প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তি এক দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা শুরু করেন এবং পরে সফর করে অন্য দেশে চলে যান, যেখানে চাঁদের হিসেবে রোজার সংখ্যা তার আগের দেশের তুলনায় কম বা বেশি হয়; তবে ওই ব্যক্তির রোজা ও ঈদের বিধান কী হবে?
উত্তর: বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই সমস্যার সমাধানের আগে একটি মৌলিক বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন যে, শরিয়তের দৃষ্টিতে চান্দ্রমাস সর্বনিম্ন ২৯ দিন এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরিফে বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন। এই মূলনীতির আলোকেই আলোচ্য সমস্যার সমাধান নিম্নরূপ:
১. রোজা ২৯টির কম হলে (২৭ বা ২৮টি হলে): সফরের কারণে কোনো ব্যক্তি যদি এমন দেশে পৌঁছান যেখানে তার হিসেবে মাত্র ২৭ বা ২৮টি রোজা পূর্ণ হওয়ার পরই ঈদের চাঁদ উঠে গেছে, তবে তিনি ওই দেশের অধিবাসীদের সঙ্গেই ঈদ করবেন। তবে মনে রাখতে হবে, চান্দ্রমাস ২৯ দিনের কম হয় না। তাই ঈদের পর ওই ব্যক্তিকে বাকি ১টি বা ২টি রোজা কাজা করে নিতে হবে, যাতে অন্তত ২৯টি রোজা পূর্ণ হয়। (যদি ওই দেশে ২৯ রোজায় ঈদ হয়, তবে ২৯টি পূর্ণ করবেন; আর ৩০ রোজায় ঈদ হলে ৩০টি পূর্ণ করাই উত্তম)।
২. রোজা ৩০টির বেশি হয়ে গেলে: আবার যদি এমন হয় যে, সফরকারী ব্যক্তির ৩০টি রোজা পূর্ণ হয়ে গেছে কিন্তু ওই দেশে তখনো রমজান মাস শেষ হয়নি (অর্থাৎ সেখানে আরও ১টি বা ২টি রোজা বাকি আছে), তবে ওই ব্যক্তিকে ওই দেশের মানুষের সঙ্গে রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোজা রেখে যেতে হবে। এটি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক সংহতির জন্য জরুরি। এক্ষেত্রে তার রোজা ৩০টির বেশি (৩১ বা ৩২টি) হলেও তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এর পর তিনি সবার সঙ্গে একত্রে ঈদ করবেন।
মোদ্দা কথা হলো, ইসলামের বিধান অনুযায়ী, রোজা ও ঈদ মূলত স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তবে সীমানা পরিবর্তনের কারণে রোজার সংখ্যায় তারতম্য হলে কমের ক্ষেত্রে কাজা করা ওয়াজিব, আর বেশির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সঙ্গে রোজা অব্যাহত রাখা আবশ্যক।
রমজান ও জাকাতসংক্রান্ত সমসাময়িক যেকোনো জটিল মাসআলার সঠিক সমাধানের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো ‘দারুল ইফতা’ বা আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া ঈমানি দায়িত্ব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক