ক্রিকেটে বহুল প্রচলিত প্রবাদ- ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সুপার ফোরে এই ভুল চারবার করলো ভারত। সেইসঙ্গে একাধিক ফিল্ডিং মিসে বেরিয়ে গেল কিছু রান। সূর্যকুমার যাদবদের ভুলগুলোকে ফুল রূপে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। দুবাইয়ে বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়েও থেমে যায় ১৭১ রানে দলটি। যদিও চ্যালেঞ্জিং ছিল পাকিস্তানের এই সংগ্রহ কিন্তু ভারতীয় ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। তাদের শাসন করে ৬ উইকেট ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত।
টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে এটা পাকিস্তানের দ্বিতীয় হার। এর আগে গ্রপপর্বে হেরেছিল ৭ উইকেট ব্যবধানে। গ্রুপপর্বে মাত্র ১২৭ করেছিল পাকিস্তান। সে তুলনায় ১৭১ রান ছিল জয়ের মতোই স্কোর। কিন্তু প্রতিপক্ষের সেটাকেই মামুলি বানিয়ে ফেলেন শুভমান গিল এবং অভিষেক শর্মা। ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন অভিষেক। গিল ৫০ ছুঁতে পারেননি মাত্র ৩ রানের জন্য। ১০তম ওভারে তাকে আউট করে ভারতের ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। পরের ওভারে সূর্যকুমার যাদবকে (০) শিকার বানান হারিস রউফ। এরপর অভিষেক শর্মাকে ফেরান আবরার আহমেদ। ৩৯ বলে ৬ চার এবং ছক্কায় ভারতীয় ওপেনার করেন ৭৪ রান।
খানিকবাদে সাঞ্জু স্যামসনকে (১৩) বোল্ড করে লড়াইয়ের কিছুটা আভাস দিয়েছিলেন হারিস রউফ। কিন্তু তাদের অবিশ্বাস্য কিছু করতে দেননি তিলক বর্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়া। তাদের ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের নাগাল পেয়ে যায় ভারত। সেটাও ৭ বল হাতে রেখে। তিলক ৩০ এবং হার্দিক ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে, প্রথম ইনিংসে ফখর জামানের আউট নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। হার্দিকের বল ফখরের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় পেছনে। ক্যাচ নেন কিপার সাঞ্জু স্যামসন। ক্যাচটির বৈধতা নিশ্চিত করতে থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ হন মাঠ আম্পায়ার। কয়েকবার রিপ্লে দেখে দেওয়া হয় আউট। ক্লোজ কলটি ইতোমধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফখর নিজেও অসন্তোষ প্রকাশ করে মাঠ ছাড়েন। সেই বিতর্ক অবশ্য ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের মনোযোগ নষ্ট করেনি। ইনিংসের অর্ধেক ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯১ রান।
সাইম আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে ৭২ রানের প্রতিরোধ গড়ে তুলেন শাহিবজাদা ফারহান। ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে এই প্রতিরোধ ভাঙেন শিভম দুবে। দলীয় ৯২ এবং ব্যক্তিগত ২১ রানে অভিষেক শর্মাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইম। এরপরই যেন ব্যাটিং ভুলে যায় পাকিস্তানিরা। তাতে শেষ ১০ ওভারে আসে ৮১ রান এবং হারায় ৪ উইকেট। এটাও সম্ভব হত না যদি শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ৮ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস না খেলতেন।
মিডল অর্ডারে টি-টোয়েন্টি আমেজে খেলতে ব্যর্থ হন হোসেন তালাত (১১ বলে ১০ রান), মোহাম্মদ নওয়াজ (১৩ বলে ১৭) এবং সালমান আলি আঘা (১৩ বলে ১৭*)। দুইবার জীবন পেয়ে ফারহান করেন ৫৮ রান। তার ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৩ ছক্কা। ম্যাচের তৃতীয় বলে শূন্য রানে জীবন পান ফারহান। ক্যাচ ছাড়েন অভিষেক শর্মা। অষ্টম ওভারে ৩২ রানে ফারহানের উড়িয়ে মারা বল ধরতে গিয়ে উল্টো ছয় বানিয়ে দেন অভিষেক। পাকিস্তান এই ওপেনার আবার হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যাট দিয়ে গুলি করার সেলিব্রেশন করে আরেকটি বিতর্কের ইস্যু তৈরি করে দেন।
অনিক/