ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা, প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

শিশুছাত্রীকে হত্যা, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষিকার আজীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৫৪ পিএম
শিশুছাত্রীকে হত্যা, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষিকার আজীবন কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ বছরের এক ছাত্রীকে হত্যার দায়ে এক শিক্ষিকাকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভের ঢেউ। প্রসিকিউশন তার মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানালেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে।

৪৮ বছর বয়সী শিক্ষিকা মিয়ং জে-ওয়ান গত ফেব্রুয়ারিতে দেজন শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী কিম হা-নিউলকে শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “অভিযুক্তের পুনরায় অপরাধ করার আশঙ্কা থাকলেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।”

রায় ঘোষণার পর মিয়ং বলেন, “আমি জীবনের বাকি সময় নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত থাকব।”

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মানসিক চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

তবে প্রসিকিউশন জানায়, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কোনো অনুশোচনা দেখাননি। যদিও পরবর্তীতে তিনি আদালতে ডজনখানেক চিঠি জমা দিয়ে নিজের অপরাধবোধের কথা উল্লেখ করেন।

দেজন শিক্ষা অফিস জানায়, ঘটনার আগে তিনি বিষণ্ণতার অজুহাতে ছয় মাসের ছুটির আবেদন করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ২০ দিন পরই কাজে যোগ দেন। এমনকি হত্যার কয়েক দিন আগেই সহকর্মীদের ওপর আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিলেন— এক শিক্ষককে ‘হেডলক’ (কুস্তির একটি কৌশল)-এ ফেলার ঘটনাও ঘটে।

হত্যার দিন সকালে দুজন শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলে গিয়েছিলেন তার আগের সহিংসতার তদন্তে। কিন্তু সে দিনই মিয়ং দোকান থেকে ছুরি কিনে স্কুলে নিয়ে আসেন।

তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং এলোমেলোভাবে কোনো এক শিশুকে হত্যা করবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন।

তিনি পুলিশকে জানান, ওই ছাত্রীকে মিডিয়া রুমে ডেকে নিয়ে গিয়েই ছুরিকাঘাত করেন। পরে যখন বাসচালক জানায়, কিম বাসে ওঠেনি, তখন থেকেই তাকে খোঁজা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত স্কুলের ভেতরেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষিকার গলায়ও কাটা দাগ পাওয়া যায়, যা পুলিশ আত্মহত্যার প্রচেষ্টা বলে ধারণা করে। হাসপাতালে তার ক্ষত সেলাই করা হয়।

ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেতারা স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান।

রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, মিয়ংকে আগামী ৩০ বছর ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরিধান করে থাকতে হবে।

বিচারক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল শিশুটিকে সুরক্ষা দেওয়া। অথচ তিনি সেই স্কুলেই এমন নৃশংস অপরাধ করেছেন, যেখানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।” সূত্র: বিবিসি

মেহেদী/

ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে জুনের শেষ দিকে হওয়া ভয়াবহ দাবদাহে ৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে তাদের মৃত্যুর তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ছাড়াও তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা (আইএনএসইই) এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ত বলেন, এই তথ্য এখনো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত নয়। কারণ ইলেকট্রনিক মৃত্যুর সনদ দেশজুড়ে সব মৃত্যুর তথ্য কভার করে না।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং এতে তাপপ্রবাহের প্রকৃত প্রভাব পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে। দেশে ইলেকট্রনিক মৃত্যু সনদ প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুকে কভার করে, তবে অঞ্চলভেদে এই হার ভিন্ন।

ফ্রান্সে সম্প্রতি একাধিক দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সূত্র: বিবিসি

এএফ/

ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
ছবি: এআই

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের টানাপড়েন কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে চীনের বিনিয়োগের চেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ সামলানোর বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকাকে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সতর্ক হতে হবে। গতকাল শুক্রবার হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবাতা তুলে ধরেছে।

গত রবিবার থেকে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই সেবা প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনও কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে রেখেছে।

সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ভারতের ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত বলেন, কেবল পর্যটন ভিসা চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়গুলোও স্বাভাবিক হবে। এটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।

