ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি মহাসড়ক সুরক্ষার কাজ যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ লবণ চাষ: পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকদের পিরামিড অভিযানে মেসিবাহিনী সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা ৭ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৭ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল কোয়ার্টার ফাইনালে কে হচ্ছে বেলজিয়াম মুখোমুখি? মায়াবী আভার বন পিটুনিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন, ম্যাচ কবে-কখন? পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভারে ইউরোপ-লাতিন লড়াই সাম্বা নেই, সাফল্যও নেই সমতা ধরে রাখতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমার্ধে এগিয়ে বেলজিয়াম কেটেলারের গোলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম বালোগুনকে নিয়ে নামছে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়ামের বেঞ্চে ডোকু-ডি ব্রুইনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ স্পেনের জোড়া বিশ্বরেকর্ড কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? চোখের জলে শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন, পর্তুগালের বিদায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য পর্তুগাল-স্পেন বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল

মোবাইলের আলোতে দুই শিশুর জন্ম

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১১:৩৩ এএম
মোবাইলের আলোতে দুই শিশুর জন্ম
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের সময় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইলের আলোতে জন্ম নেওয়ার পর ডা. সুমাইয়া বিনতে ফরহাদের কোলে এক নবজাতক। খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের সময় প্রসববেদনা উঠেছিল নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার গৃহবধূ ফেন্সি বেগমের (৩০)। গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে সন্তান প্রসব করানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে মোবাইল ফোনের টর্চলাইট জ্বালিয়ে ফুটফুটে কন্যাসন্তান প্রসব করান ডা. সুমাইয়া বিনতে ফরহাদ।

ডা. সুমাইয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের রাতে দুই মায়ের সন্তান প্রসব করানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে আগের রাত থেকেই হাতিয়া ছিল অন্ধকারকবলিত। বিদ্যুৎ ছিল না। এদিকে প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণা বেড়েই চলছিল। এমন জটিল এক পরিস্থিতিতে আমার মোবাইলের টর্চলাইট (ফ্ল্যাশ) জ্বালিয়ে মিডওয়াইফ মিম এবং সাবরিনার সহযোগিতায় ওই মায়েদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়।

ডা. সুমাইয়া বিনতে ফরহাদ আরও বলেন, প্রসূতি দুজনেরই অবস্থা খারাপ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে যে কী অবস্থা পার করেছি, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। দ্বিতীয় রোগীকে হাতিয়া উপজেলায় নিজ বাসায় ডেলিভারির চেষ্টা করানো হয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে অবস্ট্রাক্টেড লেবার নিয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন প্রসূতি। রোগীর হিমোগ্লোবিন ৬.৫ শতাংশ থাকায় জরুরি ভিত্তিতে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওই রোগীরও স্বাভাবিক প্রসব করানো সম্ভবপর হয়। কিন্তু প্রসব-পরবর্তী সময় তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। বর্তমানে দুই মা ও দুই শিশু সবাই সুস্থ আছেন।

হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের জন্য মা-মনি প্রজেক্ট ছিল আশীর্বাদ। মা-মনির পর নতুন করে ইউএনএফপিএর সাপোর্ট নিয়ে আবার চালু হয় প্রসূতি মায়ের সেবা। সেটার মাধ্যমে আমাদের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। এ ছাড়া বিনামূল্যে সিজার অপারেশন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হাতিয়ার জন্য ইউএনএফপিএর সাপোর্ট বিশাল এক আশীর্বাদ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে নরমাল ডেলিভারিতে দুই নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এ ঘটনা দ্বীপের মানুষের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।  

যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
যমুনাপাড়ে সব হারানোর আর্তনাদ
ক্যাপশন: নদীভাঙনে ইতোমধ্যে একাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা মাদ্রাসাটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী এলাকা থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

তিন দফা নদীভাঙনে সব হারিয়েও হাল ছাড়েননি শান্তি বেগম। প্রায় ২০ বছর আগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামে নতুন করে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি ঘর। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে সেই ভিটাতেই চলছিল তার কষ্টের সংসার। কিন্তু গত রবিবার গভীর রাতে যমুনার আগ্রাসী স্রোত মুহূর্তেই গিলে নেয় তার এই শেষ সম্বল।

এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধার। খোলা আকাশের নিচে বসে নদীর দিকে তাকিয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘তিনবার নদী আমার ঘর নিয়েছে। ভাবছিলাম আর হয়তো ভাঙবে না। কিন্তু এবার শেষ সম্বলটাও চলে গেল। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব কিছুই জানি না। হাতে খাবার, টাকা-পয়সা কিছুই নেই।’

শুধু শান্তি বেগম নন, যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের শত শত পরিবার। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীরজুড়ে শুধু আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব। কোথাও মানুষ ভাঙনের আগে ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কোথাও আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো বসতভিটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাচ্ছেন। কয়েক দিনের ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। নদী প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা গ্রাস করছে।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার ভয়াল থাবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। নদী থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে চারতলা একাডেমিক ভবন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও টয়লেট নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদরাসার দুটি ভবন যেকোনো সময় নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। জানা গেছে, আশপাশে কোনো উচ্চবিদ্যালয় না থাকায় কয়েকটি গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে।

