কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইমাম হোসেন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইমাম হোসেন ছাড়াও এই মামলায় জাহিদুল্লাহ ও অজ্ঞাত আরো একজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১২টার পর উপজেলার দৌলখারে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী মামলায় উল্লেখ করেছেন।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষ এ ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালকের চাকুরি করেন। ঘটনার দিন তার বাড়িতে অসুস্থ শাশুড়ি এবং দুই বছরে শিশুকন্যা ছাড়া আর কেউ ছিলনা। অভিযুক্তরা গৃহবধূকে ধর্ষণের পর তার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুল হক।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে যোগাযোগ করা হলে ওসি ফজলুল হক জানান, শুক্রবার মামলাটি হয়। অভিযুক্ত ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মামলায় উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত ইমাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত ইমাম হোসেন তাকে ধর্ষণের হুমকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক বারোটা দশ মিনিটের সময় ইমাম হোসেনসহ আরো দুজন বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা তার চুল কেটে ফেলে।এবং ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, 'পাশের বাড়ির ইমাম হোসেনের সঙ্গে আমাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন যাবত আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হুমকি ধমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছিল। চাকরির সুবাদে বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না, ঐদিনও ওই পরিবারের সঙ্গে আমার স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাতে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পর আমার স্ত্রীর চুল কেটে দিয়ে গেছে ওরা। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।'
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে আমি জানি। প্রাথমিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ শেষে এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। আমার ওসি সাহেবের সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে কথা হয়েছে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর বিধায় পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
জহির/মেহেদী/