প্রশ্ন: এক বছর হলো আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। বর্তমানে সচ্ছলতার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি। কিন্তু আমার বৃদ্ধ মা-বাবা এবং একমাত্র বোন এখনো অমুসলিম। মা-বাবার কোনো সম্পদ নেই। মামা এবং খালার পরিবার এখন তাদের দেখাশোনা করছেন। জানার বিষয় হলো, অমুসলিম মা-বাবার খরচাদি দেওয়া কি আমার দায়িত্বে পড়ে?
আব্দুল্লাহ, নাটোর
উত্তর: মা-বাবা অমুসলিম হলেও তারা যদি অভাবী হয়, তাহলে তাদের প্রয়োজনীয় খরচাদি যেমন—খাবার, পোশাক ইত্যাদি দেওয়া সামর্থ্যবান সন্তানের দায়িত্ব। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দরিদ্র মা-বাবাকে তাদের প্রয়োজনীয় খরচাদি দেওয়া আপনার ওপর আবশ্যক। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া, ২/৬৩; ফাতহুল কাদির, ৪/২২০)
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আমার মা শপথ করেন আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করা পর্যন্ত তিনি পানাহার করবেন না। আল্লাহ তখন অবতীর্ণ করেন, ‘যদি তারা (মা-বাবা) বাধ্য করে আমার সঙ্গে শিরক করতে, যে ব্যাপারে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে অনুসরণ করো না। তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।...’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ২৪)
আরও পড়ুন: সুরা মুলক নামকরণের কারণ
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘কোনো মা-বাবা সন্তানকে আল্লাহর অবাধ্য হতে বললে সে তাদের আনুগত্য করবে না। তবে তাদের এই নির্দেশ পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)
আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমার মা রাগিবা (অমুসলিম) আমার কাছে এলেন। আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার সঙ্গে কি আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন, হ্যাঁ।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৭৮)
মা-বাবা অমুসলিম বা মুরতাদ হলেও তাদের গালমন্দ করা যাবে না। সমাজে তাদের অসম্মান করা যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি (সা.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহর একটি হলো মা-বাবাকে গালি দেওয়া।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯০)
লেখক: আলেম, মুফতি ও সাংবাদিক