চীনে বাবা-মায়েদের সরকার প্রতি শিশুর জন্য বছরে ৩৬০০ ইউয়ান বা ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই ভাতা দেওয়া হবে। এটি দেশটির প্রথম জাতীয় পর্যায়ে জন্মহার বৃদ্ধির কর্মসূচি।
চীনে জন্মহার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। শাসক কমিউনিস্ট পার্টি প্রায় এক দশক আগে বিতর্কিত এক সন্তান নীতি বাতিল করার পরও দেশটিতে জন্মহার বাড়ছে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ সহায়তা প্রায় দুই কোটি পরিবারকে শিশু লালন-পালনের ব্যয় মেটাতে সাহায্য করবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি আসন্ন জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় কয়েকটি প্রদেশ এর আগে থেকেই সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করতে অনুরূপ ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিল।
সোমবার (২৮ জুলাই) ঘোষিত এই নতুন প্রকল্পের আওতায় বাবা-মায়েরা প্রতি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ১০৮০০ ইউয়ান সহায়তা পাবেন। বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এই নীতি চলতি বছরের শুরু থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য আংশিক ভাতার আবেদনও করা যাবে।
এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকারগুলোর জন্মহার বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ।
মার্চ মাসে চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হোহহট ঘোষণা দেয়, অন্তত তিন সন্তানের পরিবারগুলোর প্রতিটি নবজাতকের জন্য ১ লাখ ইউয়ান দেওয়া হবে।
শেনইয়াং শহর তিন বছরের কম বয়সী তৃতীয় সন্তানের জন্য স্থানীয় পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ৫০০ ইউয়ান ভাতা দেয়।
গত সপ্তাহে বেইজিং স্থানীয় সরকারগুলোকে বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিকল্পনা তৈরি করার আহ্বান জানায়।
চীনভিত্তিক ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা অনুযায়ী, চীনে সন্তান লালন-পালন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত একটি সন্তান লালন করতে গড়ে প্রায় ৭৫৭০০ ডলার খরচ হয়।
এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পায়।
২০২৪ সালে দেশটিতে ৯ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন নবজাতক জন্মগ্রহণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও মোট জনসংখ্যা হ্রাস অব্যাহত থেকেছে।
প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটির বার্ধক্যজনিত সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা বেইজিংয়ের জনমিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।