ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির কাঁধে এমবাপ্পের গরম নিশ্বাস বেরোবিতে জুলাই শহিদদের স্মরণে ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন এনসিপি নেতা ভূমি অফিসের দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন, অডিও ভাইরাল ক্রিপ্টো থেকেই বছরে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার বিলুপ্তির পথে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ গিটারফিশ ফ্রি কিকে গোল, কে এই মার্কিন গোলস্কোরার? বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না? নকশাদার উল্কি গান্ধিপোকা মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী আগামীতেও  পথ দেখাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কেন মাঠ ছাড়তে হলো মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে? লোকোমোটিভ, ক্যারেজসংকট: ২৬৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেলওয়ে পাসিংয়ের শিল্প ও প্রেসিংয়ের ঝড় শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র? ২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার মরুর যোদ্ধাদের সামনে সুইস দেয়াল টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন

আলু-পেঁয়াজের দাম কমলেও ঝিম ধরে আছে চাল-মাংস-মাছ

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৮ এএম
আলু-পেঁয়াজের দাম কমলেও ঝিম ধরে আছে চাল-মাংস-মাছ
ছবি : সংগৃহীত

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা কমে ৬০-৭০ টাকা কেজি হয়েছে। আলুর দামও ১০ টাকা কমেছে। বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। তবে ধানের ভরা মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। আগের মতোই আছে আদা, রসুনের দাম। সবজির মধ্যে টমেটোর দাম কমলেও কপি, বেগুনের দাম কমেনি। স্থিতিশীল ডিম, মাছ ও মাংসের দাম। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য জানা গেছে। 

কমেনি চালের দাম: ভোটের অজুহাতে চালের দাম বাড়লে সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পরও কমেনি চালের দাম। বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে এখনো মিনিকেট ৭০ টাকা, ২৮ চাল ৫৪-৫৫ টাকা ও মোটা চাল ৫০-৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে আকিজ, প্রাণ, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত মিনিকেট আরও বেশি ৯০ টাকায় বিকোচ্ছে। এ ছাড়া আগের মতোই পোলার চাল ১৪০-১৫০ টাকা কেজি।

কমেছে আলু-পেঁয়াজের দাম

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা। কারওয়ান বাজারের হালিম বলেন, পেঁয়াজ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ৮০-৯০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। এই খুচরা বিক্রেতা বলেন, আগের সপ্তাহে ৫৫-৬০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন মোকামে পাইকারিতে দাম কমার কারণে খুচরা পর্যায়ে কমছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন বাজারে মানভেদে আদা ও রসুন আগের মতোই ২২০-২৪০ টাকা কেজি দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, দেশি রসুন না উঠা পর্যন্ত দাম কমবে না।

সবজি বিক্রেতারা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গত সপ্তাহ থেকে বেড়ে গেছে সবজির দাম। পাতা ও ফুল কপি ৪৫-৫০ টাকা পিস, বেগুন ৬০-৮০ টাকা কেজি। এ সপ্তাহে টমেটোর দাম কমে ৪৫-৫০ টাকা হয়েছে। গাজর, পটোল ও করলা ৪০-৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, মরিচ ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক, পালং শাকের আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ঝিম ধরে আছে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম : বিভিন্ন বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, গরুর মাংস এখন ৭০০ টাকা কেজি। মোহাম্মদপুর টাউন হলের জহির অ্যান্ড জাহিদ মাংস বিতানের আ. রশিদ বলেন, গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১০৫০-১১০০ টাকা কেজি। 

সপ্তাহের ব্যবধানে কমেনি মুরগির দাম। কারওয়ান বাজারের ভাই বন্ধু ব্রয়লার ও অতিথি ব্রয়লার হাউসের মুরগি বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই এ সপ্তাহে পোলট্রি ২০০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০-৫৩০ টাকা কেজি। ডিম ব্যবসায়ীরাও জানান, গত সপ্তাহের মতোই ডিমের দাম। সাদা ডিমের ডজন ১২৫ টাকা ও লাল ডিম ১৩০-১৩৫ টাকা ডজন। 

খাল-বিলের মাছের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। আগের মতো দামেই মাছ বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান রুই, কাতলা মাছ আকারভেদে ২৬০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০-১০৫০ টাকা, শিং ৫০০-৬৫০ টাকা, মলা ৪০০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, কৈ ২৫০-৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০-৭০০ টাকা, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা এবং ইলিশ মাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় সাইজের ইলিশ মাছের কেজি ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। 

আগের মতোই ছোলার দাম ১২০ টাকা: ভোটের আগে হঠাৎ করে ছোলার দাম বেড়ে গেছে। তাই বেশি দামেই সাদা ছোলা ১১০-১২০ ও কালোটা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সরকার চিনির দাম ১৪৮ টাকা কেজি বেঁধে দিলেও সহজে পাওয়া যায় না। কোথাও কোথাও প্যাকেট চিনি পাওয়া গেলেও ১৫০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। ২ কেজি আটা ১২০ টাকা, ডাল ১১০-১৪০ টাকা কেজি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৮২০-৮৪৫ টাকা, ২ লিটার ৩৪০ ও ১ লিটার ১৭৩ টাকা। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বেশি। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

শুধু জুন মাসেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় জুনে অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এদিকে, বকেয়া ও ডেকোরেট, ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে চলতি অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে মোট ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে ৫৯০ কোটি টাকা এবং ডেফার্ড পেমেন্ট থেকে ৪২৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা থেকে কোনো বকেয়া আদায় হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া ২৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থেকে কমে ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যেখান থেকে আদায় হয়েছে ২৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে পাওয়ার গ্রিড থেকে ১০৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, সামিট এলএনজি থেকে ৩৭ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পুলিশ থেকে ২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের অনুমানিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ বা ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে দেশের বৃহত্তর এ শুল্ক স্টেশনের। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারি কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নানা সংকটের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা খুবই সন্তোষজনক। এতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা খুবই খুশি। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বকেয়া রাজস্ব আদায় করা গেলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তো। সামনে আমাদের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা বকেয়া আদায়ের জন্য। 

এসএন/

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
ছবি: এআই

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। তবে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এর আগে গত মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা এক মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এ ছাড়া গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা ওই সময় পর্যন্ত কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল।

এসএন/

সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব ও অন্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে ‘এ’ চালান (অটোমেটেড চালান) বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার ১ জুলাই থেকে এটি বাধ্যতামূলক বলে গতকাল মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালানব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ‘এ’ চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ‘এ’ চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে ‘এ’ চালানব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। সাত অর্থবছরে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগের মতে, ‘এ’ চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ’ চালানব্যবস্থায় অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হওয়ায় হিসাব মিলানোর সময় ও ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এ ছাড়া ‘এ’ চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর রিয়েল-টাইমে রাজস্ব আদায় ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। চালান যাচাইব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে চালানের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও কমছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

‘এ’ চালান বা অটোমেটেড চালান হলো সরকারি রাজস্ব, কর এবং বিভিন্ন সেবা ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার একটি ওয়েবভিত্তিক পদ্ধতি। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এই সিস্টেমের মাধ্যমে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো যায়।

চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা
বিক্রির জন্য সরবরাহে রাখা হয়েছে চিনিগুঁড়া চাল। ছবিটি নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি মুদি দোকান থেকে তোলা মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রামে মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়েছে। এমন অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় অবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের খোদ পাইকারি চাল বিক্রেতারা। তারা এমন পরিস্থিতির জন্য মিলার ও করপোরেট খাতের সাত প্রতিষ্ঠানের সিন্ডেকেটকেই দায়ী করছেন।

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চায় ক্যাব। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার এই সংগঠনটির নেতারা। 

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের পর চড়ে যায় বাজার। ঈদের পরপরই পাইকারিতে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। সম্প্রতি খবরের কাগজের বাজারদর তদারকিতেও পণ্যটিতে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২৪ জুন পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চাল ১৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ২৫ জুন কেজিতে দাম আরও বেড়ে ঠেকে ১৭০ টাকায়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে একই দাম বহাল রয়েছে। 

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী ও চাক্তাই এলাকায় পাইকারি দামে চাল বিক্রি হয়। চিনিগুঁড়া চালের বর্তমান দাম দেখে অবাক খোদ পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যবসায়িক জীবনে দাম এতটা বাড়তে দেখেননি বলে জানান। এই পরিস্থিতির জন্য তারা কিছু মিলমালিক, করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন। 

কারসাজির নেপথ্যে সাত প্রতিষ্ঠানকে দায়ী 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজা খান দাবি করছেন, নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিল ও বেলকন গ্রুপ, কুষ্টিয়ার মজুমদার গ্রুপ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব অটো রাইসমিল এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিডি, প্রাণ, ইস্পাহানি সিন্ডিকেট করে চালটির দাম বাড়াচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আমার এই ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এভাবে হঠাৎ করে এত বেশি দাম বাড়তে দেখিনি। কিছু শিল্প গ্রুপ ও মিলমালিক মিলে একটা বড় ধরনের ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এরপর আমাদের পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, লাভ ইত্যাদি বিবেচনায় নিতে হয়। তখন দাম আরও বেড়ে যায়।’ 

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজারে চিনিগুঁড়া চালের সরবরাহ আছে, তবে পরিমাণে কম। কিন্তু কিছু মিলার ও করপোরেট গ্রুপ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। তাই এর প্রভাব আমাদের এখানে পড়েছে। দাম কমার তো কোনো লক্ষণই দেখছি না। বরং দিনে দিনে পণ্যটির দাম বাড়ানো হচ্ছে।’ 

চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চাল কয়েকটি গ্রুপ মিলে নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে খুশি দাম বাড়াচ্ছে। এক কথায়, সুযোগ বুঝে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। 

দাম বাড়ার কারণ ও সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর মেসার্স হাজি আবদুর রহমান অটো রাইসমিলের মালিক মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এই চাল রপ্তানি হয়েছে। এ কারণে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, দাম বাড়তি। আগামী পৌষ মাসে নতুন চাল বাজারে উঠবে। এই সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে চালটি বিক্রি করতে হয়। এ কারণে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়। এটিকে সিন্ডিকেট বলা যাবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এমনটা করা হয়। কারণ ব্যবসায়ীকে তো সারা বছর ব্যবসা করতে হবে। যখন মজুত শেষ হয়ে যায়, তখন সবাই কম বিক্রি করার জন্য দাম বাড়িয়ে দেন। 

