ইসরায়েল দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান। এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছেও হস্তান্তর করেছে তেল আবিব। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান। এদিকে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, ট্রাম্পের ইরান-নীতি প্রভাবিত করতেই এ ধরনের তথ্য সামনে এনেছে ইসরায়েল।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে—ইসরায়েলের এমন দাবির কথা প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছেও দিয়েছে ইসরায়েল।
তবে এসব দাবি ও প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা ইরান। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন একাধিকবার দাবি করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে করা কয়েকটি চেষ্টা তারা নস্যাৎ করেছে।
অবশ্য ইসরায়েল যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের দেয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি এবং সতর্কবার্তা পাওয়ার আগে তারা এমন কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার দিকে নজরও রাখছিল না।
তবে ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে আসছে।
এদিকে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের সব তালিকাতেই আছি। আজ সকালে দেখলাম, আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় রয়েছি। এখন পর্যন্ত হয়তো আমি ভাগ্যবান, কিন্তু সেটা কতদিন থাকবে জানি না। তারা ভয়ংকর মানুষ। এই ক্যানসারকে নির্মূল করতে হবে। ক্যানসারকে শুরুতেই কেটে ফেলতে হয়।’
পরে ট্রাম্প আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি জানতে পেরেছেন, ইরানের হত্যার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় তার নাম সবার ওপরে রয়েছে। তবে তিনি ইসরায়েলের দেয়া নতুন গোয়েন্দা তথ্যের কথাই বলছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সম্প্রতি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বহু মানুষ ট্রাম্পের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি পক্ষ হামলার বিষয়ে আলোচনা করলেও এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের একজন বলেন, ইরান বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন।
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়েছে।
অবশ্য বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলা এবং ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পরও পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে বৃহস্পতিবার রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। তবে আপাতত কূটনীতিকে সুযোগ দিতে সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়।
এসএন/