স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আর কোনো হাইস্কুল নেই। এই মাদরাসা নদীতে চলে গেলে শত শত ছেলেমেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। তিন-চার কিলোমিটার দূরে একটি স্কুল আছে, সেখানে যেতে নদীপথ ছাড়া উপায় নেই। এত দূরে সন্তানদের পাঠানোর সামর্থ্যও অনেক পরিবারের নেই। তাই সরকার যেন দ্রুত মাদ্রাসাটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।’

মাদরাসা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সে বলে, ‘এই মাদ্রাসা যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের আর পড়াশোনা হবে না। এত দূরে গিয়ে পড়ার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা খুব ভয় আর দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

হারুনুর রশিদ নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে আগে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু কাটা হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে ড্রেজার বন্ধ করা যায়নি। এখনো দক্ষিণ দিকে ড্রেজার চলছে। নদীর তলদেশ থেকে মাটি তুলে নেওয়ার কারণেই ভাঙন অনেক বেড়ে গেছে।’

ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার ঘরে যা কিছু ছিল সব নদীতে চলে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। স্থানীয়দের সাহায্যে কয়েকটা হাঁড়ি-পাতিল বের করতে পেরেছিলাম। হাঁস-মুরগিও নদীতে চলে গেছে। এখন আর কিছুই নেই।’

একই গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছিল। বড় বড় মাটির অংশ নদীতে ভেঙে পড়ছিল। সেই শব্দে ঘুম ভাঙে। কিছু সরানোর সুযোগ পাইনি। ছাগল, ঘর, দরজা সব নদী নিয়ে গেছে। শুধু প্রাণটা নিয়ে বের হতে পেরেছি।’

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাদ্রাসার সামনে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। স্থায়ী নদীশাসন ছাড়া ভাঙন বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এই চরটি সম্পূর্ণ বালুময়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চরের কোথাও শক্ত মাটির স্তর নেই। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের ঝুঁকি থাকে।’

সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমিন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তান (৫০) ও ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আমিনের বাড়িতে একটি মুদি দোকান রয়েছে। সেই দোকানঘর দুপুরে মেরামত করছিলেন তিনি ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ। এসময় দোকান ঘরের টিনে বিদ্যুৎ লাইনের তার জড়িয়ে যায়। এতে নুরুল আমিন ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এসময় স্থানীয়দের চিৎকার শুনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দোকানঘর মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস/এএফ

নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় মানত পূরণ করতে গিয়ে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে শাহিদা বানু (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে শহরের ছোট যমুনা নদীর বিহারী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহত শাহিদা বানু সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী। 

নিহতরে পরিবার এবং থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিদা বানু মাথাব্যথা ভালো হওয়ার জন্য নদীর পূর্বপাশে অবস্থিত জিন্দা পিরের মাজারে যান। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন ছোট যমুনা নদী দুইবার সাঁতরে পার হলে তার মাথা ব্যথা ভালো হয়ে যাবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোমবার দুপুর একটার দিকে মাজারে মানত শেষে তিনি একাই নদীর পূর্ব পাড় থেকে সাঁতার কেটে পশ্চিম পাড়ে আসছিলেন। এ সময় নদীর মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে তিনি পানিতে ডুবে যান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার করতে গেলে তাকে আর পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে তাকে মৃত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে। 

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। 

হারুন/নাঈম

সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে তৈরি হয় আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার ৬ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম (৬৫) ওই এলাকায় স্বামীর বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির নিজের বাড়িতে থাকতেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।

বৃদ্ধা রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাঁশনিয়োগী গ্রামে। তিনি বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা পান। পরে পারিবারিকভাবে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই ৫৬ শতাংশ জমি ভাইদের নামে লিখে দেন। পরবর্তীতে সেই ৮ লাখ টাকা দিয়ে নিজের নামে জমি কেনেন।

কিন্তু ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গে আলোচনা না করে জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম টাকায় ভাইদের কাছে জমি লিখে দেওয়ায় মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। পরবর্তীতে মায়ের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন ছেলে। বিষয়টি নিয়ে রাশেদা বেগম এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন।

এ নিয়ে একপর্যায়ে গেন্দারপাড়া গ্রামের বাড়িতে তালা দিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান রাশেদুল। পরে রাশেদা বেগম গেন্দারপাড়ার স্বামীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা গেটের তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

রবিবার সকাল থেকে আবারও সালিশ শুরু হলে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন রাশেদুল ইসলাম জাকির। এতে রাশেদা বেগম রাজি না হওয়ায় কৌশলে মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে। পরে রাশেদা বেগমের ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় বৃদ্ধা রাশেদা বেগম হাতে কোরআান শরীফ নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাইয়েরা ও অন্যান্য স্বজন তাকে ইজিবাইকে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ভাবে হয়রানী ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলো। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার কারণে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ীতে যেতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। রবিবার দুপুরে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি আমার ভাইদের জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোজ নিব।

রিফাত/

পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং
ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙামাটির বিভিন্নস্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে শহরের শিমুলতলী এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম সারোয়ার খবরের কাগজকে জানান, টানা বর্ষণ শুরু হলেই আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রচার করি এবং তারা যেন বর্ষণ শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান না করে।

তিনি জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১টিসহ জেলায় ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি, লোকনাথ মন্দির এলাকা ছাড়াও আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণস্থানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে।

এএফ/