ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের সময় প্রসববেদনা উঠেছিল নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার গৃহবধূ ফেন্সি বেগমের (৩০)। গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে সন্তান প্রসব করানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে মোবাইল ফোনের টর্চলাইট জ্বালিয়ে ফুটফুটে কন্যাসন্তান প্রসব করান ডা. সুমাইয়া বিনতে ফরহাদ।
ডা. সুমাইয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের রাতে দুই মায়ের সন্তান প্রসব করানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে আগের রাত থেকেই হাতিয়া ছিল অন্ধকারকবলিত। বিদ্যুৎ ছিল না। এদিকে প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণা বেড়েই চলছিল। এমন জটিল এক পরিস্থিতিতে আমার মোবাইলের টর্চলাইট (ফ্ল্যাশ) জ্বালিয়ে মিডওয়াইফ মিম এবং সাবরিনার সহযোগিতায় ওই মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়।
ডা. সুমাইয়া বিনতে ফরহাদ আরও বলেন, প্রসূতি দুজনেরই অবস্থা খারাপ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে যে কী অবস্থা পার করেছি, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। দ্বিতীয় রোগীকে হাতিয়া উপজেলায় নিজ বাসায় ডেলিভারির চেষ্টা করানো হয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে অবস্ট্রাক্টেড লেবার নিয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন প্রসূতি। রোগীর হিমোগ্লোবিন ৬.৫ শতাংশ থাকায় জরুরি ভিত্তিতে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওই রোগীরও স্বাভাবিক প্রসব করানো সম্ভবপর হয়। কিন্তু প্রসব-পরবর্তী সময় তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। বর্তমানে দুই মা ও দুই শিশু সবাই সুস্থ আছেন।
হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের জন্য মা-মনি প্রজেক্ট ছিল আশীর্বাদ। মা-মনির পর নতুন করে ইউএনএফপিএর সাপোর্ট নিয়ে আবার চালু হয় প্রসূতি মায়ের সেবা। সেটার মাধ্যমে আমাদের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। এ ছাড়া বিনামূল্যে সিজার অপারেশন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হাতিয়ার জন্য ইউএনএফপিএর সাপোর্ট বিশাল এক আশীর্বাদ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে নরমাল ডেলিভারিতে দুই নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এ ঘটনা দ্বীপের মানুষের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।