ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডিজিটাল নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস আদাবরে ‘বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে’ বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপের’ মতো দেখবেন মার্টিনেজ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য মুখোমুখি রোনালদো-মদ্রিচ: বিদায় নেবেন কে? মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস স্পেনের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট ইয়ামাল: দে লা ফুয়েন্তে বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: তেহরানের দুই টার্গেট এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার?

সিরাজগঞ্জের সড়কে হাট, দুর্ভোগে যাত্রী-পথচারী

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১২ এএম
সিরাজগঞ্জের সড়কে হাট, দুর্ভোগে যাত্রী-পথচারী
সড়ক বসেছে কৃষিপণ্যের হাট। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর কার্যালয়ের সামনের আঞ্চলিক সড়কে// খবরের কাগজ

সকাল সাড়ে ৭টা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর কার্যালয়ের সামনের আঞ্চলিক সড়ক ধীরে ধীরে ভরে উঠছে ধান ও সরিষার বস্তায়। আশপাশের চরাঞ্চল থেকে কৃষকরা নৌকা ও ভ্যান গাড়িতে করে ধান, গম, ভুট্টা আর সরিষার বস্তা আনছেন। একটু পরেই শুরু হলো দরদাম আর কেনাবেচার ধুম। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো সড়ক যেন হাটে পরিণত হলো। 

গত বুধবার সেখানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। তবে এই দৃশ্য নতুন নয়। প্রতি সপ্তাহের বুধবার ওই আঞ্চলিক সড়কটি হয়ে ওঠে কৃষিপণ্যের বড় হাট। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। তবে এই হাট শুধু কেনাবেচার আনন্দ নয়, সঙ্গে নিয়ে আসে দুর্ভোগ আর ঝুঁকি।

মেঘুল্লা চর, ক্ষিদ্রচাপড়ি, বাঙ্গা চর, ক্ষিদ্রমাটিয়া, জামতৈল, চরবেল, মেহেরনগর, দিগুলিয়া, সরদুল, গাপচাপড়ি ও বড়ধুল ইউনিয়নসহ অন্তত এক ডজন গ্রামের কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান-সরিষা এই হাটে নিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি টাঙ্গাইল ও আশপাশের জেলা থেকেও ব্যাপারীরা আসেন। ফলে এখানে জমে ওঠে লাখ টাকার লেনদেন।

ধান ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান, ‘আমি টাঙ্গাইলে পাঠানোর জন্য ৫০-৬০ মণ ধান কিনেছি। তবে রাস্তার ওপর হাট বসার কারণে আমাদেরও সমস্যা হয়। যেখানে থাকা উচিত মুক্ত চলাচল, সেখানে এখন বসছে হাট। নসিমন, ভ্যান, ট্রাক আর অটোরিকশা এলোমেলোভাবে রাখা হয়। ফলে যানজট লেগেই থাকে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।’ পথচারী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘হাটের দিন প্রচণ্ড যানজট হয়। আমাদের চলাচলে কষ্ট হয়।’ অটোরিকশাচালক ইয়াসিন বলেন, ‘ধান কেনাবেচার সময় রাস্তার ধারে গাড়ি খালে পড়ে যাওয়ার ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হয়।’

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ শহর, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক এবং এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে যাতায়াত করা হয়। হাট বসার দিনগুলোতে কয়েক ঘণ্টা যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। হাটটির কোনো সরকারি ইজারা নেই। অথচ প্রতি বস্তা ধানে ৩৫-৪০ টাকা, সরিষায় ৬০-৭৫ টাকা করে খাজনা তোলা হয় স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে। এক দিনে প্রায় ২০ লাখ টাকার কেনাবেচা হয়, অথচ সরকার পায় সামান্যই।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুজ্জান বলেন, ‘আমরা বহুবার হাট ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ আগ্রহ দেখাননি। এতে সরকারের বছরে কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, ‘আঞ্চলিক সড়কে হাট বসানো উচিত নয়। আমি আগে এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না, এখন জানলাম। ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাটটি অন্য কোথাও স্থানান্তরের সুযোগ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’


ধানের মৌসুমে কৃষকরা যেমন ভরসা খুঁজে পান এই হাটে, তেমনি সড়কজুড়ে হাট বসে যান চলাচল হয়ে ওঠে দুঃসহ। কৃষক ও ক্রেতাদের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি জনজীবনে যোগ হচ্ছে দুর্ভোগ। এখন প্রশ্ন- হাট কি সড়কের বিকল্প পাবে, নাকি এ দুর্ভোগ।

তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবিঃ খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলীতে রাতের আঁধারে একটি সরকারি গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৪০০ ফুট অংশ কেটে ফসলি জমিতে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাবুল দফাদারের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দুই গ্রামের মানুষের চলাচলে সমস্যা হওয়ায় বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোয়াপাড়া-মৌরভী সড়কটি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে মৌরভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোবাহানপাড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী, স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি ও কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান পথ। জনস্বার্থ বিবেচনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়কটি সংস্কার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক দিন আগে রাতে সড়কটির একটি অংশ কেটে ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। এতে হাজারো মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আসমা বেগম, মাওলানা এমাদুল হক ও মজিবর রহমান জানান, রাস্তা কেটে ফেলায় দুই গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল দফাদার ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়া বলেন, রাস্তা নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে রাস্তা সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বলে প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিউদ্দিন/হীরা

এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
এক রাতেই শেষ মৌসুমের ফসল
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে বিষ ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এক কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসল

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে বিষ ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এক কৃষকের ফসল। সবুজ ধানখেত পরিণত হয়েছে পুড়ে যাওয়া স্বপ্নে।

বুধবার (১ জুলাই) ভোরে কমলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার গোবর্দ্ধ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আতাউর রহমান এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আতাউর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে দেখেন তার ৩০ শতক জমির ধানে বিষ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো ক্ষেতের ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে জানান, ভোরের দিকে গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে মনির মিয়াকে জমির পাশ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অভিযুক্ত মনির মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে তার ধারণা।’

আতাউর রহমান বলেন, এই জমিতে ধান চাষ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ধান ঘরে তুলতে পারলে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ফসল পাওয়া যেত। ধার-দেনা করে চাষ করেছি। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মনির মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাকে হয়রানি ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এদিকে স্থানীয় কৃষক জহির মিয়া, মুকিদ মিয়া ও তনু মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্ত মনির মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন কৃষকের ফসল নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাতের আঁধারে বিভিন্ন সময় ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি করার কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমিতে এমন পরিকল্পিত নাশকতা শুধু একজন কৃষকের ক্ষতিই নয়; এটি সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘ইচ্ছাকৃত কৃষিজমিতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক কাজ। ধান দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে; স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, ধানের জমিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/

নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
নরসিংদীতে পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ছবিঃ খবরের কাগজ

নরসিংদীর রায়পুরায় সেলিম মিয়া (৪৫) নামে একজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। তিনি হত্যাসহ এক ডজন মামলার আসামি।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।
 
আসামি সেলিম মিয়া (৪৫) রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে ফেরিঘাটে স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার কারণে সৃষ্ট ভিড়ের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, একাধিক হত্যা, বাড়ি পুড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা রয়েছে। বিকালে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে থানার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের গাড়িটি সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

শাহিন/হীরা/

লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
লক্ষ্মীপুরের ২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগ
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে ২০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সরকারের বিশেষ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই উপজেলায় ১০ জন করে আনসার নিয়োগ করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বাড়বে।

একই সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনা ও হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছিল উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার্স ফোরাম।

সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ। একই সঙ্গে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের সব কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং রোগীরা কোনোরকম ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শতভাগ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনা শীষ মজুমদার বলেন, 'আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতো। যা চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করত। এখন সশস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আমাদের চিকিৎসক ও স্টাফরা নির্ভয়ে ও মনোযোগী হয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য ইউএইচএফপিও ফোরামের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।'

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। কমলনগরে ১০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্যের যোগদানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তায় ধন্যবাদ জানাই। প্রায়ই বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং চিকিৎসক-নার্সরা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ঝুঁকিতে থাকতেন। এই সশস্ত্র পাহারার ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং রোগীরাও নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশে সেবা নিতে পারবেন।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা নারীর বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করা রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন।

মামলায় ওই নারীসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

গত সোমবার তেঁতুলিয়া উপজেলার পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলের গ্রামপুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে লাইভ করেন তেঁতুলিয়া মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকে নানা হুমকি ধামকি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও থাকে পাওয়া যায়নি। 

রনি মিয়াজী/আজহার/