ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ রাজনৈতিক উত্তাপ প্রশমিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
শনিবার (৭ জুন) বিকেলে নিজের ফেইসবুক পেইজ থেকে লাইভে এসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় শুক্রবার (৬ জুন) প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন মান্না।
তিনি বলেন, ‘দেশে রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পরে সেই উত্তাপ প্রশমিত হবে। নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল কেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের দিনক্ষণ স্পষ্ট করে ঘোষণা করছেন না। তবে গতকাল (শুক্রবার) তার জাতির উদ্দেশে ভাষণের পরে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।’
প্রধান উপদেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে মান্না বলেন, ‘অনেকে বলবেন, নির্বাচনের প্রসঙ্গে অনেকে ডিসেম্বরের কথা বলেছেন, ড. ইউনূস জেদ করে তা এপ্রিল মাসে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আমার মতে, ড. ইউনূস জেদাজেদি করার কোনো কায়দা-কৌশল নিচ্ছেন না। তিনি এসব করে ক্ষমতায় থাকবেন তা কখনও মনে হয়নি।’
তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
মান্না বলেন, ‘বিচার-সংস্কার-নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলছে। প্রধান উপদেষ্টা এতো সংস্কার কেন করছেন? একটা গ্রহণযোগ্য, ভালো নির্বাচনের জন্য। সেই নির্বাচন প্রসঙ্গে তো কোনো ঐকমত্য হল না। একদম এককভাবেই তো নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলেন।’
তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যে মতবিরোধ রয়েছে তা আলোচনার টেবিলে বসে সমাধানের অবকাশ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবীন এ রাজনীতিবিদ বলেন, ‘এখন অনেক ব্যাপারে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। অনেক সময় সংস্কারের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুচকি হেসে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে এখন বিশেষ বিশেষ ব্যাপারে তাকে জবাব দিতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘ক্ষমতার রাজনীতি কারও একক খেলা না। এর পেছনে, সঙ্গে যারা থাকে তাদের অনেকে ষড়যন্ত্রকারী হয়। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর নিয়ে সব বিতর্ক আপাতত স্থগিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদ্যোগে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন না মান্না। বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে বন্দরের আয় বাড়ানোর সুযোগ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জয়ন্ত/পপি/