ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিলেটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ স্কুলছাত্র নিহত এখনো নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের আক্ষেপ ৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইংল্যান্ডের জ্যারেলকে লাল কার্ড দেখালেন কেন? মুখোমুখি রোনালদো-ইয়ামাল দুই প্রজন্মের লড়াই উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বদলের পথে বাধা বেলজিয়াম রূপকথা পেরিয়ে বাস্তবের পরাশক্তি মরক্কো ৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে নেইমার বললেন, ‘এখানেই শেষ’ মেসি মধু, এমবাপ্পে মৌমাছি ১ ঘণ্টা পিছিয়ে গেল মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে এমন হতাশার বিদায় ব্রাজিলের এশিয়ার বিদায়, টিকে আছে আফ্রিকা কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ কে? এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ: রোনালদো ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় ফিফাকে ধন্যবাদ দিলেন ট্রাম্প পেনাল্টি মিসে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলহীন ব্রাজিল ব্রুনোর পেনাল্টি মিসে গোলবঞ্চিত ব্রাজিল উপহারের ১০ লাখ ডলারের রোলেক্স ঘড়ি ফেরত দিল মেক্সিকো নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার লাল কার্ড দেখা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল ফিফা ‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা চিংদাও উপকূলে যৌথ মহড়ায় নামছে চীন ও রাশিয়া চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু

পটিয়ায় মহিষ চরানো নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
পটিয়ায় মহিষ চরানো নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা
নিহত মো. হাসান বাবু। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. হাসান বাবু (১৬) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের কুরানগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের ঢালের একটি বিল থেকে হাসান বাবুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর শুনে ছুটে গিয়ে একমাত্র ছেলের রক্তমাখা লাশ দেখে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পুলিশ জানায়, মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রবিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কুরানগিরি গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতার মার খালের ঢালে হাসান বাবুকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়।

হাসান বাবু কুরানগিরি গ্রামের মো. আমিনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা আকতারের একমাত্র ছেলে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন (২০) কে দিবাগত রাত ১টার দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাররাহুম আহমেদের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কয়েকজন মিলে হাসানকে হত্যার পর খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে লিমনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পটিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন ধরে গ্রামের ফোরকান নামের এক ব্যক্তির ১১টি মহিষ পাশের বিলে চরাত কিশোর হাসান। রবিবার সকাল ৭টার দিকে মহিষগুলো নিয়ে সে কুরানগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের পাশের বিলে যায়। দুপুরে বাড়িতে এসে ভাত খেয়ে আবার মাঠে ফিরে যায়।

সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় মা ও স্বজনেরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চৈতার মার খালের ঢালে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তার শরীরে মাটি লেগে ছিল, নাক-মুখে রক্ত এবং গলায় একাধিক নখের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের রোগে ভুগছেন। তার ছেলে হাসান বাবুই ছিল তার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন সকালে উঠে তাকে গরম পানি দিত, চা-নাশতা করে খেতে দিত।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘‘আমার একমাত্র ছেলেকে ফেলে আমি কীভাবে থাকব। আল্লাহর কাছে বিচার চাই, যারা আমার ছেলেকে মেরেছে তাদের শাস্তি চাই।’’

তিনি আরও জানান, হাসান বাবুর আগে তার আরও দুই ছেলে জন্মের পর মারা যায়। হাসানই ছিল তার শেষ সন্তান।

পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আলভী/মাহফুজ

 

সিলেটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ স্কুলছাত্র নিহত

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
সিলেটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ স্কুলছাত্র নিহত
নিহত তিন কিশোর/ ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলো, উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নয়াবস্তি গ্রামের মহরম মিয়ার ছেলে সাকিব আহমদ (১৬), একই ইউনিয়নের ছৈলাখেল গ্রামের হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়ার ছেলে রায়হান আহমেদ ওরফে রাহুল (১৬) এবং লাখেরপাড় গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার ছেলে জয় (১৬)। তারা সবাই স্থানীয় আমির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রাধানগর বাজারের দিকে যাওয়ার পথে তাদের দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাকিব আহমদের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টায় ও অপরজন রাত ৯টায় মারা যায়।

তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, নিহত তিন কিশোর সহপাঠী ছিল। পরীক্ষা শেষে তারা মোটরসাইকেলে জাফলং চা বাগান এলাকায় ঘুরতে যায়। রাধানগর বাজারের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায়। অপর দুইজনের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আরেকজন নূরজাহান হাসপাতালে মারা যায়।

তামান্না রুপা/

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে।

এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের (৪) মৃত্যু হয়। এতে নিখোঁজ একজন।

পাহাড়ধসের এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

ডলার ত্রিপুরা বলেন, ১৫ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরও কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের তথ্য আসে। পরে ১১ নম্বর ক্যাম্পে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। 

তারা হলেন, আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

এছাড়া কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাতে পাহাড়ি ঢল ও মাটিচাপায় সাত বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রিদুয়ানুল হক/অমিয়/

চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মো. রিমন (১৯) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের নুর পাটওয়ারীর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রিমন ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। নুর পাটওয়ারী তাদের প্রতিবেশী।

স্থানীয়রা জানান, রিমনের মা ফাতেমা বেগম প্রায় দেড় বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর রিমন বখাটেদের সঙ্গে মিশে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। মা তাকে শাসন করলে তিনি উল্টো গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রিমনের খোঁজ নিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, রিমন স্থানীয় বাজারে গেছে। এরপর আর কোনো খবর পাইনি।’

রিমনের চাচা এমরান হোসেন লিটন জানান, রবিবার সকালে প্রতিবেশী নুর পাটওয়ারীর ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে বসতঘরের জানালা খোলেন। ভেতরে রিমনকে আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘রিমনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ফয়েজ/রিফাত/

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উখিয়া উপজেলার ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোহাম্মদ শফিক (৬) একই এলাকার বাসিন্দা মুহিব উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জলাধারে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি নালা ও খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, রবিবার বিকেলে ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের একটি জলাধারের পাশে মোহাম্মদ শফিকসহ কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ঢলের পানিতে শফিক ভেসে যায়। পরে অন্য শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক আরও জানান, খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তরিকুল/রিফাত/

আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করা হয়।

হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন চামুরকান্দি এলাকা থেকে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে পেটব্যথার চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ব্যথার ইনজেকশন হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বললে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লাকে ফোন করেন। পরে ইউসুফ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতা-কর্মী হাসপাতালে এসে চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের মারধর করেন। এ সময় ওই চিকিৎসক দৌড়ে হলরুমে গিয়ে আশ্রয় নিলে তাকে দ্বিতীয় দফায় ধরে এনে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী, একই পদে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, ঘটনাস্থলে এলে তাকেসহ আব্দুল্লাহ আল কামালকে আটকে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে যান। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে কোনো সমস্যা হতেই পারে। তবে এভাবে মব সৃষ্টি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।

বিল্লাল/রিফাত/