দেশের আমদানি বাণিজ্যে শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মূল্য ও রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী শীর্ষ ৩০টি পণ্য থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এই ৩০টি পণ্যের ক্ষেত্রে সার্বিক রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব খাতে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের মোট মূল্য বেড়েছে ২৯.৪৭ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ডিজেল থেকেই অর্ধেকের বেশি রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে একক খাত হিসেবে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে জ্বালানি তেল। ‘হাই স্পিড ডিজেল অয়েল’ আমদানি থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা শীর্ষ ৩০ পণ্যের মোট অর্জিত রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি (৫১.৮২ শতাংশ)। ডিজেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই খাত থেকে রেকর্ড শুল্ক আদায় হয়েছে। এ ছাড়া অকটেন বা মোটর স্পিরিট আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৬১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় রেকর্ড ১৯২.৩৮ শতাংশ বেশি। অপরিশোধিত তেল ক্রুড অয়েল থেকে রাজস্ব এসেছে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
গাড়ি ও থ্রি-হুইলার আমদানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি
চলতি বছর ব্র্যান্ড নিউ এবং রিকন্ডিশনড—উভয় ধরনের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। ১৮০০ সিসির নিচে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি আমদানি খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩১৩.৫৪ শতাংশ। এই খাত থেকে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব এসেছে।
অন্যদিকে, ২০০০ থেকে ৩০০০ সিসির রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বিগত বছরের চেয়ে ৭৫.২২ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই খাতে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩২.৬৫ শতাংশ।
অন্যান্য শীর্ষ পণ্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা (প্রবৃদ্ধি ১৪৬.৭৭%)। ফল আমদানির মধ্যে মাল্টা ও কমলা থেকে যথাক্রমে ২৮ কোটি ৭৭ লাখ এবং ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে।
শিল্প কাঁচামালের মধ্যে সিমেন্ট খাতের ক্লিংকার ও গ্র্যানুলেটেড স্ল্যাগ থেকে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, জিপসাম থেকে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং লিকুইড ডাই-ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার থেকে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও ভয়েস ট্রান্সমিশন সরঞ্জাম আমদানি থেকে রাজস্ব এসেছে ৩৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরিফ মোহাম্মদ আল আমিন বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলার সংকটের মাঝেও বিলাসবহুল গাড়ি ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের শুল্কায়ন স্বাভাবিক থাকায় রাজস্বের এই বড় প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে অটোমেশন ও বিআই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁকি রোধ করায় প্রকৃত রাজস্ব আদায় বেড়েছে।
হাই স্পিড ডিজেল আমদানি কমেছে ৪২ হাজার ৭২.৯৫ টন, যা আগের বছর থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ কম। পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি ৮ হাজার ৯৪২.১৬ টন কমেছে। যা আগের বছরের চেয়ে ৮.২৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে অপরিশোধিত (ক্রুড) পাম অয়েল আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ৯১৭.৭৭ টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.০৬ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া কমলা আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ১৫৬.৭২ টন, যা গত বছরের চেয়ে ১২.৩৯ শতাংশ বেশি। পেট্রোল (মোটর স্পিরিট) আমদানি বেড়েছে ১৬ হাজার ৭৩৪.৩৬ টন, যা ১৩৮.৮১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে লোহার স্ক্র্যাপ আমদানি ৯ হাজার ৬৬১.৯৩ টন কমেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫.১২ শতাংশ কম।