অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক নাজির মাসুদ করিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৬ অক্টোবর) স্ত্রীসহ বরগুনা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মাসুদ করিম। শুনানি শেষে আদালত তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের জামিন মঞ্জুর করলেও মাসুদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর আদালত মাসুদ করিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৩০ মে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে বরগুনার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাসুদ করিমের গ্রহণযোগ্য আয় ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬০২ টাকা, কিন্তু তার নামে রয়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৬১ হাজার ২০২ টাকার সম্পদ এবং স্ত্রীর নামে ২২ লাখ সাত হাজার ১৫৫ টাকার সম্পদ। ঋণ বাবদ ৩২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৩ টাকা বাদ দিলেও দুদক মাসুদ ও তার স্ত্রীর নামে এক কোটি ৯২ লাখ আট হাজার ৩৬৪ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায়। অথচ তাদের ঘোষণায় ব্যয় দেখানো হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৩ টাকা।
ফলে দুদকের অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়ের বাইরে এক কোটি ৬২ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া মাসুদ করিম তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৪১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নুরুল আমীন বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে মাসুদের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালত সেই বিবেচনায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
মহিউদ্দিন/এসজি/