বেলকন গ্রুপের মালিক বেলাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। তাই সব চাল রপ্তানি হয়েছে। আর কোনো কারণ নেই। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তোলা সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। 

প্রাণ গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল খবরের কাগজকে বলেন, চিনিগুঁড়া চালের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। তাই এই চাল রপ্তানিতে অনেক সময় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাঝে মাঝে বছরে এক থেকে দুবার নির্ধারিত পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। রপ্তানি বাজারে এই চালের ভালো একটা চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় এই চালের চাহিদা বেশি। 

তিনি বলেন, যেহেতু এটা উৎপাদন কম হয়, কৃষকপর্যায়ে ধানের দামের ওপর নির্ভর করে চালের দাম নির্ধারিত হয়। আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করেছি। এখন বাজারে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, ধানের দাম বেড়েছে। ফলে সবাইকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

করপোরেট গ্রুপের সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নই। আপনি যদি পুরো বাজার দেখেন, করপোরেটের হাতে চালের বাজার যায়নি। পুরো বাজারের ২ থেকে ৩ শতাংশ চাল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। তাহলে করপোরেট প্রতিষ্ঠান তো চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের স্বাভাবিক একটা চর্চা রয়েছে, অন্যের দিকে আঙুল তুলে নিজে ভালো হয়ে যাওয়া। এখানেও তাই হয়েছে। বাংলাদেশে চালের বাজারে কিছু নিয়ন্ত্রণ আছে। লাইসেন্সিং, রিপোর্টিংয়ের ইস্যু আছে। আমরা কতটা চাল মজুত করতে পারব, সবকিছু খাদ্য অধিদপ্তরকে হিসাব দিতে হয়।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, সরকার বাজার তদারকি না করলে সমস্যা আরও জটিল হবে। করপোরেট গ্রুপ বারবার সিন্ডিকেট করছে। অবশ্যই তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশের বাইরে আছেন বলে জানান।

পরে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। পণ্যের দামে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পেলে অবশ্যই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায় যে-ই করুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ 

উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড়
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ব্যাংক খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমাতে এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় (এক্সিট সুবিধা) দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন মন্দ বা খেলাপি ঋণের পুরো টাকা এককালীন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হতে পারবেন গ্রাহকরা। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ব্যাংক ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে আগের কঠোর শর্ত শিথিল করা হয়েছে। মূলত ব্যাংকগুলোর আদায় অযোগ্য ঋণ কমিয়ে আনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদহার কমাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান নতুন করে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। 

গত সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে তা পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব খেলাপি ঋণ অনাদায়ী পর্যায়ে চলে গেছে, ব্যাংক চাইলে সেসব ঋণের আসল অংশটুকু আদায় করে পুরো সুদ মওকুফ করে দিয়ে হলেও সেই ঋণদাতাকে এক্সিট সুবিধা দিতে পারবে। এত দিন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংকগুলোর পক্ষে এই সুবিধা দেওয়ার সুযোগ ছিল কম।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণ এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে এই সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে এবং তা নির্ধারিত হবে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো আবশ্যক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে, তাদের এককালীন বিশেষ এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। এতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে, যা দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মন্দ বা ক্ষতিকর মানের যেসব ঋণ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেই ঋণ এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় বিশেষ এক্সিট সুবিধা পাবে। এ ছাড়া বিশেষ এক্সিট দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণকে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই বিশেষ নীতিমালার সুবিধা ও নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আড়াই বছর আগে বাতিল করে দেওয়া আমানত ও ঋণের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধানসীমার বা স্প্রেডের বিধান ফিরিয়ে আনল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান বা স্প্রেড হতে হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সকল ঋণের সঙ্গে আমানত সুদহারের ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে, ব্যাংকগুলো যে সুদহারে আমানত সংগ্রহ করবে তার গড় সুদ ও ঋণ বিতরণের গড় সুদহারের মধ্যে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। যদিও বর্তমানে বেশির ভাগ ব্যাংকের তহবিল খরচই সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশের ওপরে।

বর্তমানে দুটি ছাড়া কোনো বেসরকারি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই। নতুন নিদের্শনা জারি হওয়ার পর থেকেই কার্যকর করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২০ সালে ব্যাংকে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার সময় মূলত স্প্রেড অকার্যকর হয়ে যায়। পরবর্তী সময় আন্তর্জাতিক চাপে ধাপে ধাপে ঋণের সুদহার সীমা বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্প্রেডসীমা সার্কুলার দিয়ে স্থগিত করা হয়। সবশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণ সুদহার বাজারভিত্তিক করা হলেও কোনো স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অনেক ব্যাংকের আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার অধিক হারে নির্ধারণের ফলে গড়ভারিত অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসা-শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই অবস্থায় উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য আপনাদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলোকে হয় আমানত সুদহার বাড়াতে হবে, নয়তো ঋণ সুদহার কমিয়ে আনতে হবে।