ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ তুলে ধরলেন মুখপাত্র চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু চট্টগ্রাম বোর্ডে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪ চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, সড়ক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিল

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৯:০৩ এএম
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিল
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মিছিল-সমাবেশ পালিত হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেই’ বলে জানানোর পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া স্ট্যাটাস নানা আলোচনার জন্ম দেয়। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার অভিযোগ আনেন। তিনি লেখেন, ‘আসুন, সকল যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত শহিদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দেব না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।’

একই ইস্যুতে দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেও পরবর্তী সময়ে সেটি তিনি মুছে দেন। একই সময়ে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘আওয়ামী লীগ নামে কেউ রাজনীতি করবে পারবে না’ গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেওয়া বক্তব্য শেয়ার করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। গঠন করা হয় ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে ফায়দাবাদ মধ্যপাড়া হাজি শুকুর আলী মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে দুস্থদের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কথা হচ্ছে, কিন্তু বিচার নিয়ে কথা হচ্ছে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের পর আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর জনগণ ক্ষমা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আওয়ামী লীগের যারা অপরাধী তাদের বিচার নিশ্চিত হওয়ার পর যারা হত্যা-লুটপাটে জড়িত নয়, তাদের যদি জনগণ রাজনীতি করার সুযোগ দেয় আমাদের কিছু বলার নেই।’

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জনগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই গণহত্যার বিচার দেখতে চায়। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই।’

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করবে গণঅধিকার পরিষদ। গতকাল বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন দলের সভাপতি নুরুল হক নুর।

গতকাল দলের এক জরুরি সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ‘ইতিহাসের নিকৃষ্ট দল আওয়ামী লীগের বিচারের আগে যারাই পুনর্বাসন চাইবে তাদেরকেই প্রতিহত করা হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে আর কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জুলাই আন্দোলনে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রধান উদ্যোক্তা ও সাবেক শিবির নেতা আলী আহসান জোনায়েদ লেখেন, ‘আমি বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। ছাত্র-জনতা আবারও প্রস্তুত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সাধারণ শিক্ষার্থী।

গতকাল জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে সমাবেশ করে। এ সময় বক্তারা আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীক দ্রুত নিষিদ্ধের দাবি জানান।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব জাহিদ আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকে কোনো রাজনীতি হবে না।’

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলে, ‘আমরা আগস্টে যেভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিলাম, এখনো তেমনই আছি। যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হয়, ততদিন আমরা মাঠে থাকব।’

বেলা সাড়ে ৩টায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চেয়ে মিছিল করা হয়েছে। একই দাবিতে ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করে।

এই মঞ্চের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘শনিবার (২২ মার্চ) বিকেল ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ইফতার ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে এ মঞ্চ।’

গতকাল ‘জুলাই মঞ্চ’ নামে একটি ব্যানারে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে, পাঁচ-ছয়জন তরুণ শাহবাগ মোড়ের ঠিক মাঝখানে বসে স্লোগান দিতে থাকেন।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধের দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। বেলা ২টার দিকে নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলে জাতীয় নাগরিক পার্টি উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদ, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, যুগ্ম সদস্যসচিব রিজাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহীতে নিষিদ্ধের দাবি

রাবি প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বেশ কিছু শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে নগরীর তালাইমারী এলাকায় সমাবেশে মিলিত হয়। পরে আবার তালাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলার মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ যদি দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসতে চায়, তাহলে দুই হাজার শহিদের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে।’ 

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল দুপুরে জুমার নামাজ শেষে নগরীর ঝাউতলা এলাকার ছাতি মসজিদ থেকে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এসে মিছিল শেষ হয়। পরে পূবালী চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা।

জীবন দিবো, জুলাই দিবো না

রংপুর প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা আড়াইটায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর সদস্যসচিব রহমত আলী, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন, জাহিদ হাসান জয়, জাকের হোসেন পাশা, আশিক মিয়া প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম
ছবি: খবরের কাগজ

’আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই। এক হাজারের বেশি মানুষকে মেরে গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া দলের কাছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন, জাতীয় নাগরিক কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে পাবনার চাটমোহরে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, ’বিগত ১৬ বছর প্রশাসন দলীয়করণের শিকার হয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি শেখ হাসিনাকে। তিনি বাধ্য হয়েছেন পালাতে। নিজে ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি তিনি দলকেও ধ্বংস করেছেন।’  

প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে জনগণের এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে ওঠার আহ্বান জানান সারজিস আলম।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় দালাল ধরা, ঘুষ দেওয়া কিংবা প্রভাবশালী কাউকে দিয়ে ফোন করানো ছাড়া সাধারণ মানুষের কোনো সেবা বা অধিকার পাওয়ার উপায় নেই। ক্ষমতাবানরা ঠিকই নিয়ম ভেঙে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে নিচ্ছেন। অন্যদিকে হাজারো সাধারণ মানুষ একটুখানি সেবা বা অধিকার পাওয়ার জন্য দেয়ালে মাথা ঠুকে মরছেন। এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না। অন্তত একটা স্বাধীন, সার্বভৌম ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিত্র এমন হওয়া উচিত নয়।’

এনসিপির বিরুদ্ধে তোলা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেন।

নিজেদের মন মগজ বিবেকবোধ বিসর্জন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, সবার আগে সিস্টেমের পরিবর্তন লাগবে। আমাদের ফাইট হলো ভাল মন্দের ফাইট, জালিম মজলুমের ফাইট, ন্যায় অন্যায়ের ফাইট। কারা চাঁদাবাজি করে, কারা মাদক ব্যবসাকে শেল্টার দিচ্ছে, কারা অন্যায় করছে সেটা ভেবেচিন্তে ভালোর পক্ষে ভোট দিতে হবে। সেখানে যদি এনসিপি ভালোটা ধারণ না করে তাদের ভোট দেয়ার দরকার নাই। সব জায়গায় আলোচনা শুরু হোক, আগামীদিনে ভোটটা হবে ভালো মানুষের পক্ষে। 

সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ’‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা দিল্লিতে বসে নানাভাবে হুমকি দিলেও এদেশের তরুণরা তাকে আর ভয় পায় না হাসিনার দিন শেষ।

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশ এনসিপির আহ্বায়ক খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জুলাই আন্দোলনের পাবনার সমন্বয়ক বরকতুল্লাহ ফাহাদ এবং চাটমোহর উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব খায়রুল ইসলামসহ আরও অনেকে। সমাবেশ শেষে চাটমোহর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা চাটমোহর সরকারি কলেজ গেট থেকে মিছিল সহকারে পদযাত্রা নিয়ে চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। বৃষ্টির কারণে সমাবেশ শুরু হতে কিছুটা সময় বিলম্ব হয়।

আমিনুল জুয়েল/খাদিজা রুমি/

জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদকে একটি বিস্ফোরক মামলায় শোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার দেখানোর) অনুমতি দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জামালপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বকশীগঞ্জ আমলি আদালতে তাকে তোলা হলে বিচারক তানজিনা আক্তার এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ জামালপুর - ১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান গামা জানান, বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বকশীগঞ্জ থানায় নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় বকশীগঞ্জ থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম। বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে শোন এরেস্ট দেখানোর অনুমতি দেন। আগামী ১৪ জুলাই তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান গামা আরও জানান, আমরা আশা করি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করবেন। সেদিনই শুনানির পর আদালত পরবর্তী আদেশ দিবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ জুন রাতে রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরপর আজ তাকে জামালপুর আদালতে আনা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নূর মোহাম্মদ জামালপুর-১ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন তিনি। নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আসমাউল আসিফ/এসএন

‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
‘বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না’ সাংবাদিকদের বিএনপি নেতার হুমকি
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর

শরীয়তপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়েছেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। এ সময় তিনি ওই সাংবাদিককে নানা ধরনের হুমকি ও চাকরিচ্যুত করার হুশিয়ারি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সম্প্রতি এলজিইডি কার্যালয়ে অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলামকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই অফিস সহকারী গতকাল বুধবার নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে ঘটনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, জিডির কপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করেন শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ শিহান। 

সংবাদ প্রকাশের পরে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর। তিনি সাংবাদিক খান মোহাম্মদ শিহানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মতিউর রহমান সাগর লিখেন, ‘আপনি কি সাংবাদিক, না সাংঘাতিক? আমার বক্তব্য ছাড়া নিউজ করলেন কিভাবে? ওসির দালালি করেন না। ঠিক আছে, আমি অপু ভাইয়ের (কালবেলার প্রকাশক ও সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু) সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’ 

ওই বার্তায় তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের চাকরির বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করবেন।

এ ব্যাপারে মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি উত্তেজিত ভাষায় বলেন, ‘পারলে আপনারা কিছু করেন। আমার এক মাসের আয় আপনাদের এই সাংবাদিকদের পেছনে খরচ করে হলেও দেখে নেব। বাঘে ধরলে ছাড়ে, কিন্তু আমি ধরলে ছাড়ি না। যারাই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করেছে সবার বিরুদ্ধে আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।’

এ বিষয়ে কালবেলা প্রত্রিকার সাংবাদিক খান মোহাম্মদ শিহান বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এর পরও এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার প্রেসক্লাব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আর টিভির প্রতিনিধি আবুল হোসেন সরদার বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা সাংবাদিকেরা এ ধরণের হুমকিকে পরোয়া করি না। আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্বে সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থাকব।

বিধান মজুমদার/অমিয়/

রাজৈরে আওয়ামী লীগ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও ১২ মেম্বারের অব্যাহতি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
রাজৈরে আওয়ামী লীগ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও ১২ মেম্বারের অব্যাহতি
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাতুব্বসহ পরিষদের ১২ জন মেম্বার ও শতাধিক কর্মী আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে হরিদসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম মাতুব্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সসভাপতি পদ থেকে মৌখিকভাবে পদত্যাগ করেন। 

এ সময় উপস্থিত থেকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি নেন ওয়ার্ড মেম্বার দেলোয়ার হোসেন মুন্সী, সাহেব আলী খাঁ, আব্দুল জলিল মাতুব্বর, গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার, আবুল মোল্লা, আব্দুর রশিদ মিনা ও সংরক্ষিত নারী আসনের মেম্বার শিরিন আক্তার ও বুড়ি বেগম।

এ সময় তাদের সমর্থন দেন শতাধিক কর্মী-সমর্থকরা।

ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাতুব্বর  বলেন, ‘আমি জনগণের সেবা দিয়ে তাদের পাশে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতাম। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় জনগণের স্বার্থে দল থেকে পদত্যাগ করলাম। বিএনপি সরকার চাইলে তাদের হয়ে কাজ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঠাঁই দেওয়ার মতো কেউ নাই। এছাড়া দলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ দলে থেকে কোনো লাভ নাই। আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করি। তারা আমাকে ভালবেসে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। তাই আজ (৮ জুলাই) থেকে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। আমার সঙ্গে ১২ জন মেম্বারও অব্যাহতি নিয়েছেন।’

রফিকুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ এএম
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি
ছবি: খবরের কাগজ

যশোরের বেনাপোল ইমিগ্রেশনে 'স্টপ লিস্ট' অনুযায়ী ঝিনাইদহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার করিম রাসেলকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়।

আটক শাহরিয়ার করিম রাসেল ঝিনাইদহ পৌরসভার উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ভারতগামী যাত্রী হিসেবে শাহরিয়ার করিম রাসেল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার নাম ইমিগ্রেশন কালো তালিকায় (স্টপ লিস্টে) রয়েছে বলে শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, শাহরিয়ার করিম রাসেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬) এর অধীনে ঝিনাইদহ সদর থানায়  একটি মামলা বিচারাধীন। এ কারণেই তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমৃকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ‘স্টপ লিস্টে নাম থাকায় শাহরিয়ার করিম রাসেলকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ঝিনাইদহ থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মাহফুজুর রহমান/খাদিজা রুমি/