বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৩৮ হাজার ৪৩৭টি খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে পরীক্ষার্থীরা, যা গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। গত বছর ২২ হাজার খাতা পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এ বছর ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এ দুই বিষয়ে ১৪ হাজার ২১১টি খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে, যা মোট আবেদনের ৩৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম তিনটি আবেদন পড়েছে খ্রিষ্টান ধর্ম বিষয়ে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ১৩ হাজার ২৬৪ শিক্ষার্থী ৩৮ হাজার ৪৩৭টি খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গণিতে ৫ হাজার ৪৮৯টি। এ ছাড়া ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ৪ হাজার ৩৬১টি, বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্রে ২ হাজার ৬৩টি। ভূগোল বিষয়ে ১ হাজার ২৪, হিন্দু ধর্ম বিষয়ে ২০৮, ইসলাম ধর্মে ২ হাজার ১০১, উচ্চতর গণিতে ১ হাজার ২৩৪, সাধারণ বিজ্ঞানে ১ হাজার ৬১৫, কৃষি গবেষণায় ১ হাজার ২১৬, পদার্থবিদ্যা বিষয়ে ২ হাজার ১৩৪, রসায়নে ২ হাজার ৩৯০, জীববিজ্ঞানে ২ হাজার ১৭৮, পৌরনীতিতে ৪৮৫, অর্থনীতিতে ১৩৯, ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা বিষয়ে ১৭০, হিসাববিজ্ঞানে ১৬৪, বাংলাদেশ গ্লোবাল স্টাডিজ বিষয়ে ২ হাজার ৮৩৬, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানে ৫১, ফিনান্স এবং ব্যাংকিংয়ে ২৯৫, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা বিষয়ে ১ হাজার ৬১১টি আবেদন পড়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮৪ হাজার ৭০২ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৬ হাজার ৭৫৮ জন। ফেল করেছে ৩৬ হাজার ১৭৩ জন। ছাত্র ২০ হাজার ৩০ জন, ছাত্রী ১৬ হাজার ১৪৩ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন।
বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘পরীক্ষার ফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনগুলো পড়েছে। কয়েক বছরের তুলনায় এবারের আবেদন সংখ্যা অনেক বেশি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন বেশি পড়েছে। কম আবেদন করেছে খ্রিষ্টান ধর্ম বিষয়ে। আমরা আগামী ১০ আগস্টের মধ্যেই খাতা পুনরায় যাচাই করে ফল প্রকাশ করব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনেক শিক্ষার্থী পাস করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ফেল করা ও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীরা খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা চ্যালেঞ্জের আবেদন করার সুযোগ পায়। ফল প্রকাশের পর দিন ১১ জুলাই থেকে খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন শুরু হয়। ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষনের আবেদন নেওয়া হয়েছে।