টানা বৃষ্টি আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর সেই ভোগান্তির মধ্যেই স্নাতক (সম্মান) ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কলেজের ডিগ্রি শাখায় শিক্ষার্থীদের জলাবদ্ধ ক্লাসরুমে বসে এবং বেঞ্চের ওপর পা তুলে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়।
শুধু তাই নয়, পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের জন্য তিন ফুট উঁচু টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কলেজের ডিগ্রি শাখার কলা ভবন ও ব্যবসায় অনুষদ ভবনের নিচতলায় পানি জমে গেছে। তিন দিন ধরে পানি জমে থাকলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই সেখানে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা শুরু করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন।
পরীক্ষার্থী সামিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষার হলে ঢোকার জন্য আমাদের উঁচু টেবিল পার হতে হয়েছে। এটি যেমন লজ্জাজনক, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় পা পিছলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কলেজের কি বিকল্প কোনো কক্ষ ছিল না?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক জানান, এটি স্পষ্টত পরীক্ষা কমিটির সমন্বয়হীনতা। ক্যাম্পাস তিন দিন ধরে পানির নিচে থাকলেও কোনো বিকল্প পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, কেউ কেউ বেঞ্চে পা তুলে খাতা আগলে রাখার চেষ্টা করছেন।
যা বললেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাশার ভুঁইয়া
ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাশার ভুঁইয়া বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় তলার কক্ষে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিসিক শিল্প এলাকা ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকায় কলেজে এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বরাদ্দ সত্ত্বেও কাজ নেই। ড্রেন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।’
কলেজের শিক্ষার্থীরা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসকে বন্যামুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
জহির/এসজি/