নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (ব়্যাব)-১১। ফতুল্লা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ব়্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলাম এবং একই এলাকার মো. রনি।
ব়্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নারী নাজমুলদের বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। গত ১৮ জানুয়ারি রাতে নাজমুল ও তার বন্ধুরা মিলে তার স্বামীকে আটকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ওই নারী নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটির পর ব়্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা নজরদারির পর বৃহস্পতিবার নাজমুলকে পূর্ব লামাপাড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ধ্যায় আরেক অভিযানে গাজীপুর থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব়্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'মূলত নাজমুল ও রনি ওই নারীর স্বামীকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের পর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ১৮ জানুয়ারি রাতেই জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ তাদের অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা নেয়নি। এমনকি তৎক্ষণাৎ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করেনি। ঘটনার আট দিন পর গত মঙ্গলবার ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষণের মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিকেলে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা কমিটির সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা। এ সময় তিনি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিল্লাল হোসাইন/জোবাইদা/