জীবনে সফল হতে কে না চায়। কৈশোর থেকেই শুরু হয় সফল হওয়ার প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতা। পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীল কাজ এসব তো আছেই। তবে টিনএজারদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ও লেখক ক্রিস্টিন কার্টার যোগ করেছেন আরও ভিন্ন কিছু। জীবনে সফল হতে কার্টার কিশোর-কিশোরীদের জানিয়েছেন উপায়।
নিজের আগ্রহ সম্পর্কে জানা
কিশোর-কিশোরীদের ওপর বাবা-মা, শিক্ষক, চারপাশের মানুষজনের নানা প্রত্যাশা থাকে। পরিণত বয়সে কী বিষয়ে পড়বে, কী করবে এসব কিছু সাধারণত ঠিক করে দেন বড়রা। তবে সেটি কিশোর-কিশোরীদের আগ্রহের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। সফল হতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের ভালো লাগা ও আগ্রহের জায়গা খুঁজে বের করা। নিজের ভালো লাগার কাজে যুক্ত হলে কাজে অনুপ্রেরণা ও শক্তি খুঁজে পাওয়া যায়।
নিজের মনোযোগ ধরে রাখা
সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং জগৎ, প্রযুক্তিশিল্পের বড় অংশই গড়ে উঠেছে টিনএজারদের কেন্দ্র করে। ভার্চুয়াল বিশ্বে কিশোর-কিশোরীদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ এসব কিছুর বাইরে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা। লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নিজের কাজের প্রতি করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি মনোনিবেশ।
দূরদর্শী চিন্তা করা
সফল হতে গেলে কখনো কখনো এড়িয়ে চলতে হবে সাময়িক আনন্দ বা লাভজনক কাজগুলোকে। বরং ভবিষ্যতের জন্য করতে হবে দূরদর্শী পরিকল্পনা। কিশোর বয়সে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।
সৃজনশীল কাজে গুরুত্ব দেওয়া
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ভালো ফলাফলই সফল হতে যথেষ্ট নয়। কিশোর ও তরুণ বয়সে বেশির ভাগ সফল হয়েছেন সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে। তাই নিজেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, ছবি আঁকা, উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গেও যুক্ত রাখা প্রয়োজন। এতে করে কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীল ভাবনার বিকাশ ঘটানো যাবে।
ইতিবাচক থাকা
কৈশোরে কারও থেকে আঘাত পেলে, কাজে নিরুৎসাহিত হলে কিংবা সমালোচনার শিকার হলে সেগুলো সহজেই মনে গেঁথে যায়। এতে করে কিশোর-কিশোরীদের মনোবল, আত্মবিশ্বাসও কমে আসে। সফল হতে গেলে নেতিবাচক অনুভূতি এড়িয়ে চলতে হবে। এর পরিবর্তে ইতিবাচক অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, ইতিবাচক কিশোর-কিশোরীরা বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পথে বেশি এগিয়ে থাকে।
প্রিয়জনের সংস্পর্শে থাকা
কৈশোরে পরিবার, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মানসিকভাবে যুক্ত থাকাও পরিণত বয়সে সফল হতে এগিয়ে নেয়। প্রিয়জনদের সঙ্গে দূরত্ব কৈশোরে একাকিত্ব, হতাশা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণ। অন্যদিকে কাছের মানুষের সংস্পর্শে থাকলে দুঃসময়ে আশ্রয় ও চলার পথে ইতিবাচক পরামর্শ পাওয়া যায়। সামাজিক, আনন্দময় জীবন কিশোর-কিশোরীদের কর্মক্ষেত্রে সফল করে তুলতে পারে।