ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পে-স্কেল বাস্তবায়নে দফায় দফায় বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম ভ্যাঙ্কুভারে ইউরোপ-লাতিন লড়াই সাম্বা নেই, সাফল্যও নেই সমতা ধরে রাখতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমার্ধে এগিয়ে বেলজিয়াম কেটেলারের গোলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম বালোগুনকে নিয়ে নামছে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়ামের বেঞ্চে ডোকু-ডি ব্রুইনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ স্পেনের জোড়া বিশ্বরেকর্ড কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? চোখের জলে শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন, পর্তুগালের বিদায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য পর্তুগাল-স্পেন বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল মিরপুরে অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ তুরস্ককে এফ-৩৫ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর আহ্বান জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আদা চাষে বদলে যাচ্ছে চান্দোপাড়ার নারীদের জীবন

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
আদা চাষে বদলে যাচ্ছে চান্দোপাড়ার নারীদের জীবন
আদাখেত পরিচর্যা করছেন এক নারী। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম চান্দোপাড়া। একসময় কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই সীমিত। এখন ওই গ্রাম পরিচিত ‘আদা গ্রাম’ নামে। উঠানজুড়ে সারি সারি বস্তায় দুলছে সবুজ আদা গাছ। আর ওই চাষের হাল ধরেছেন নারীরাই। এতে বদলে গেছে গ্রামীণ জীবনের চিত্র। সংসারের আয় বেড়েছে, তৈরি হয়েছে পুষ্টি বাগান ও সমবায় সংগঠন, বেড়েছে নারীদের সামাজিক মর্যাদা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চান্দোপাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবার বস্তায় আদা চাষে যুক্ত হয়েছে। কেউ ২০০, কেউ ৩০০, আবার কেউ ৫০০ বস্তায় আদা লাগিয়েছেন উঠানে। কৃষি অফিসের হিসাবে চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার বস্তায় আদা চাষ হয়েছে গ্রামটিতে। শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১ হাজার বস্তায়।

শুধু আদা নয়, নারীরা এখন চাষ করছেন তেজপাতা, গোলমরিচ, এমনকি দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মসলা চুইঝালও। ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে তারা তৈরি করেছেন পারিবারিক পুষ্টি বাগান, সবজি চাষের মাচা, পেঁয়াজের বীজতলা ও জৈবসার উৎপাদনের ভার্মি কম্পোস্ট হাউস। ফলে প্রতিটি বাড়িই এখন কৃষি উৎপাদনের অংশ হয়ে উঠেছে।

চান্দোপাড়ার নারীরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের সমিতি। মাসে মাসে নিয়মিত সঞ্চয় করছেন। কৃষিযন্ত্র- মিনি টিলার, স্প্রে মেশিন, ড্রায়ার ভাড়া দিয়ে আয় করছেন। আবার প্রয়োজনে একে অপরকে স্বল্প সুদে ঋণও দিচ্ছেন। সব লেনদেন হয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে, মাসিক সভায় তৈরি হয় রেজল্যুশন। কৃষিবিষয়ক নিয়মিত প্রশিক্ষণও পাচ্ছেন তারা।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদিজাতুজ্জোহরা নিয়মিত তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘চান্দোপাড়ার নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল। সামান্য সহায়তা পেয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু তাদের পরিশ্রম ও আগ্রহই মূল শক্তি। তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বস্তায় আদা চাষে সফল হয়েছেন।’

পার্টনার ফার্মাস সার্ভিস সেন্টারের সভানেত্রী সাবিনা বেগম বলেন, ‘আগে আমরা শুধু গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। এখন সংগঠিত হয়ে আদা চাষ করছি। সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে, আবার পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবারও নিশ্চিত করতে পারছি। এ জন্যই এখন সবাই আমাদের গ্রামকে আদা গ্রাম বলে চেনেন। ভবিষ্যতে এটিকে আমরা মসলা গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

