সারা দিন রোজা রেখে ইফতারির পর পড়তে বসলে স্বভাবত অনেকেরই ক্লান্তি আসে। আবার সাহরিতে ঘুমের ঘাটতি হওয়ায় ক্লাস ও পড়াশোনা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরও। তাই বলে অলসতা কিংবা পড়াশোনায় অবহেলা করার কিন্তু মোটেই সুযোগ নেই। সারা দিন আহার থেকে বিরত থেকে ধৈর্যের সঙ্গে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের কাজ সম্পাদন করাই রমজানের উদ্দেশ্য। রমজানে পড়াশোনা ঠিক রাখতে অনুসরণ করতে পারেন এই উপায়গুলো।
নতুন রুটিন তৈরি করুন
বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজানের ৩০ দিন অনেকটাই আলাদা। এ সময় খাবার গ্রহণ ও ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন তো আসেই। পাশাপাশি নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করে নিতে পারেন পড়াশোনার রুটিন। শিক্ষার্থীরা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই পড়তে বসেন। তবে সারা দিন অভুক্ত থেকে সন্ধ্যায় পড়ায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন। আবার দুপুরের পর থেকেই শরীর ক্লান্ত হতে শুরু করে। তাই রমজানে পড়াশোনার জন্য গুরুত্ব দিতে পারেন সকালের সময়টাকে।
বিরতি নিয়ে পড়ুন
আমাদের মস্তিষ্ক সাধারণত ৩০ মিনিট পর্যন্ত কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। রমজানে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকায় মস্তিষ্কের মনোযোগ ধারণ ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই রোজা রাখা অবস্থায় কিছুক্ষণ পরপর বিরতি নিয়ে পড়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীর ও মস্তিষ্ক সহজে ক্লান্ত হবে না।
গ্রুপ স্টাডি করুন
আমাদের দেশে সাধারণত রমজানের পুরো মাস জুড়েই স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। এতে করে সহপাঠী, বন্ধুদের সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়না। আবার বাসায় থেকে ক্লাস চলাকালীন সময়ের মতো নিয়মিত পড়াশোনা করা হয়ে উঠে না। এই সময়ে বন্ধুদের বাড়িতে কিংবা অনলাইনে শুরু করতে পারেন গ্রুপ স্টাডি। এতে করে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ যেমন ঠিক থাকবে তেমনি নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করা যাবে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান
সেহেরি খাবার পর অনেকেই আবার পুনরায় ঘুমাতে পারেন না। তাছাড়া ঘুমের সময় জেগে সেহেরি করার কারণে রাতে টানা ঘুমানোও সম্ভব হয় না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা অনেকে ঘুম ঘুম চোখেই উপস্থিত হন ক্লাস করতে। এভাবে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা যেমন সম্ভব হয় না তেমনি স্বাস্থ্যেরও অবনতি হয়। তাই অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে রাতের ঘুমের সময় এগিয়ে নিন। চেষ্টা করবেন সেহেরিতে উঠার আগেই অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুম যেন পূর্ণ হয়। তাছাড়া এসময় সারাদিন পানি পান না করার কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। পানিশূন্য অবস্থায় মস্তিষ্ক কোনোকিছু সহজে মনে রাখতে পারে না। তাই ইফতারির পর থেকে সেহেরি পর্যন্ত বেশি বেশি পানি পান করে পরের দিনের পড়ার প্রস্তুতি নিন।