বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি। দোয়া ও মোনাজাত শেষে আবু সাঈদের বাবা-মাসহ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, রাকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম, সদর থানার ওসি এম এ ফারুকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, আইজিপি ময়নুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।
সভায় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য অন্যায়ভাবে আন্দোলনে আমার ভাইকে হত্যা করেছে তাদের বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অপরাধের জন্য শুধু বদলিই পুলিশের শাস্তি হতে পারে না।
তিনি বলেন, কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আগামী দিনে সেখানে এর চেয়ে আরও বড় অভ্যুত্থান হবে ও বেশি রক্তপাত ঘটবে।
সে সময় আইজিপি ময়নুল ইসলাম বলেন, অনেক পুলিশের কর্মকর্তা পেশাদারিত্ব ভুলে একটি দলের কর্মী হয়ে কাজ করেছেন। পুলিশদের কেবল বদলি করাই খুনের সাজা হতে পারে না। অনেক পুলিশ সদস্য অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ না করে কোনো না কোনো দলের হয়ে নিজেদের প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, খুনি শেখ হাসিনা একাই খুনি শেখ হাসিনা হতে পারত না। কেউ নীরবে কেউ সিন্ডিকেট করে তাকে খুনি হাসিনা হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। বিগত তিনটি সংসদের সব সদস্য ফ্যাসিস্টের দোসর। সে যে দলেরই হোক।