আচ্ছা তোমরা কি পরিযায়ী পাখির নাম শুনেছ? কিংবা অতিথি পাখি। যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ভ্রমণ করে। পরিযায়ী শব্দের অর্থ যাতায়াতকারী বলা যায়। পরিযায়ী পাখি বলা হয় সেসব পাখিকে যারা বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করে। বাসস্থান ও খাবারের তাগিদে তারা ভ্রমণ করে। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়। পাহাড়, সমুদ্র, বন পাড়ি দিয়ে তারা অন্য দেশে যায়। এভাবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াও এক ধরনের বিস্ময়। চলো জেনে নিই কেন, কীভাবে পাখিরা পরিযায়ী হয়।
পাখিরা মূলত খাবারের খোঁজে ভ্রমণ করে। যখন শীতকাল আসে তখন তারা একটু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বা তুলনামূলক গরম অঞ্চলে পাড়ি জমায়। উষ্ণ অঞ্চলে ভালো খাবার পাওয়া যায়। তা ছাড়া থাকার নিরাপদ আবাসস্থলও মেলে। তাই বরফে ঢাকা অঞ্চল থেকে উষ্ণ অঞ্চলে তারা পাড়ি জমায়। পাখিদের কাছে ক্যালেন্ডার কিংবা ঋতু পরিবর্তনের পঞ্জিকা না থাকলেও তারা বুঝতে পারে কখন বাসস্থান পাল্টাতে হবে। যখন দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয়ে আসে, তাপমাত্রা কমে যায়, ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়া শুরু করে, খাবার সরবরাহে পরিবর্তন ঘটে তখনই তারা বাসস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিযায়ী পাখিরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়- এটিও এক বিস্ময়। তারা দলবেঁধেই একটানা চলতে থাকে। বিনা বাধায় মরুভূমি ও সমুদ্রের মতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়। তারা দলবেঁধে উড়ার সময় ইংরেজি ‘V’ আকৃতির হয়ে উড়ে। পাখিরা তাদের গন্তব্য খুঁজে পেতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। কেউ কেউ ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে পথ চলে। ঘ্রাণশক্তি দিয়ে তাদের গন্তব্য খুঁজে বের করতে পারে এবং নিজস্ব মানচিত্রও বানিয়ে ফেলে। তারা সূর্য ও চাঁদ-তারা ব্যবহার করে কম্পাস তৈরি করে। দিনের বেলায় তারা সূর্যের অবস্থান ব্যবহার করে পথ অনুসরণ করে। আবার রাতে তারার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে পথ চলে। আবার পাখিরা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অনুভব করতে পারে। তাদের চোখে বা মস্তিষ্কে চৌম্বকীয় দিকনির্দেশনা অনুভব করে। এমনকি সম্পূর্ণ অন্ধকার বা মেঘলা আবহাওয়াতেও, তারা সঠিক পথে উড়তে পারে।
আবার অভিজ্ঞ প্রাপ্তবয়স্ক পাখিরা নদী, পাহাড়, উপকূলরেখা এবং এমনকি গন্ধও মনে রাখে। ভূগোলের পরিবর্তন শনাক্ত করতে তারা বাতাসের ধরন এবং বায়ুচাপও ব্যবহার করে। এভাবে পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দেয়। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায়। যেমন আমুর ফ্যালকন নামে পাখিরা মঙ্গোলিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪ হাজার কিমি পথ পাড়ি দিয়ে যায়। বাংলাদেশেও শীতকালে বরফ অঞ্চল থেকে পাখিরা আসে। কালো মানিকজোড়, কালো হাঁস, কালোঘাড় সারস’সহ বিভিন্ন নামের পাখি বাংলাদেশে বেড়াতে আসে।
তোমরা হয়তো ভাবতে পারো এত দীর্ঘ সময় তারা কীভাবে খাবার খায় বা শক্তি পায়। পরিযায়ী হওয়ার আগে, পাখিরা তাদের স্বাভাবিক খাবারের দ্বিগুণ বা তিনগুণ খায়। তারা তাদের ত্বকের নিচে চর্বি জমা করে রাখে, যা উড়ার জন্য শক্তির হিসেবে কাজ কর। পাখিরা দ্রুত চলাচলের জন্য এবং বিপরীতমুখী বাতাস এড়াতে লেজের বাতাস ব্যবহার করে। অনেক ছোট পাখি রাতে পরিযায়ী হয় যখন বাতাস ঠাণ্ডা এবং শান্ত থাকে। এটি তাদের শিকারি এবং অতিরিক্ত গরম এড়াতে সাহায্য করে। দিনের বেলায় তারা নিরাপদ জায়গায় বিশ্রাম নেয় এবং খাবার খায়।