চান্দোপাড়ার মরিয়ম বেগম জানান, তার স্বামী রিকশাচালক। একার আয়ে সংসার চলত না। অভাবে ঋণে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল। মরিয়ম বলেন, ‘দুই বছর আগে উঠানে আদা চাষ শুরু করি। ভালো আয় হয়। ঋণ পরিশোধ করেছি। এখন নিজের আয়েই সংসার ভালোভাবে চালাচ্ছি।’

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে মাত্র এক হাজার বস্তায় আদা চাষ হয়েছিল। এখন তা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারে। এ সাফল্য শুধু চান্দোপাড়ার নয়, পুরো উপজেলায় নারীর ক্ষমতায়নের এক দৃষ্টান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘চান্দোপাড়ার নারীরা দেখিয়ে দিয়েছেন সংগঠিত প্রচেষ্টা থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি বদলে যায়। একসময় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতেন। এখন তারা কৃষিযন্ত্র ভাড়া দিয়ে আয় করছেন, বাজারে মসলা বিক্রি করছেন এবং নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। আদা গ্রাম এখন রাজশাহীর নারীদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট
জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো সম্প্রতি পাঁচ দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে জাপান ফিরেছেন।

সফর শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সফরকালে ড. তানাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ ছাড়া পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ড. তানাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সফরের শুরুতে, তিনি ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান বেকারি হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে ড. তানাকা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাইকার সহায়তায় পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

এ ছাড়াও শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন তিনি।

একই দিনে, তিনি জাইকার অনুদান সহায়তায় নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

পাঁচ দিনের এ সফরে ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাঈম/

জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ
মার্কিন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বাংলাদেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ (৫৬৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের ৪১ কোটি ১০ লাখ (৪১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ৫ জুলাইই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২১ কোটি ৯০ লাখ (২১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।

নাঈম/

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের মান কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও নিম্নগতি দেখা গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৫০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ২১ ডলারে নেমে এসেছে।

আর আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা করে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দাম এখনও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির বিষয়ে অবস্থান বুঝতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।’

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান (প্যারোল) সংক্রান্ত তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আসায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়। ফলে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

জেপি মরগ্যান জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে সীমিত থাকতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

এএফ/

চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়
ছবিঃ খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্যপ্রসাদ সাহুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ডিজিটাল পোর্টস ও মেরিটাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার) পাসকাল অলিভিয়ের, কনসালট্যান্ট (পোর্টস ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স) আহমেদুল করিম চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দর ও সামুদ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, পণ্য খালাসে সময় কমানো এবং সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘পোর্ট ও মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক ডিজিটালাইজেশন’ করা গেলে বাংলাদেশের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস উন্নত হলে এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমলে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পন্ন বন্দর ও কাস্টমস এবং লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে না বরং আন্তর্জাতিক মানের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করবে। 

চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বন্দরের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ি কাস্টমস সিস্টেমও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, পেপারলেস ট্রেড, ই-পেমেন্ট এবং সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, শিপিংলাইন, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দ্রুত ও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহু বলেন, পোর্ট অ্যান্ড মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক্স ডিজিটালাইজেশন মূলত পোর্ট ও মেরিটাইম সাপ্লাইচেইনের আধুনিকায়ন। ডিজিটাল ট্রেড লজিস্টিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমবে, কন্টেইনার জট কমবে, ব্যবসার লেনদেন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স পারফরম্যান্স ইনডেক্স এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে। 

সিনিয়র কনসালট্যান্ট পাসকাল অলিভিয়ের বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, আইওটি, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, স্মার্ট কার্গো ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় অপারেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বন্দর ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স পরিচালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরণের পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম নেই। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম গড়ে তোলা গেলে ব্যবসা-সংক্রান্ত সব স্তরের স্টেকহোল্ডাদের একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে।

ইফতেখারুল ইসলাম/অদিতি/

কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত এখন?

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত এখন?
ছবি: সংগৃহীত

টানা ২ দফা বাড়ানোর পর এবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

অন্তরা/