গত বছর দিল্লি একটি ট্রানজিট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ভারতের স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যান্য বাজারে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে চীনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ আনা। অধ্যাপক শ্রীরধা দত্ত জানান, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট যেমন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেটাই এখন বাংলাদেশ সরকারের মূল লক্ষ্য।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া চীন মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বেইজিংকে সরাসরি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার দেবে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী সরু অংশ 'চিকেনস নেক'-এর কাছাকাছি মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত করিডোরের মতো প্রকল্পে চীনের এই অংশগ্রহণকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। লন্ডনের লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভারতের অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ হয়ত এই বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে ঢাকাকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে, যাতে দুই দেশের বিনিয়োগ একে অপরকে বাধাগ্রস্ত না করে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের সঙ্গে সাপ্লাই চেইন ও যাতায়াত সহজ, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

এদিকে ভারতের অশোকা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয় চন্দ্র বলেন, মায়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে চীন-বাংলাদেশ করিডোরটি এখনই বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন। এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক বার্তা মাত্র। তবে এর কৌশলগত প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে। চীনের এমন প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে আরও ভালো অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের জন্য সহজ বাণিজ্য শর্ত, সস্তা ট্রানজিট এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর সুবিধা দিতে হবে। তবে পর্যটন ভিসা চালু হওয়াটা দুই দেশের বরফ গলার প্রথম বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

সাউথ চায়না মনিং পোস্ট/এসএন

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে 'জে-১০সিই' যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি) ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে ভারত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং এসব বিষয়ে তারা সচেতন রয়েছে।

জয়সওয়াল আরও বলেন, 'আমরা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলের এই ধরণের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'

সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর এবং চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার খবর সামনে আসে। 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় এই বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।

সফরকালে তিস্তা নদীর উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতির বিষয়েও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন জয়সওয়াল।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি একটি পারস্পরিক সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

তিস্তা নদী প্রকল্প প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি আগেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কৌশলগত, অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত উদ্যোগ ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নই নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই আলোকে নিজেদের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।

এসএন/

শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান
পতাকায় মোড়ানো কফিন—খামেনির শেষযাত্রার আবেগঘন দৃশ্য। ছবি: এআই

তেহরানে শোকাবহ পরিবেশে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত খামেনির কফিন ধীরগতিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে—যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্র।

দাফনের পূর্ববর্তী শোকানুষ্ঠানে কালো পোশাকে অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে কফিনটি নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করেন। লাল ফুলে সজ্জিত প্রাঙ্গণ আর চারদিকে উড়তে থাকা সাদা প্রজাপতি যেন শোক, শ্রদ্ধা ও বিদায়ের প্রতীক হয়ে পুরো পরিবেশকে আরও গম্ভীর ও আবেগময় করে তোলে।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রতীকী তাৎপর্য।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই আয়োজনকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছে।

একই সঙ্গে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে—এমন বার্তাই দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে চাইছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেরিতে দাফন নিয়ে একটি মহল নেতিবাচক কথা বলছেন। 

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় তখন শেষকৃত্য করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় এই বিশাল জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে।

সে দেশের কর্মকর্তারা আরও জানান, ধর্মীয় ও আইনি নিয়ম মেনেই এতদিন তার মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক দিয়ে লাশ মমি বা তাজা রাখা নিষেধ। তাই খামেনির মরদেহ মমি না করে আধুনিক ফরেনসিক মর্গের হিমাগারে (ফ্রিজে) বরফ করে রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে লাশ ফ্রিজে রেখে দাফন দেরিতে করার সুযোগ রয়েছে। 

শুক্রবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায়, যেখানে লাখো ভক্ত-অনুসারী শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। এই দীর্ঘ পরিক্রমার মাধ্যমে ইরান কেবল একজন নেতাকে বিদায়ই জানাচ্ছে না, বরং তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারের প্রতিও আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

এসএন/

ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির  হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের
বাংলাদেশ ও ইরানের দুই সংসদ নেতা। ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক উষ্ণ পরিবেশে তেহরানে মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ ও ইরানের দুই সংসদ নেতা।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নিতে সফররত বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন মহামান্য ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সংহতি প্রকাশ করেন। 

স্পিকার ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি ইরানের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ এই গতিবেগ গড়ে তুলবে।

স্পিকার গালিবাফকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। 

রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে স্পিকার বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। 

এসএন/