প্রশ্ন: মসজিদে ইমাম সাহেব উপস্থিত থাকা অবস্থায় নাবালেগ শিশু দ্বারা আজান দেওয়া হলে সেই আজান কি শরীয়তসম্মত হবে?
উত্তর: আজান ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা নামাজের সময় ঘোষণার পাশাপাশি মুমিনদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করে। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) পুরুষদের দ্বারা আযান দেওয়াই কাম্য ও উত্তম। এর কারণ হলো, আজান শুধু একটি ঘোষণা নয়, বরং এর মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকা হয়, যেখানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে, যদি কোনো নাবালেগ শিশু আজানের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে এবং সহিহ-শুদ্ধভাবে, স্পষ্ট উচ্চারণে ও উচ্চস্বরে আজান দিতে সক্ষম হয়, তাহলে তার দেওয়া আজান শরীয়তসম্মত বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো আজানের উদ্দেশ্য ও শর্তাবলি পূরণ হচ্ছে কি না। অর্থাৎ, আজানএমনভাবে দেওয়া হচ্ছে যেন মানুষ নামাজের সময় সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং আজানের অর্থ ও উচ্চারণ নির্ভুল হয়।
কিন্তু, এমন নাবালেগ শিশুকে মসজিদের নিয়মিত মুয়াযযিন হিসেবে নিযুক্ত করা মোটেই সমীচীন নয়। মুয়াযযিনের পদটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং এর জন্য প্রজ্ঞা, ধারাবাহিকতা ও শরীয়তের গভীর জ্ঞান প্রয়োজন, যা সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। অন্যদিকে, যে শিশু আজানে মর্মার্থ বোঝে না বা সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না, তার দেওয়া আজান সহিহ বলে বিবেচিত হবে না।
এই মাসআলাটি বিভিন্ন ফিকহি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: মুসান্নাফ ইবনে শাইবা (১/২৫৬), বাদায়েউস সানায়ে (১/৩৭২), আলবাহরুর রায়েক (১/৪৪২), খুলাসাতুল ফাতাওয়া (১/৪৯-৫০), ফাতাওয়া তাতারখানিয়া (১/৫২০) এবং আদ্দুররুল মুখতার (১/৩৯১)। এই গ্রন্থগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে নাবালেগের আযান জায়েজ হলেও, এটি নিয়মিত প্রথা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক