বাবা,
এখন প্রায় এডেনের কাছাকাছি এসেছি। এ পর্যন্ত সি সিকনেস হয়নি। কেবল পরশু সকালে একটু বমিভাব হয়েছিল। স্টিমারে বন্দোবস্ত খুবই ভালো, কোনো রকম অসুবিধা হয় না। এ কয়দিন পোশাক পরা, টাই বাঁধা এসবও অনেকটা অভ্যেস হয়ে এসেছে। এখন আর বেশি দেরি হয় না। স্টুয়ার্ড কেবিনের মধ্যে খাবার এনে দেয়, কারণ স্টিমারে খাওয়া এত জবরজং যে, আমার ডিনার সেলুনে যেতেই ইচ্ছে করে না। মেনু থেকে বেছে দু-একটা সহজ ডিশ আনতে বলি। পোরিজ, স্ট্রু, রুটি, পুডিং এসবই বেশি খাই কখনো একটু কাটলেট বা রোস্টও আনতে বলি। হেভি মিল দিনে তিনবার। ব্রেকফাস্ট ৯টায়, লাঞ্চ ১টায়, ডিনার সন্ধ্যার সময়। তা ছাড়া দুবার টি আছে- ভোরে ও বিকালে। আমি এর মধ্যে লাঞ্চ প্রায়ই বাদ দিই। সে সময় একটু দুধ কি ব্রদ- এই খাই। রান্না বেশ চমৎকার।
এ কয়দিন একটুও গরম বোধ করিনি। বরং মোটের ওপর ঠান্ডাই বোধ হয়, তবে রেড সি-তে গেলে কী হবে জানি না। সমুদ্র তো খুব শান্ত। বোম্বে থেকে টেলিগ্রাম করাবার জন্য কুকের লোককে টাকা এবং রিটেন ইনস্ট্রাকশান দিয়েছিলাম। পাঠিয়েছিল কি?
স্টিমারে উঠবার সময় কোনো রকম মুশকিল হয়নি। কুকের লোকেই মুটে ডেকে গাড়ি ঠিক করে বন্দোবস্ত করে দিল। আমি খালি আমার জিনিসগুলো তাদের দেখিয়ে দিলাম। স্টিমারো এসে দেখি সব ঠিকঠাক। ট্রেনে একটু খারাপ লেগেছিল। কিছু খেলেই বমি আসত। খালি লেমনেড আর একটু ফল কিনে খেয়েছিলাম। ডাইনিং কারে ব্রেকফাস্ট খেতে গিয়েছিলাম কিন্তু একটু খেয়েই বমিবমি বোধ হলো তাই আর খেলাম না। আমার কেবিনে আর একজন আছে যে পার্শি, নাম সাবাওয়ালা। বেশ লোক। সেই যে ট্রেনে একজন সাহেব ছিল আমাদের কম্পার্টমেন্টে, তার নাম সেই কি টোপাগ্লো না কি সেও বেশ মানুষ। সে কনস্ট্যানটিনোপলে যাচ্ছে, সে অনেক গল্প করল। সে বোধ হয় বুলগেরিয়ান কারণ বুলগেরিয়ার অনেক গল্প করল।
তোমরা সব কেমন আছো?
আমি বেশ আছি।
স্নেহের তাতা।
P&O S.N.Co.
S.S Arabia
11.10.11
১৯১১ সালের অক্টোবর মাসে ২৩ বছর বয়সে গুরুপ্রসন্ন বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডের লন্ডনে যান সুকুমার রায়। লন্ডন যাওয়ার পথে জাহাজ থেকে বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীকে লেখা সুকুমার রায়ের একটি চিঠি।
মোহনা জাহ্নবী