মাদারীপুরের কালকিনিতে ডাকাত সন্দেহে দুজনের চোখ তুলে নিয়েছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ডাকাতি করে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়।
শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
যে দুজনের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে তারা হলেন - বরিশালের মুলাদি উপজেলার টুমচর বাটামারা এলাকার দাদন হাওলাদার (৪৫) ও একই এলাকার সোহরাব হাওলাদার (৫০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ২টার দিকে মুখোশ পরা ১০-১৫ জনের ডাকাতদল মৃধাকান্দি গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ঘরে ঢুকে। তারা ঘরের লোকদের জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ডাকাত সন্দেহে দাদন হাওলাদার ও সোহরাব হাওলাদারকে আটক করে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে দুজনের চোখ উপড়ে ফেলেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুল ইসলাম বলেন, দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের চোখে গভীর ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা চুরি করে বের হওয়ার সময় পাশের ঘরে থাকা একজনের ঘুম ভেঙে যায়। ফোনে তিনি তার স্বজনদের এগিয়ে আসতে বলেন। পরে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই দুজনকে আটক করে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকাত সন্দেহে চোখ উপড়ে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।