ধর্ষণ ও কাবিননামা ছাড়া বিয়ের পর এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তিনি হলেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের কার্য সহকারী আকতার ফারুক। তিনি কল্যাণপুর শাখায় চাকরি করেন। তিনি সংস্থাটির কর্মচারীদের একটি অংশের ট্রেড ইউনিয়নের (সিবিএ) (কালেকটিভ বারগেইনিং এজেন্ট বা যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি) যুগ্ম সম্পাদক।
ওই তরুণী বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মাজারে গান গাইতেন। পাঁচ বছর আগে মিরপুর মাজারে আকতার ফারুকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এরপর ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরলে ফারুক মোবাইলে নিয়মিত কল করতেন তাকে। ফারুক বিবাহিত। তার সংসার রয়েছে। ওই তরুণীর অভিযোগ, আকতার ফারুকের সঙ্গে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। প্রায়ই তার মায়ের হাতে টাকা দিতেন ফারুক। মেয়েটিকে উপহার কিনে দিতেন। বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা হিসেবে তার ক্ষমতার কথা বলতেন।
মেয়েটির অভিযোগ, ২০১৯ সালের শেষ দিকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন ফারুক। এ ঘটনার পর গ্রামে ফিরলে দু-তিন মাসের মধ্যে তার গর্ভধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মা প্রচণ্ড মারধর করলে ঘটনা খুলে বলেন তিনি। এরপর মেয়েটির মা ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ফারুক তাদের ঢাকায় চলে আসতে বলেন। ফারুকের উপস্থিতিতে ঢাকার শ্যামলীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়েটির গর্ভপাত করানো হয়। এ সময় ফারুক ধর্ষণের ঘটনার জন্য মেয়েটি ও তার মায়ের কাছে ক্ষমা চান বলে জানান ভুক্তভোগী তরুণী। ওই সময় মেয়েটির বড় বোন বাসা বদলে মিরপুরে চলে আসেন। তখন মা-মেয়ে ওই বাসাতেই ওঠেন। ফারুকের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না। এদিকে অভাবের সুযোগ নিয়ে ২০২২ সালে ফারুক আবারও যোগাযোগ করেন। মেয়েটির অভিযোগ, বিয়ের কথা বলে তার সঙ্গে মেলামেশা করেন ফারুক। এতে তিনি আবারও গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এক ছেলের জন্ম দেন। তবে বিয়ে নিয়ে টালবাহানা করছিলেন। প্রথম স্ত্রী আছে তাই নিবন্ধন ছাড়া কলেমা পড়ে বিয়ে করতে চান। বিয়ের কোনো কাবিননামা না থাকলেও ফারুক তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকোশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা বিষয়টি শুনেছেন।
জানতে চাইলে মিরপুর থানার ওসি মুন্সি সাব্বির হোসেন জানান, এ ঘটনায় কোনো ভিকটিম থানায় মামলা করতে আসেনি। বিষয়টি আমার জানা নেই।
আল-আমিন/এমএ/