ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার প্রভাব এসে পড়ে খেলার মাঠেও। বিশ্ব আসর ছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে চায় না ভারত। আবার পাকিস্তানের মাটিতে কোনো আসর হলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নিজেদের ম্যাচ খেলে ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানও ভারতে না গিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজেদের ম্যাচ।
গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতি। এরপর থেকেই শুরু হয় সম্পর্কের আরও বেশি অবনতি হওয়া।
পেহেলহামের ঘটনার জের ধরে ভারতের অনেকেই চান না এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হোক। চারজন আইনের শিক্ষার্থী আদালতে রিট করেছিলেন এই ম্যাচ যেন না হতে পারে। পেহেলগামের সেই ঘটনার পর এত দ্রুত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে বলে রিট করেন ওই শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এটি সাধারণ নাগরিক ও শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগকেও অবমূল্যায়ন করছে।
এবার এই ম্যাচের বিরোধীতা করেছেন পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শুভম দ্বিবেদীর বাবা সঞ্জয় দ্বিবেদী। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সঞ্জয় দ্বিবেদী বলেন, ‘২২শে এপ্রিল ২০২৫ সালে পাকিস্তান আমাদের দেশের ২৬ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। ভারতের সরকার বলেছিল পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না এবং রক্ত আর পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কথা জানার পর থেকে শুধু আমি নই, পুরো দেশই এর বিরোধিতা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই বলছে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তা রাজনৈতিক হোক বা খেলাধুলার ক্ষেত্রে। আমি এর বিরোধিতা করছি এবং সরকারকে বলছি জনমতের দিকটি বিবেচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।’
এর আগে, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ম্যাচ বয়কট করেন ভারত লেজেন্ডস। ফলে মাঠে না নেমেই ফাইনালে পা রাখে পাকিস্তান।
আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।
নিলয়/