পবিত্র কোরআনের ৬৭ নম্বর সুরা হলো মুলক। এই সুরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম আয়াত থেকেই ইসলামের মৌলিক শিক্ষাকে সংক্ষেপে হৃদয়গ্রাহী করে বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর রাজত্ব-কর্তৃত্ব ও মহত্ত্বের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টি নৈপুণ্যের বয়ান দেওয়া হয়েছে। জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের জীবনের লক্ষ্য, সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর চলার পুরস্কার ও আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার ভয়াবহ পরিণতির কথাও বলা হয়েছে। সর্বোপরি, শোকর আদায় করা এবং আখেরাতের প্রস্তুতির তাগিদ দেওয়া হয়েছে এ সুরায়। এসব কারণে সুরা মুলক মুমিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাথেয়।
সুরা মুলকের নামকরণ
মুলক শব্দটি সুরার মূল বিষয়বস্তুকে প্রতিফলিত করে। আল্লাহর একচ্ছত্র শাসন ও মালিকানা নির্দেশ করে। তাই সুরার প্রথমাংশের মুলক শব্দ থেকে সুরাটির নামকরণ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘পরম কল্যাণময় সেই সত্তা, যাঁর হাতে রয়েছে সাম্রাজ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা মুলক, আয়াত: ১)
আল্লাহর নির্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরার নাম রাখতেন। সুরা মুলকের নামও তিনি রাখেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, উসমান (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর যখনই কোনো আয়াত নাজিল হতো, তখন তিনি ওহি বা প্রত্যাদেশ লেখক সাহাবিদের ডেকে বলতেন, এই আয়াত অমুক সুরার অমুক স্থানে সন্নিবেশিত করো, যার মধ্যে এই এই বিষয় আলোচিত হয়েছে। অতঃপর তাঁর ওপর যখন একটি বা দুটি আয়াত নাজিল হতো, তখনো তিনি এমন বলতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৮৬)
আরও পড়ুন: লাইফ ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করা যাবে?
সুরা মুলকের অন্যান্য নাম
এই সুরা পাঠকারী অশেষ কল্যাণ ও বরকত লাভ করে। এ জন্য সুরা মুলককে ‘তাবারাকা’ বলা হয়। কবরের আজাব থেকে বাঁচানোর জন্য বড় ভূমিকা পালন করে এ সুরা। এ জন্য একে মুনজিয়াহ, মানোয়া ও মুজাদালা নাম দেওয়া হয়েছে। সুরাটির নাজিল হওয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও সুরাটির ভাষা, বর্ণনাভঙ্গি ও বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায়, এটি মক্কি জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অবতীর্ণ সুরার মধ্যে অন্যতম।’ (তাফসিরে জালালাইন, ৭/১০)
সুরা মুলকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। রাসুলুল্লাহ (সা.) সবাইকে এ সুরা মুখস্থ করতে উৎসাহিত করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার মন চায় যে প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে সুরা মুলক থাকুক।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ২১১৬)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক