পাখির ছানারা কত দ্রুত আকাশে উড়তে শিখে! বিড়াল, কুকুর ছানারাও বেশ তাড়াতাড়ি স্বাবলম্বী ও বড় হয়ে ওঠে। তাহলে মানুষের বড় হয়ে উঠতে এত সময় লাগে কেন? শৈশব, কৈশোরের লম্বা ধাপ পেরিয়ে তবেই কেন আমরা পরিণত মানুষ হই? কৈশোরে এমন প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়।
অন্য সব স্তন্যপায়ী প্রাণী শিম্পাঞ্জি, গরিলার চেয়েও মানুষ পরিণত হতে দ্বিগুণ সময় নেয়। আমাদের এই বিলম্বিত শৈশব-কৈশোরের জন্য দায়ী আসলে আমাদের মস্তিষ্ক। অন্য যেকোনো প্রাণীর মস্তিষ্কের তুলনায় মানুষের মস্তিষ্ক নিউরনের সংখ্যা, আকার ও গঠনগত বিভিন্ন দিক দিয়েই বেশ বড়। আবার বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা, কর্মক্ষমতার দিক দিয়েও মানুষের মস্তিষ্ক এগিয়ে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এসব কারণেই আমাদের এই বড় মস্তিষ্ক অনেক ক্ষুধার্ত। তার বিকাশে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই মানুষের শৈশব ও কৈশোর অবস্থায় শরীরে জমে থাকা শক্তি বা গ্লুকোজের ৪৪ থেকে ৮৭ ভাগই আমাদের মস্তিষ্ক শুষে নেয়। গবেষণা জানায়, এই বয়সেই মূলত মস্তিষ্কের মূল বিকাশ হয় এবং সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োজন হয়। শরীরের বৃদ্ধি বিলম্বিত করে এই শক্তির চাহিদা পূরণ।
তবে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ছাড়াও বিবর্তনীয় সুবিধা, সামাজিক জটিলতা আয়ত্ত করতে এবং অতিরিক্ত যত্ন পেতে আমাদের শৈশব, কৈশোরের এই লম্বা ধাপ পেরোতে হয়। প্রকৃতিগতভাবে অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় মানবশিশু অনেকটাই অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পর হাঁটতে, নিজের খাবার জোগাড় করতে, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা করতে আমাদের অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই মানুষের বাবা-মা কিংবা বড়দের আশ্রয়, নির্ভরতায় থেকে বিকশিত হতে অনেক সময় লেগে যায়। বিকাশের এই পুরো প্রক্রিয়া পূরণ করে শৈশব ও কৈশোর কাল।
আবার অন্যান্য প্রাণীর মতো আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ততটা সহজ নয়। শুধু বেঁচে থাকার দক্ষতাই নয় বরং মানুষকে রপ্ত করতে হয় সামাজিক যোগাযোগ, জটিল সামাজিক ব্যবস্থা, সংস্কৃতি এ সবকিছুই। সামাজিক শিক্ষার এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও অন্য প্রাণীদের তুলনায় পরিণত হতে বেশি সময় নেয় মানুষ।
এ ছাড়া দীর্ঘ শৈশব, কৈশোর দেয় আমাদের বিবর্তনীয় সুবিধা। দীর্ঘ শৈশব মানুষকে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করতে, টিকে থাকার লড়াই শিখতে ও পরিণত বয়সে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
/ তাসনিম তাজিন