ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী ধামরাইয়ে ৭৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২৫ বছরের তরুণীর বিয়ে চারঘাটে শিশু ধর্ষণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ধর্ষক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়া সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিপক্ষে মহালড়াইয়ে সাইবারিকে হারাচ্ছে মরক্কো সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতিসহ রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল আনোয়ারায় পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম, সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবার প্রথমবার সিনেমায় শাহরুখ সুহানা এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৫টি মনোনয়ন পেল ‘দ্য পিট’ বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার স্বামী ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাবেন যারা ইরানে ২০ গুণ বড় মার্কিন হামলার ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প টেক্সাসে ‘চেতনাতে নজরুল’: হৃদি হকের ব্যতিক্রমী সংগীত-নাট্য উপস্থাপনা ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত রিকশাচালক সাকিবুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪ জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড চীনে বন্যায় নিহত ৩৯ আর্জেন্টিনার সঙ্গে বিতর্কিত ম্যাচের পর কোচ নিয়ে বড় পদক্ষেপ মিসরের মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রেফারিদের পাশে কলিনা কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস পর্তুগালের নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন জর্জ জেসুস! আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি

প্লট দুর্নীতির দুই মামলায় শেখ হাসিনার ১০ টিউলিপের ৪ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
প্লট দুর্নীতির দুই মামলায় শেখ হাসিনার ১০ টিউলিপের ৪ বছর কারাদণ্ড
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-টিউলিপ সিদ্দিক

রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছর ও তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছর করে মোট চার বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় দেন।

এ ছাড়াও রায়ে দণ্ডিতদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রায়ে শেখ রেহানার দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিককে সাত বছরের করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে রায়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য খুরশিদ আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে রাজউক ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তাকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রবিউল আলম রায়ের জন্য সোমবারের দিন ধার্য করেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় শেখ হাসিনা-টিউলিপসহ ১৮ জন করে ৩৬ জন আসামি। 

এর মধ্যে  গত ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও রাদওয়ানের মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম।

অপর দিকে গত ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার  মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন একই আদালত।

শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও রাদওয়ানের মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান। 

ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। 

তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক-এর সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক-এর সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। 

মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া। 

এই মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম দুই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

অমিয়/

ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সিয়াম। এছাড়া একই গ্রামের মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত পাঁচ বছর বয়সী নিছামনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফন না করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

পরে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামিরা। শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে নির্জনস্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংশ নদীতে ফেলে দেয়। জবানবন্দি শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ’খুব দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি।  ঘটনা যাচাই- বাছাই শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে আসামিরা তাদের সম্পৃক্ততা যে স্বীকার করেছে, তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি।’ 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিছামনির মা-বাবা। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

কামরুজ্জামান/খাদিজা রুমি/

ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। 

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, অনৈতিক দাবি আদায়কারীদের জন্য এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। 

অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েল উষ্মা প্রকাশ করেন। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। 
রাকিব হাসানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জলিল উজ্জ্বল/অন্তরা/

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলার ১৩ বছর পর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানায়, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী ইসমত আরার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ইসমত আরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে রাতেই গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে ইসমত আরার বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ (৯ জুলাই) আসামি আনোয়ার হোসেনে অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও মো. নাজমুল ইসলাম।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট
বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়ে রুল জারি করে এবং 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিলের আবেদন করেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

পরে ৩১ মার্চ আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী। ১৬ জুন ওই আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন। এ ছাড়াও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

থিওটোনিয়াস/

আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল
হাইকোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ একই সঙ্গে আদেশ দিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, গণভোট এবং সংবিধানে হস্তক্ষেপ করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধানও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেন। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার এ সংশোধনী আনে।

সংশোধনীতে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসহ প্রায় ৫৪টি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। পরে আরও চারজন পক্ষভুক্ত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারীরা।

গত রবিবার থেকে টানা তিন দিনের শুনানিতে রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবীরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানান তারা।

অমিয়/