নামাজ বা সালাত হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক নিবিড় কথোপকথন। নামাজের প্রতিটি রুকন বা ধাপ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নির্দিষ্ট নিয়মে আবদ্ধ। বিশেষ করে নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে দোয়া কবুলের এক মোক্ষম সময়। এ সময় আমরা অনেকেই নিজের মনের না বলা কথাগুলো বা ব্যক্তিগত প্রার্থনাগুলো নিজের ভাষায় (বাংলা বা অন্য কোনো ভাষা) করতে চাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নামাজের ভেতরে কি নিজের ভাষায় দোয়া করা যাবে?
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, নামাজের ভেতর কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করার সুযোগ নেই। এমনকি আরবি হলেও নিজের বানানো কোনো কথা বা বাক্য দিয়ে দোয়া করা বৈধ নয়। এর কারণ হলো, নামাজ একটি সুনির্দিষ্ট ইবাদত, যার কাঠামো স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
মুসলিমের একটি বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই এ নামাজে মানুষের কথাবার্তার মতো কথা বলা সঙ্গত নয়। এটি কেবল তাসবিহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা), তাকবির (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা) এবং কোরআন তিলাওয়াতের স্থান।’ (মুসলিম, ৫৩৭)
ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামগণের মতে, নামাজের ভেতর মানুষের সাধারণ কথোপকথনের মতো কোনো ভাষা ব্যবহার করলে নামাজের বিশেষ গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হয়। তাই দোয়া মাসুরা হিসেবে কেবল কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোই পাঠ করতে হবে। একেই বলা হয় ‘আল-দোয়া আল-মাসুর’ বা বর্ণিত দোয়া।
বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাবসমূহে (যেমন- ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৭৬, ফাতহুল কাদির: ১/২৭৭) উল্লেখ করা হয়েছে যে, নামাজের ভেতরে এমন কোনো দোয়া করা যাবে না যা মানুষের কথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেবল সেই সব দোয়া করা যাবে যা মহান আল্লাহ কোরআনে শিখিয়েছেন অথবা প্রিয় রাসুল (সা.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের দেখিয়েছেন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক