দলের। অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিমের সঙ্গে তার পরিকল্পনা যদি মাঠে কাজে দেয়, এশিয়া কাপের সবচেয়ে বড় চমক দেখা মিলতে পারে এখানেই। ভারত রয়েছে টানা জয়ের ছন্দে। অন্যদিকে আমিরাত হারের স্রোতে ভাসলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ লড়াই বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস।
নজরে থাকবেন যারা
শুভমান গিল: ভারতের টেস্ট অধিনায়ক এবার ফিরছেন টি-টোয়েন্টি দলে সহ-অধিনায়ক হয়ে। আইপিএলে ৬৫০ রান ও ১৫৫.৮৭ স্ট্রাইক রেটে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন।
সিমরনজিত সিংহ: ভাগ্যের খেলায় দুবাইয়ে থেকে যাওয়া পাঞ্জাবি বোলার। এখন আমিরাতের বাঁ-হাতি স্পিন আক্রমণের ভরসা। ছোটবেলায় যার নেটে বল করতেন, সেই শুভমান গিলের মুখোমুখি হবেন এবার।
ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে সিমরনজিত বলেন, ‘শুভমানকে ছোট থেকে আমি চিনি। জানি না আমার কথা ওর মনে আছে কি না। শুভমানের বয়স যখন ১১-১২ বছর তখন ওর সঙ্গে খেলেছি। আমরা পঞ্জাব ক্রিকেট সংস্থার মাঠে অনুশীলন করতাম। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুশীলন হতো। তার পর শুভমান ওর বাবার সঙ্গে আসত। আমি অনুশীলনের পরেও থেকে যেতাম। শুভমানকে অনেক বল করেছি।’
দোটানায় ভারত
ভারতের দলে শঙ্কা মূলত এক জায়গায়, সংখ্যা আটের পর ব্যাটিং গভীরতা। চার স্পেশালিস্ট বোলার ও দুই অলরাউন্ডার নামালে ব্যাটিং আটে গিয়ে থেমে যাবে। নাকি ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে বাদ যাবে একজন রহস্য স্পিনার; এ নিয়েই দোটানায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
পিচ ও আবহাওয়া
দুবাইয়ের উইকেট এবার তুলনামূলক নতুন ও প্রাণবন্ত। বেশি টার্নের সুযোগ নেই, তাই ভারসাম্যপূর্ণ আক্রমণের দিকেই ঝুঁকতে হবে। তবে তীব্র গরম দুই দলের সহ্যের বড় পরীক্ষা নেবে।
হেড টু হেড
ভারত ও আমিরাতের মুখোমুখি হওয়া একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ২০১৬ এশিয়া কাপে মিরপুরে। এশিয়া কাপের ম্যাচে যেখানে ৯ উইকেটে জিতেছিল ভারত। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ভারতের রেকর্ড: জয় ২৪, হার মাত্র ৩।
আমিরাতের স্বপ্ন বড়, হুঙ্কারও তীব্র। তবে বাস্তবতা বলছে ভারতের জন্য এটি হওয়া উচিত সহজ ম্যাচ। তবুও ক্রিকেট অঘটনের খেলা, আর সেই জায়গাতেই বেঁচে আছে আমিরাতের আশার আলো।
সম্ভাব্য একাদশ
ভারত: অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), জিতেশ শর্মা (উইকেটকিপার), হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, হর্ষিত রানা, কুলদীপ যাদব, জসপ্রিত বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী।
আরব আমিরাত: মোহাম্মদ ওয়াসিম (অধিনায়ক), আলিশান শারাফু, মুহাম্মদ জোয়াইব, রাহুল চোপড়া, আসিফ খান, হর্ষিত কৌশিক, হায়দার আলী, মুহাম্মদ ফারুক, মুহাম্মদ রোহিদ, জুনাইদ সিদ্দিক ও সিমরনজিত সিং।
চঞ্চল/নিলয়/